শঙ্কু কর্মকার, চুমকী সূত্রধর ও পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা,২৩ এপ্রিল :ইতিহাস আশ্রিত স্থান দিনাজপুর। স্বাধীনতা ও দেশভাগের পরে দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গের দিনাজপুরের পশ্চিম দিনাজপুর হিসেবেই ভৌগোলিক মানচিত্রে পরিচিতি ছিল। পশ্চিম দিনাজপুর ভেঙে দক্ষিণ দিনাজপুর ও উত্তর দিনাজপুর নামে দুটি স্বতন্ত্র জেলার সৃষ্টি হয়। দক্ষিণ দিনাজপুরের সদর বালুরঘাট। বালুরঘাট বিধানসভা কেন্দ্র এবং আরও ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে গড়ে উঠেছে বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্র। বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে ভোট ২৬ এপ্রিল। একটু চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক বালুরঘাটের জনসংখ্যা ও জনজাতিভিত্তিক সমীকরণে।
২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রের ভোটার ছিলেন ১৪ লক্ষ ২৯ হাজার। বর্তমানে অসংরক্ষিত কেন্দ্র হলেও এখানে তফশিলি জাতি-উপজাতির প্রচুর মানুষ বাস করেন। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের ২৮.৬ শতাংশ মানুষ তফসিলি জাতিভুক্ত, তফসিলি উপজাতি ভুক্ত মানুষ ১৫.৩ শতাংশ। অর্থাৎ সংরক্ষিত কেন্দ্র হলেও এখানে তফসিলি জাতি-উপজাতি মিলিয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ বসবাস করেন।
অন্যদিকে, এই লোকসভা কেন্দ্রে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ২৯.৫ শতাংশ। ৭০ শতাংশের বেশি তফসিলি জাত -উপজাতি-মুসলিম মানুষের বাস বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে। এই লোকসভা কেন্দ্রে জনজাতিভিত্তিক সমীকরণের বাইরেও মানুষের এমন কিছু চাওয়া-পাওয়া রয়েছে, যা সর্বজনগ্রাহ্য হয়ে উঠেছে। এই চাওয়া-পাওয়া এবারের লোকসভা ভোটে ইস্যু বা ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে চলেছে। এগুলির দিকে চোখ রাখার আগে এবারের লোকসভা ভোটে এই কেন্দ্রের প্রার্থী এবং বিগত ভোটগুলির ফলাফল ঝালিয়ে নেওয়া যাক। এবারের ভোটে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চারটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে, যারা জয়-পরাজয় এবং জয়-পরাজয়ের মাঝখানের বিভেদ রেখা তৈরি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কুর্সি বা দিল্লির সংসদে পৌঁছনোর লক্ষ্যে যে প্রার্থীরা লড়ছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম সুকান্ত মজুমদার। গতবারের লোকসভা নির্বাচনে জয়ী এবং বঙ্গের বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের মূল প্রতিপক্ষ তৃণমূলের বিপ্লব মিত্র, যিনি বিধায়ক – মন্ত্রীও বটে। একদা আরএসপির খাসতালুক হিসেবে পরিচিত ছিল বালুরঘাট। সেই প্রতিপত্তি খর্ব হয়েছে। এইরকম প্রেক্ষাপটে তাদের প্রার্থী জয়দেব সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে, এবারের ভোটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন যিনি, তিনি আইএসএফের প্রার্থী মোজাম্মেল হক। অর্থাৎ লড়াই চতুর্মুখী।
২০১৯ লোকসভার ফলের দিকে চোখ রাখলে দেখা যাবে প্রথমবার বিজেপি জয়ী হয়। সুকান্ত মজুমদার এই কেন্দ্রের সাংসদ হন ৩৩ হাজার ভোটে জিতে। সুকান্ত মজুমদার ৫ লক্ষ ৩৯ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। ২০১৪ সালের এই কেন্দ্রের বিজয়ী প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ পান ৫ লক্ষ ৬ হাজার ভোট। বিজেপির ভোট বাড়ে ২৫ শতাংশের বেশি। অর্পিতা ঘোষও ৩ শতাংশ ভোট বাড়ান। এখানে ২০১৯ সালে বাম শক্তি একেবারে ক্ষয় হয়ে যায়। আরএসপির পলাশ বর্মণ ও রণেন বর্মণ একদা আরএসপির গড় তৈরি করেছিলেন বালুরঘাট সংসদীয় ক্ষেত্রটিকে। ২০০৯ সালে এই কেন্দ্রে রনেন বর্মণের উত্তরসূরি প্রশান্ত কুমার মজুমদার বর্তমান রাজ্যের মন্ত্রী ও এবারের প্রার্থী বিপ্লব মিত্রকে পাঁচ হাজার ভোটে হারিয়ে দেন। তবে ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে এনেছিলেন বিপ্লব মিত্র। অর্পিতা ঘোষ ২০১৪ সালে প্রথমবারের মত বামগড় হিসাবে পরিচিত বালুরঘাটে বিরোধী শক্তির নিশান ওড়ান, তৃণমূল জয়ী হয়। ১৯৭৭ সাল থেকে আধিপত্য রাখার ৩৭ বছর পরে বাম শক্তি প্রথমবার পরাস্ত হয় বালুরঘাটে। তারপরে বামশক্তি ক্রমশ কমেছে। আরএসপির রমেন হাঁসদা ২০১৯ সালে ৬ শতাংশ ভোট পান, তাঁর ভোট ২২ শতাংশ কমে যায়। এই ভোটের প্রায় পুরোটাই চলে যায় বিজেপিতে, কারণ তৃণমূলেরও ভোট বেড়েছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামেরা এই লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিভিন্ন বিধানসভা ক্ষেত্রে দাগ কাটতে পারেনি। ২০২৪ সালেও আরএসপির জয়দেব সিদ্ধান্ত কতটা কি করতে পারবেন, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। কারণ ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটেও বাম শক্তির বৃদ্ধির ইঙ্গিত মেলেনি বালুরঘাট লোকসভার অন্তর্গত কোনও বিধানসভা কেন্দ্রে। স্বাভাবিকভাবেই মনে হচ্ছে লড়াই প্রধানত হবে সুকান্ত মজুমদার এবং বিপ্লব মিত্রর মধ্যে। কিন্তু এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে আইএসএফের ভূমিকা। মনে রাখা প্রয়োজন ২০০৯ সালে বিপ্লব মিত্র খুব সামান্য মার্জিনে হার মানলেও পরবর্তীতে নিজের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছেন বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের একাধিক বিধানসভা এলাকাতেও। অন্তত হরিরামপুর, গঙ্গারামপুরে তৃণমূল বিজেপিকে লড়াই দেবেই। ফলে মনে করার যথেষ্ট কারণ ছিল, এবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। বাস্তবে তৃণমূলের বিপক্ষে বেশ কয়েকটি বিষয় যাচ্ছে, ফলে সুকান্ত মজুমদারের পালে ক্রমেই হাওয়া ভারী হচ্ছে। ইস্যুগুলি নিয়ে আলোচনায় আসার আগে বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের অধীনস্থ বিধানসভা ক্ষেত্র অর্থাৎ ইটাহার, কুশমুন্ডি, কুমারগঞ্জ, বালুরঘাট, তপন, গঙ্গারামপুর, হরিরামপুরর দিকে চোখ রাখলে দেখা যাবে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ইটাহারে তৃণমূলের মোশারফ হোসেন ৫৯% ভোট পান, নিকটতম বিজেপি প্রতিপক্ষের চেয়ে ৪৪ হাজার ভোটে জেতেন। বামেদের ভোট ছিল আড়াই শতাংশ। কুশমন্ডিতে ৪৮ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃণমূলের রেখা রায় বিজেপি প্রার্থীকে হারিয়ে বিধায়ক হন। এখানেও বাম শক্তি তলানিতে ঠেকে। কুমারগঞ্জ বিধানসভায় ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃণমূল জয়ী হয়। এখানেও বিজেপি দ্বিতীয় হয়। জয়ী হন তৃণমূলের তোরাফ হোসেন মণ্ডল। তবে বালুরঘাটে বিজেপি জয়ী হয়। তৃণমূলের প্রার্থীকে ১৪ হাজার ভোটে হারিয়ে জয়ী হন বিজেপির আশীষ কুমার লাহিড়ি। তপনেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় দুই দলের মধ্যে। বিজেপির বুধরাই টুডু টেক্কা দেন তৃণমূল প্রার্থীকে ও মাত্র দেড় হাজার ভোটের সামান্য বেশি ব্যবধানে বাজিমাত করেন। গঙ্গারামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির সত্যেন্দ্র নাথ রায় তৃণমূল প্রার্থীকে হারান সাড়ে চার হাজারেরও বেশি ভোটে। হরিরামপুর থেকে জয়ী হয়ে বিপ্লব মিত্র বিধায়ক ও মন্ত্রী হন। ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি বিজেপি প্রার্থীকে হারিয়ে দেন ১৭ হাজার ভোটে। এই কেন্দ্রে ২০২১ সালে এসে ২০১৬-এর বাম বিধায়করা শোচনীয়ভাবে হারেন এবং বামেদের ভোট কমে প্রায় ৩৬ শতাংশ। ২০১১ সালে ওই কেন্দ্রে জিতেছিলেন বিপ্লব মিত্র। অর্থাৎ ২০২১ সালের বিধানসভার কথা ধরলে প্রাপ্ত ভোটের শতাংশগত হিসাবেও তৃণমূল বেশ কিছুটা এগিয়ে যায়। ৪৫.৫ শতাংশ ভোট পায় তারা। