সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৪ এপ্রিলঃ পতঞ্জলির ‘বিভ্রান্তিকর’ বিজ্ঞাপন মামলায় মঙ্গলবারের পর ফের বুধবার সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইলেন যোগগুরু রামদেব। বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের মামলায় একাধিকবার সুপ্রিম কোর্ট ভর্ৎসনা করেছে তাঁদের। তাই এবার ফের নতুন করে তাঁদের সংস্থা পতঞ্জলির তরফে ক্ষমা চাইল রামদেব ও তাঁর আচার্য বালকৃষ্ণকে। মঙ্গলবারই সংবাদপত্রে ক্ষমা চায় পতঞ্জলি। কিন্তু শীর্ষ আদালতের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, রামদেবের ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিমা মোটেও ভালো ছিল না।
আরও পড়ুন সন্দেশখালিতে ইডির উপর হামলার ঘটনায় আরও ১৬ জনকে তলব সিবিআইয়ের
কিছুদিন আগেও পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ এবং তার ম্যানেজিং ডিরেক্টর আচার্য বালকৃষ্ণণকে চরম ভর্ৎসনা করে আদালত। কারণ এর আগে সর্বোচ্চ আদালত এই সংস্থাকে আদালত অবমাননার অভিযোগে জবাব দিতে বলেছিল। কিন্তু, পতঞ্জলির তরফে কেন সাড়া দেওয়া হয়নি, এই প্রশ্ন তুলে আদালত বলেছিল, যত শীঘ্র সম্ভব রামদেবকে হাজিরার নির্দেশ দিতে হবে। বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন নিয়ে এর আগেও একাধিকবার সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে পড়েছিল পতঞ্জলি। গত নভেম্বর মাসে শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, ভুয়ো তথ্য দেওয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করলে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা ভুগতে হবে। এরপরই শুনানির সময়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, আগের বার আদালতের রায়ের পরে সাংবাদিক সম্মেলন করার সময় পেয়েছিল পতঞ্জলি। কিন্তু আদালতের নোটিসের জবাব দেয়নি।
প্রসঙ্গত, পতঞ্জলির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, অ্যালোপ্যাথি সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে রামদেব ও বালাকৃষ্ণনের সংস্থা পতঞ্জলি। সেই মামলার শুনানিতে গত মাসেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিমা কোহলি এবং বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানুল্লা নিজেদের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন। সেখানে বালাকৃষ্ণনের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, “আপনি তো দেখছি সব রোগ সারিয়ে দিতে পারেন। আপনার সংস্থার বিজ্ঞাপন দেখে সেটাই মনে হচ্ছে। বিষয়টা এই যে আপনি স্থায়ীভাবে মুক্তি পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে আপনার দ্রব্যগুলি বিক্রি করছেন। এটা পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর এবং আইনের বিরোধী।” এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে পতঞ্জলিকে সতর্ক করেছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিভিন্ন রোগের প্রতিকারক হিসেবে নিজেদের ওষুধ ‘বিভ্রান্তিকর এবং মিথ্যা’ বলে বাজারে চালানোর অভিযোগ উঠেছিল তাদের বিরুদ্ধে। তখনও সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছিল সংস্থাকে। অবিলম্বে বিভ্রান্তিকর প্রচার থেকে বিরত না হলে জরিমানা করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল। সেই মামলাতে ইতিমধ্যেই সংস্থার নিন্দা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারেরও নিন্দা করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। আদালতের মন্তব্য ‘‘এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। সব জানার পরও সরকার চোখ বন্ধ করে আছে। সরকারের উচিৎ অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’’
#Ramdev
#misleading’advertisementcase


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর