সময় কলকাতা ডেস্ক: ১৫ জুনঃ রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে , ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রেশন দুর্নীতির তদন্তে ইতিমধ্যেই শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছে ইডি। চার্জশিটে শাহজানের জমি দখল করে প্রায় ২৬১ কোটি টাকার সম্পত্তির উল্লেখ রয়েছে। এবার শাহজাহানের বিরুদ্ধে পেশ করা চার্জশিটে চাঞ্চল্যলকর তথ্য তুলে ধরল ইডি। চার্জশিটে ইডির দাবি, জমি দখলের টাকায় ৮৭ লক্ষ টাকার সোনা এবং চারটি বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছিল শেখ শাহজাহান। একই সঙ্গে চারজনের নামে মোট ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি কেনা হয়েছিল। এছাড়াও শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ শিবু হাজরা যে ৫০ লাখ টাকা শাহজাহানকে দিয়েছে, সেই প্রমাণ পেয়েছে ইডি। তার ভিত্তিতে ইডির দাবি, শাহজাহানের সম্পত্তির মূল্য্ ২০০ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা। এ ছাড়াও শাহজাহানের ভাই শেখ আলমগিরের ২০ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশ পেয়েছেন ইডির গোয়েন্দারা।
আরও পড়ুন ধস ও লাগাতার বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত সিকিম, আটকে থাকা পর্যটকদের জন্য রংপোতে হেল্পডেস্ক চালু নবান্নের
রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই ইডি আধিকারিকরা একের পর এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন আদালতে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, চিংড়ির ব্যবসার আড়ালে ১৩৭ কোটি কালো টাকা সাদা করেছেন সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহান। জানা গিয়েছে, চিংড়ি মাছের রফতানির কাজ করা দুটি সংস্থার মাধ্যমে শাহজানের সংস্থায় ওই পরিমাণ টাকা ঢুকেছিল। ইতিমধ্যেই সেই টাকা লেনদেনের নথিও সংগ্রহ করেছে ইডি। ইডির দাবি, ভুয়ো ভেড়ির মালিকদের কাছ থেকে মাছ কেনার নামে চলত কালো টাকা সাদা করার কাজ। এসকে সাবিনা নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করত। তারা ভুয়ো ভেড়ি মালিকদের কাছ থেকে মাছ কিনত। তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীর দাবি, আদিবাসীদের জমি দখলদারি সিন্ডিকেটের মাস্টারমাইন্ডও ছিলেন সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’। শাগরেদদের সামনে রেখে চলত সেই দখলদারিও।
আর সেই কাজ করত শেখ শাহজাহান ও তাঁর অনুগামীরা। এর আগে রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইডি আধিকারিকরা শাহজাহানের দুটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছিল। জানা গিয়েছে, একটি অ্যাকাউন্টে ৩১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা লেনদেনের হদিশ মিলেছিল। ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টেও বিপুল লেনদেনের হদিশ মিলেছে। ইডির দাবি, ২০১২ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত শাহজাহানের সঙ্গে কলকাতার চিংড়ি রপ্তানিকারক সংস্থাটির দু’ দফায় ১০৪ কোটি ও ৩৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ ১৩৭ কোটি। এ ছাড়াও ২০২১ ও ২২ সালে আরও ৩১ কোটি ২০ লাখ টাকার লেনদেনের হদিশও মিলেছিল।


More Stories
আই-প্যাকের ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করল ইডি
মমতা -অভিষেককে ৩০ হাজার করে ভোটে হারাতে না পারলে নাকখত দেবেন হুমায়ুন কবীর
যুদ্ধ : মুখ্যমন্ত্রীর সবুজ ফাইলের রহস্য ও ইডি-র ‘ডেটা ট্রান্সফার’!