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে প্রায় তিন শতাংশ ভোট বাড়িয়ে নেয় তৃণমূল। গতবারের লোকসভা নির্বাচন থেকে বিজেপির ভোট বিধানসভা নির্বাচনে কমে যায় ৭ শতাংশ। একইভাবে বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের চারটি তৃণমূলের দখলে। তবে লোকসভা ভোটের চিত্র অনন্য এবং বিধানসভা ভোটের চেয়ে স্বতন্ত্র। বিগত লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের পরিসংখ্যানগত হিসাবে মনে হতেই পারে লড়াই খুব সহজ নয় সুকান্ত মজুমদারের। মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র ধারে ভারে পিছিয়ে নেই। তবুও বিজেপির অনুকূলে বেশ কিছু তত্ত্ব কাজ করছে, অন্যদিকে তৃণমূলের হাতের তাস মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য সরকারের জনদরদী প্রকল্পগুলি। তবুও এখানে এমন কিছু ইস্যু ও ফ্যাক্টর কাজ করছে, যা তৃণমূলকে বেগ দিতে পারে। সুকান্ত মজুমদারকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে স্থানীয় কিছু ইস্যু।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মতই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলাদাভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রকে। মুখ্যমন্ত্রী দফায় দফায় বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে যাচ্ছেন। তিনি বিপ্লব মিত্রের সমর্থনে প্রচারের পাশাপাশি সরাসরি বিজেপিকে বিঁধছেন। কারণ, বালুরঘাট কেন্দ্রের ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে বিভিন্ন জনমুখী পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের হতাশা এবং বিজেপির হিন্দুত্বের তাস। কর্মসংস্থান ও রুজি-রুটির বিষয়ও ভোটের নিশ্চিত একটি ফ্যাক্টর। তাই কেন্দ্রকে আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর তৃণমূলের হয়ে ভোটযুদ্ধে হাতিয়ার।
বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে ইস্যু কী কী ? বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে প্রধান ইস্যু অবশ্যই শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য। বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজ প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, “এই দুটি ইস্যুতে তৃণমূল দশ গোল খাবে। ” অন্যদিকে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বালুরঘাট কে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার সুকান্ত মজুমদারের প্রতিশ্রুতিকে অবাস্তব বলে খন্ডন করছেন বিপ্লব মিত্র।
বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ বা এইমস নিয়ে বিজেপি তৃণমূল চাপানউতোর বালুরঘাটের প্রধান ইস্যু হলেও বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে ইস্যু হয়ে উঠতে পারে যাতায়াত পরিষেবা, প্রচুর সংখ্যায় আদিবাসী জনজাতির সেন্টিমেন্ট, কৃষকদের দাবি, সংখ্যালঘু উন্নয়ন, পানীয় জলের সমস্যা ও বন্যা। এর বাইরেও কাজ করবে তৃণমূলের দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির বিষয়ে কৃষকদের পাশে পাওয়ার কথা বললেও আরএসপি প্রচারে দাগ কাটতে পারেনি। বরং প্রচারে দাগ কেটেছেন আইএসএফ প্রার্থী মোজাম্মেল হক। নওশাদ সিদ্দিকী তাঁর হয়ে প্রচারে গিয়ে কৃষকদের পাশে যেমন দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তেমনই বিজেপির পাশাপাশি তৃণমূলকেও আক্রমণ করেছেন। মোজাম্মেল হক বা নওশাদ সিদ্দিকী তৃণমূল প্রার্থী বিপ্লব মিত্রকে বিজেপির দোসর মনে করছেন। বিপ্লব মিত্রর দলবদল করার প্রবণতার উল্লেখও তারা করেন, বিশ্বাসভঙ্গের আশঙ্কা ও ইঙ্গিত তৃণমূল প্রার্থীকে আইএসএফের আক্রমণে।
