Home » IPL 2024: নায়ক দ্রা রাস, ইডেনে কোহলির বেঙ্গালুরুকে ১ রানে হারিয়ে জয়ে ফিরল কলকাতা নাইট রাইডার্স

IPL 2024: নায়ক দ্রা রাস, ইডেনে কোহলির বেঙ্গালুরুকে ১ রানে হারিয়ে জয়ে ফিরল কলকাতা নাইট রাইডার্স

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২২ এপ্রিল: মাত্র পাঁচদিনের ব্যবধান। ঘরের মাঠে ২০০-র বেশি রান করেও রাজস্থানের বিরুদ্ধে শেষ বলে হারতে হয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। রবিবার প্রায় সেই ম্যাচের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছিল। কোহলির বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২২ রান তুলেছিল নাইটরা। সৌজন্যে শ্রেয়স আয়ার ও ফিল সল্টের অনবদ্য ইনিংস। যদিও তারপরেও হারের উপক্রম হয়েছিল তাদের। রজত পতিদার ও জ্যাক উইলস নাইটদের হাত থেকে ম্যাচ প্রায় বার করে নিয়েছিলেন। কিন্তু বেঙ্গালুরুর দলে তো আর একটা জস বাটলার নেই। ফলে নাইটদের দেওয়া লক্ষ্য থেকে ১ রান আগে থামতে হল আরসিবিকে।বল হাতে দলের জয় নিশ্চিত করেন আন্দ্রে রাসেল।

ইডেনে টসে জিতে নাইটদের প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান বেঙ্গালুরু অধিনায়ক ফাফ ডুপ্লেসি। নাইট শিবিরের হয়ে শুরুটা খারাপ করেননি ফিল সল্ট। প্রথম থেকেই আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে থাকেন ইংরেজ ব্যাটার। মহম্মদ সিরাজ ও যশ দয়ালের প্রথম দুটি ওভারেই অনেকগুলি বাউন্ডারি মারেন। কিন্তু উল্টোদিকে সেভাবে রান করতে পারছিলেন না সুনীল নারিন। অনেক বল নষ্ট করছিলেন ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার। লাকি ফার্গুসনের চতুর্থ ওভারে ২৮ রান করেন সল্ট। চারটি চার ও দুটি ছয় মারেন। তবে অতিরিক্ত আগ্রাসী ব্যাটিং করতে গিয়ে সিরাজের পরের ওভারেই উইকেট দিয়ে আসেন। ১৪ বলে ৪৮ রান করে আউট হন সল্ট। পরের ওভারেই যশ দয়ালের বলে আউট হন সুনীল নারিন। ১০ রান করতে ১৫ টি বল খরচ করেন তিনি। একই ওভারের শেষ বলে আউট হন তরুণ ব্যাটার অঙ্গকৃশ রঘুবংশী। মাত্র দুটি ওভারের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় নাইটরা। এই পরিস্থিতিতে দলকে টানেন বেঙ্কটেশ ও শ্রেয়স আয়ার। এই মরশুমে নিজের চেনা ছন্দে দেখা যায়নি বেঙ্কটেশকে। এই ম্যাচে বড় রানের সুযোগ থাকলেও হাতছাড়া করেন তিনি। ৮ বল খেলে ১৬ রান করে ফেরেন তিনি। রিঙ্কু শুরুটা ভাল করলেও বড় রান করতে পারেননি। লাকি ফার্গুসনের স্লোয়ারের শিকার হন তিনি। ১৬ বলে ২৪ রানে ফেরেন রিঙ্কু। দলের রানকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন  শ্রেয়স। রাসেলের সঙ্গে ৪২ রানের জুটি গড়েন নাইট অধিনায়ক। তিনি ফিরলেন ৩৬ বলে ৫০ রান করে। সেখান থেকে দলকে দুশো রানের গণ্ডি পেরোতে বড় ভূমিকা নিলেন রমনদীপ সিং। ৯ বলে ২৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকলেন তিনি। রাসেল অপরাজিত থাকেন ২০ বলে ২৭ রানে।

আরও পড়ুন: রাহুল নাম তো শুনা হি হোগা! গুজরাটকে জেতালেন তেওটিয়া

রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা খারাপ করেনি আরসিবি। হর্ষিত রানাকে চার মেরে ইনিংস শুরু করেন কোহলি। প্রথম ওভারে ১২ রান আসে। স্টার্কের দ্বিতীয় ওভারে ওঠে ১৫ রান। প্রতিযোগিতা যত এগোচ্ছে তত দলের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠছেন আইপিলের সব থেকে মূল্যবাণ ক্রিকেটার। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই ধাক্কা আরসিবি শিবিরে। হর্ষিতের ফুলটস বলে মারতে গিয়ে তার হাতেই ক্যাচ দিয়ে আউট হন বিরাট। যদিও কোমরের উপর বল ভেবে নো বলের আবেদন করেন তিনি। কিন্তু রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত কোহলির বিপক্ষে যায়। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অধিনায়ক ডুপ্লেসিও। দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া আরসিবি শিবিরকে খেলায় ফেরান রজত পতিদার ও উইল জ্যাকস। দ্রুত দলের রান এগিয়ে নিয়ে যান দুজনে। ১০২ রানের জুটি গড়েন। একটা সময় মনে হচ্ছিল দুজনেই দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়বে। এই অবস্থায় স্বাগতিকতের ম্যাচে ফেরান আন্দ্রে রাসেল। দ্বাদশ ওভারে দুই ব্যাটারকে প্যাভিলিয়নে পাঠান তিনি। জ্যাকস ফেরেন ৫৫ রানে। পতিদারের অবদান ৫২।  ম্যাচের ভাগ্যও ওই ওভারে স্থির হয়ে যায়। পরের ওভারে আরসিবি শিবিরকে জোড়া ধাক্কা দেন নারাইন। একই ওভারে ক্যামেরন গ্রিন ও মহীপাল লোমরকে আউট করেন। কার্তিক লড়াই করছিলেন। কিন্তু রাসেলের বলে তিনি ফিরতে কেকেআরের ম্যাচ জেতা নেহাত হয়ে দাঁড়ায় সময়ের অপেক্ষা। শেষ ওভারে জয়ের জন্য আরসিবির দরকার ছিল ২১ রান। শেষ ওভারে স্টার্কের প্রথম চার বলে তিনটি ছয় হাঁকান করণ শর্মা।  ২ বলে ৩ রান দরকার ছিল জয়ের জন্য। তবে মাত্র ১ রান তুলতে সক্ষম হয় বেঙ্গালুরু। ১ রানে ম্যাচ জিতে নেয় নাইটরা।

About Post Author