Home » বর্ষার তাণ্ডবলীলায় বিপর্যস্ত সিকিম সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গ, আটকে দুই হাজারের বেশি পর্যটক, জারি উদ্ধারকাজ

বর্ষার তাণ্ডবলীলায় বিপর্যস্ত সিকিম সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গ, আটকে দুই হাজারের বেশি পর্যটক, জারি উদ্ধারকাজ

সময় কলকাতা ডেস্ক: ১৬ জুনঃ বর্ষার তাণ্ডবলীলায় বিপর্যস্ত সিকিম সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গ। বিপর্যয় যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না উত্তরবঙ্গের। মেঘভাঙা বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত সিকিম। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির জেরে তিস্তায় তৈরি হয়েছে হরপা বান। বৃহস্পতিবার তিস্তার জলস্তর কিছুটা নেমেছিল। কিন্তু, শুক্রবার এক নাগাড়ে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ফের তিস্তা ফুলেফেঁপে উঠেছে। সিকিমের একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে। এহেন পরিস্থিতিতে সিকিমে আটকে রয়েছে হাজারেরও বেশি পর্যটক। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আটকে রয়েছেন ১০ জন বাংলাদেশি-সহ ১৫ জন বিদেশি পর্যটক। আটকে পড়া পর্যটকদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে আশ্বাস মিলেছে প্রশাসনের তরফে। মোবাইল নেটওয়ার্ক বসে গিয়েছে। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে পর্যটকদের। জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজেও খানিক বেগ পেতে হচ্ছে। ভারী বৃষ্টির জেরে সিকিমে লাল সতর্কতা জারিও করা হয়েছে।

আরও পড়ুন   ধস ও লাগাতার বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত সিকিম, আটকে থাকা পর্যটকদের জন্য রংপোতে হেল্পডেস্ক চালু নবান্নের

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে উত্তর সিকিমে। সিকিমের বৃষ্টিতে ডুবতে পারে উত্তরের সমতল। সিকিমে আরও ধস নামতে পারে, বিপাকে পড়তে পারেন কয়েক হাজার পর্যটক। তিস্তার পাশাপাশি জল বাড়ছে অন্য নদীগুলিতেও। বৃহস্পতিবার রাতেও সিকিম সহ দার্জিলিং পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে ভারী বৃষ্টি হয়। তারপরেই পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। বিপর্যস্ত ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। তিস্তা বাজারের কাছে কালিম্পং থেকে দার্জিলিং যাওয়ার রাস্তা বিপদজনক হয়ে ওঠায় রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই জলে ডুবেছে বেশ কিছু এলাকা। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার উপর তিস্তার জল চলে এসেছে। তিস্তার চরে বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে বেশ কিছু বাড়ি। বাসিন্দাদের ইতিমধ্যেই নিরাপদ জায়গায় সরানোর কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। প্রস্তুত রাখা হয়েছে সিভিল ডিফেন্স এবং এনডিআরএফ এর দলকে। জানা যাচ্ছে, ধস নেমে সেতু ভেঙে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে লাচুং, লাচেন-সহ সিকিমের বহু এলাকার সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে উদ্ধারকাজেও বেগ পেতে হচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং দুর্গতদের সবরকমের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং সহ একাধিক জেলায় বিগত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। সিকিমও প্রবল বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত। ফুঁসছে তিস্তা নদী। ধসের কারণে অবরুদ্ধ একাধিক রাস্তাঘাট। গাড়ি চলাচল বন্ধ তো হয়েছেই, আটকে পড়েছেন বহু পর্যটকও। ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে সিকিমের বাকি এলাকা থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে মঙ্গন, গেইথাং, নামপাথাং। এদিকে, মঙ্গন এলাকায় হড়পা বানে ৫ জন ভেসে যাওয়ার খবর মিলেছিল। এখনও পর্যন্ত তাঁদের কারও খোঁজ মেলেনি। একইভাবে ধসে গেইথাং, নামপাথাং এলাকাতেও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ। জানা গিয়েছে, বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৬জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় আটকে রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার পর্যটক।

#একটানাবৃষ্টিতেবিপর্যস্তসিকিম

#Latestbengalinews

#Sikkim

#হড়পাবান

About Post Author