অর্থাৎ তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটে তারা থাবা বসাতে চলেছেন, এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। মনে রাখা দরকার সুকান্ত মজুমদারের তালুকে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের। আইএসএফের ভোটের ময়দানে থাকা তৃণমূলের কাজকে যে কঠিন করে দেবে, সে নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। পাশাপাশি, তৃণমূলকে বিজেপির মূল প্রতিপক্ষ হিসেবে যদি ধরা হয় তাহলে দেখা যাবে বালুরঘাটের দীর্ঘদিনের চাহিদা ছিল যোগাযোগ পরিষেবা উন্নত থেকে উন্নততর করা। দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা ছিল একমাত্র বাস। সামসী হয়ে ঘুরে কলকাতা যাওয়া বা মালদার সঙ্গে গৌড় এক্সপ্রেসের কানেক্টিং ট্রেন থাকা দিনাজপুর ও বালুরঘাটের মানুষকে খুশি করতে পারেনি। করার কথাও ছিল না। বিগত কয়েক বছরে হাওড়া, শিয়ালদহ কলকাতা স্টেশনের সঙ্গে সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। এই ডিভিডেন্ট লোকসভা ভোটে সুকান্ত মজুমদারের ঝুলিতে বাড়তি অ্যাডভান্টেজ হয়ে দেখা দেবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য ট্রেন গুলির মধ্যে রয়েছে বালুরঘাট -মালদা প্যাসেঞ্জার, বালুরঘাট -কলকাতা তেভাগা এক্সপ্রেস, বালুরঘাট-হাওড়া এক্সপ্রেস, বালুরঘাট-শিয়ালদা এক্সপ্রেস, বালুরঘাট-শিলিগুড়ি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, বালুরঘাট-বাথিন্দা ফারাক্কা এক্সপ্রেস। বালুরঘাট থেকে গাজোল পর্যন্ত বেশ কিছু জায়গায় ট্রেনের ডবল লাইন করা হয়েছে এবং উন্নতমানের সিগন্যালিং ও ট্রেনের ইলেকট্রিফিকেশনের কাজ করা হয়েছে। সুকান্ত মজুমদার সাংসদ থাকার সময় বেশিরভাগ ট্রেন চালু হওয়ায় বিজেপি বালুরঘাট তথা দিনাজপুরের মানুষের আশীর্বাদ পেতেই পারে।
যোগাযোগ পরিষেবা ছাড়াও বেশকিছু ফ্যাক্টর সংখ্যালঘু সমর্থনের তত্ত্বে তৃণমূলের যেরকম অস্বস্তির কাঁটা রয়েছে, তেমনই তফসিলি জাতি উপজাতি ও আদিবাসী ভোটের ক্ষেত্রেও খুব সুবিধাজনক জায়গায় নেই তৃণমূল। তাদের বিরুদ্ধে অনুন্নয়ন এবং শোষণ-বঞ্চনার অভিযোগকে হাতিয়ার করেছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বালুরঘাটে প্রচার করে গিয়েছেন। সেখানেও আদিবাসীদের সেন্টিমেন্ট নিয়ে ছেলেখেলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, এক বছর আগে এপ্রিল মাসে দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনে দন্ডি কেটে জনা তিনেক আদিবাসী মহিলাকে তৃণমূলে ফেরানো হয়। বিজেপিতে যাওয়ার শাস্তি বিধান হিসেবে দন্ডি কাটানোর ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড় ফেলে। যা নিয়ে পরবর্তীতে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব ঢোক গিলতে বাধ্য হয় ও ভুল স্বীকার করে। আদিবাসী এবং মহিলাদের সেন্টিমেন্টকেও হাতিয়ার করেছে বিজেপি। সব মিলিয়ে খুব একটা সুখে নেই বিপ্লব মিত্র। ৭২ বছরের প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক বিপ্লব মিত্র জয়ের লক্ষে লড়ছেন, তবে তার শরীরী পরিভাষায় কোথাও কি ধরা পড়ছে ভোটের ঠিক প্রাক মুহূর্তে পরাজয়ের আশঙ্কা ?
বিজেপি ও তৃণমূলের দুই শীর্ষ নেতা-নেত্রীর উপস্থিতি যতই কাজ করুক, বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা লোকসভা কেন্দ্র বালুরঘাটে সুকান্ত-বিপ্লবের ভোটযুদ্ধে সাফল্যের কিউ লাইন যেন ধরা পড়ছে দুই প্রার্থীর বক্তব্য ও শরীরী পরিভাষায়। বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে নিশ্চিতভাবেই অ্যাডভান্টেজ বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ও বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। ব্যাকফুটে রয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী বিপ্লব মিত্র। তবুও লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে। ভোটের ভাগ্যবিধাতা – ভোটাররা কোন দিকে আশীর্বাদ বর্ষণ করবেন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ৪ জুন পর্যন্ত।।


More Stories
ব্রাজিলের জনবহুল এলাকায় আচমকাই ভেঙে পড়ল যাত্রীবাহী বিমান, পাইলট-সহ বিমানের ৬২ জন যাত্রীর মৃত্যু
অধীর চৌধুরী নিজে ডুবলেন, ইন্ডিয়া জোটকে ডোবালেন, বাঁচালেন এনডিএ ও বঙ্গ বিজেপিকে
INDIA Alliance: সরকার গঠন নয়, আপাতত ঐক্যবদ্ধ বিরোধী হিসাবেই সংসদে বসতে চায় ইন্ডিয়া জোট