সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ এপ্রিলঃ লোকসভা ভোটের মাঝেই রক্তাক্ত মণিপুর। উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিজেপি শাসিত এই সীমান্তবর্তী রাজ্যে হিংসা এখনও থামেনি। লোকসভা ভোটেও হিংসাত্মক পরিবেশ ছিল মণিপুরে। এবার বড়সড় জঙ্গি হামলা। শুক্রবার গভীর রাতে মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলার নারানসেইনা গ্রামে সেনা ও দুষ্কৃতীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় রাত সাড়ে ১২টা থেকে গোলাগুলি শুরু হয়, চলে প্রায় আড়াইটে পর্যন্ত। সংঘর্ষে দুই সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। গুরুতর জখম আরও দুই জওয়ান। এটি সন্ত্রাসবাদী হামলা বলেই অনুমান করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, নারানসেইনা গ্রামে কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি চেকপোস্ট রয়েছে।
আরও পড়ুন ৪৫ দিন পর্যন্ত ইভিএম সুরক্ষিত রাখতে হবে, ১০০ শতাংশ ভিভিপ্যাট মিলিয়ে দেখার আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে
পাহাড়ি অঞ্চল থেকে সেই চেকপোস্ট লক্ষ্য করেই গুলি করে দুষ্কৃতীরা কিছুক্ষণ গুলির লড়াই চলার পর দুষ্কৃতীরা আউটপোস্ট লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে। তাতেই আহত হন চারজন সিআরপিএফ জওয়ান। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও দুই জওয়ানের মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম বাকি দুই জওয়ান। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে তাঁরা নারানসিনায় নিযুক্ত সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) ১২৮ ব্যাটালিয়নের সাব-ইন্সপেক্টর এন সরকার এবং হেড কনস্টেবল অরূপ সাইনি। ইন্সপেক্টর যাদব দাস ও কনস্টেবল আফতাব দাস গুরুতর আহত হয়েছেন। এই জঙ্গি হামলার পিছনে কে বা কারা জড়িত, তা এখনও অবধি জানা যায়নি। ইতিমধ্যেই তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মণিপুরে অশান্তির ঘটনা নতুন নয়। গত বছর মে মাস থেকে শুরু হয় জাতি সংঘর্ষ। এখনও পর্যন্ত হিংসার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৫০-এরও বেশি মানুষ। গুরুতর আহত হয়েছেন কয়েক হাজার জন। বহু মানুষ ঘরছড়া। কংগ্রেসের অভিযোগ, এ রাজ্যে জাতি সংঘর্ষে উস্কানি দিচ্ছে শাসকদল বিজেপি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। জাতি সংঘর্ষে রক্তাক্ত মণিপুরের পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে আলেচিত।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর