Home » চিতাবাঘ বন্দি হতেই জঙ্গল থেকে ভেসে এল গর্জনের শব্দ : আবার চিতাবাঘ খাঁচাবন্দি, তবুও কমছে না আতঙ্ক

চিতাবাঘ বন্দি হতেই জঙ্গল থেকে ভেসে এল গর্জনের শব্দ : আবার চিতাবাঘ খাঁচাবন্দি, তবুও কমছে না আতঙ্ক

সানী রায়, সময় কলকাতা,২৮ এপ্রিল : চিতাবাঘের আতঙ্ক এবং বিপন্ন প্রাণী হিসেবে চিতাবাতকে সংরক্ষণ  কথাটি যুগপৎ উচ্চারিত। কারণ, উত্তরবঙ্গে চিতাবাতকে  হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার। চিতাবাঘ রান্না করে খাওয়া হয়েছে এমন অভিযোগও উঠেছে। আবার চিতা বাঘের আক্রমণে মানুষের প্রাণহানির খবর যেরকম ঘটেছে তেমন চিতাবাঘের হানা রুখতে গিয়ে গুলি করে মারা হয়েছে চিতাবাঘকে এমন অভিযোগও  সাম্প্রতিক সময়ে  উঠে এসেছে। এবার আবার চিতাবাঘ খাঁচাবন্দি ।  সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিজেদের যোগাযোগ রক্ষা করে চিতাবাঘের আতঙ্ক দূর করতে  বিপন্ন আতঙ্ককে খাঁচাবন্দি করা হল উত্তরবঙ্গের ক্রান্তি ব্লকের  চা বাগান এলাকায়।

চিতা বাঘের আতঙ্ক নতুন করে ছড়ানোর পরে গত তিনদিনে এই নিয়ে  দ্বিতীয়বার চিতা বাঘকে খাঁচাবন্দি করা হল। একদিকে চিতাবাঘের আতঙ্ক কমানো, অন্যদিকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ  ওয়াইল্ডলাইফ প্রোটেকশন সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া (ডব্লিউপিএসআই)- চিতাবাঘের সংরক্ষণ ও মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের দুশ্চিন্তার কথা বলে আসছে। চিতাবাঘের সংখ্যা কমছে।ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার’-এ ভারতের চিতাবাঘকে ‘বিপন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইন করা হয়েছে চিতাবাঘকে বাঁচাতে। বনদফতরের চোখ এখন চিতাবাঘকে জনরোষের হাত থেকে বাঁচিয়ে এলাকায় মানুষের আতঙ্ক দূর করা।

বন্যপ্রাণীকে রক্ষা করার অঙ্গ হিসেবে, ক্রান্তি ব্লকে দক্ষিণ হাঁসখালি খেরবাড়ি ক্যাম্পে চা বাগান এলাকায় ফের খাঁচা বন্দি হল চিতাবাঘ। ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা প্রত্যক্ষদর্শী সোহেল রানা, আব্দুল গফুর,আফতাবুল আলম, মজিউল হক, রা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টিকারী চিতাবাঘ ছাগল গরু তাদের এলাকায় খেয়ে ফেলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে বাড়ি গোবাদী পশুদের রক্ষা করার জন্য কাঠামবাড়ী আপালচাঁদ রেঞ্জ অফিসের সাথে যোগাযোগ করেন।কাঠামবাড়ী আপালচাঁদ রেঞ্জ অফিসের উদ্যোগে খাঁচার ব্যবস্থা করা হয়। গত দুদিন আগে একটি চিতাবাঘ খাঁচাবন্দি হয়। আজকে পুনরায় সেই এলাকা থেকে ভোররাত্রে আরেকটি চিতাবাঘ খাঁচাবন্দি করা হয় ।কিন্তু আবার চিতাবাঘ খাঁচাবন্দি হলেও আতঙ্ক কমেছে কি?

বাস্তব হল, স্থানীয় মানুষের আতঙ্ক তবু কমছে না। এলাকার মানুষের আতঙ্ক বাড়ার কারণ তাঁরা জানিয়েছেন। এদিন খাঁচাবন্দি চিতাবাঘটি খাঁচাতে গর্জন করতে থাকে আর সেই গর্জনের আওয়াজ শুনে চা বাগানের মধ্যে লুকিয়ে থাকা আরও বাঘের গর্জন শুনতে পাওয়া যায়,  স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।পরপর দুই দিনের মধ্যে দুটি বাঘ একই এলাকা থেকে খাঁচাবন্দি হওয়ার পরেও আতঙ্ক তাই কমছে না। এলাকার মানুষ পুনরায় একই জায়গায় বাঘ পাকড়াও করার খাঁচা বসানোর দাবি জানিয়েছেন বনদফতর কর্তৃপক্ষের কাছে।

ক্ষেপে ওঠা চিতাবাঘকে গুলি করে মারার অভিযোগ বনদফতরের বিরুদ্ধে

তবে বনদফতরের উদ্যোগ সাধুবাদ পাচ্ছে। বিশিষ্ট সমাজসেবী মেহবুব আলম বনদফতরের এহেন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন । আপালচাঁদ রেঞ্জ অফিসারের বন কর্মীরা এসে চিতা বাঘটিকে উদ্ধার করেন। বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঘটিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরে সুরক্ষিত স্থানে ছেড়ে দেওয়া হবে ।।

#আবার চিতাবাঘ খাঁচাবন্দি

About Post Author