স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১৮ জুনঃ ইউরোর প্রথম বড় অঘটন। ফিফা রাঙ্কিংএ বিশ্বের তিন নম্বর দেশ বেলজিয়াম হেরে গেল ৪৮ নম্বর দেশ স্লোভাকিয়ার কাছে।

খেলার সাত মিনিটে বেলজিয়াম আচমকা খেলার গতির বিরুদ্ধে যখন গোল হজম করে ফেলল, তখনও পর্যন্ত ম্যাচ ম্যানচেস্টার সিটির ২২ বছরের তরুণ উইঙ্গার জেরেমি ডোকুকে কেন্দ্র করেই ওঠানামা করছিল। ডোকু ম্যাচের আড়াই মিনিট ও ৫ মিনিটে দুবার প্লেটে করে গোল করার বল সাজিয়ে দিলেন লুকাকুকে । দুবারই লুকাকু নিশ্চিত গোল মিস করলেন। সাত মিনিটে ডোকু- ই আবার ভুল করে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের গোলের সামনে স্লোভাকিয়ার পায়ে বল তুলে দিলেন। গোলমুখী শট আংশিক প্রতিহত হলেও ফিরতি বলে গোল করতে ভোলেন নি ইভান স্ক্রানজ। এই গোলের পরে ক্রমেই খেলা থেকে হারিয়ে যেতে থাকেন ডোকু। খেলার শেষ দিকে তাকে তুলেও নিতে হয়। এই একটি ভুল বেলজিয়াম স্লোভাকিয়ার খেলার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। তবে ফিফা ৱ্যাঙ্কিং-এ বিশ্বের ৩ নম্বর বেলজিয়ামের বিশ্বের ৪৮ নম্বর দেশ স্লোভাকিয়ার কাছে পরাজয়ের জন্য ডোকু নয়, নিশ্চিতভাবে দায়ী করা যেতে পারে রোমেলু লুকাকুকে। ম্যাচে ৬ টি সিটার বা নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন যা তার মাপের খেলোয়াড়ের কাছে একেবারেই প্রত্যাশিত নয়। এর মধ্যে যদিও রয়েছে ভিএআর বা ভার প্রযুক্তির আওতায় পড়ে দুটি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয় অর্ধের ১২ মিনিটে পার গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায়। খেলার শেষ লগ্নে অবশ্য চমৎকার একটি গোল করেছিলেন লুকাকু।ওপেন্ডার ক্রস থেকে টার্ন নিয়ে গোল করেন তিনি। কিন্তু ওপেন্ডা বল রিসিভ করে এগোনোর সময় লুকাকুকে ক্রস করার আগে তাঁর হাতে বল সামান্য ছুঁয়ে যায়। ওপেন্ডার হ্যান্ডবল বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতেই অনিচ্ছাকৃত ছিল যদিও তুর্কির রেফারি উমুট মেলার ভার (ভিএআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে গোল নাকচ করেন। স্নিকোমিটারের মাধ্যমে দেখা যায় বল ওপেন্ডার হাত স্পর্শ করেছে। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত বিতর্কিত মনে হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে বল হাতে লাগায় সামান্যতম হলেও সুবিধা পেয়েছিলেন ওপেন্ডা। ক্রিকেটে ভার প্রযুক্তি বেশ কিছু আগে থেকে ব্যবহৃত হলেও ফুটবলে এই প্রথম স্নিকোমিটারের সাহায্যে গোল বাতিল হয় যার ফলে কপাল পুড়ে যায় বেলজিয়ামের।যদিও ভার প্রযুক্তির অজুহাত দিয়ে গোল নষ্টের খেসারতকে অস্বীকার করতে পারে না বেলজিয়াম।
আরও পড়ুনঃ UEFA Euro 2024 : স্কোরবোর্ড সত্যিই গাধা, প্রমাণ করল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রোমানিয়ার বড় ব্যবধানে জয়
গ্রুপের অন্য ম্যাচে রোমানিয়া বড় ব্যবধানে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে জয় পাওয়ায় শেষ ষোলতে পৌঁছানোর জন্য কিছুটা হলেও চাপে পড়ল বেলজিয়াম । এই ম্যাচ কে অঘটন বলা হলেও একমাত্র কর্ণার কিক পাওয়ার দিক থেকে স্লোভাকিয়া এগিয়েছিল রোমানিয়ার চেয়ে। বল দখল, পাস এবং পাস একুরেসি সবদিক থেকেই এগিয়েছিল রোমানিয়া। তবে স্লোভাকিয়ার ডিফেন্স ছিল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তারা যেন জীবন বাজি রেখেই ম্যাচে নেমেছিল। অবিশ্বাস্য গোললাইন সেভ করতে গিয়ে আহত হত দেখা গেছে স্লোভাকিয়ার ডিফেন্ডার ডেভিড হ্যাঙ্কো-কে। পাল্টা কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে একাধিক গোলের সুযোগও তৈরি করেছিল তারা। প্রথমার্ধেই ২-০ হয়ে যেতে পারত খেলার ফলাফল। সে ক্ষেত্রে ত্রাতা হয়ে দেখা দেন কোর্তুয়ার বদলি হিসেবে বেলজিয়ামের গোল সামলাতে নামা কোয়েন ক্যাসতিলস। এরপরে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করলেও অধিনায়ক ডি ব্রুইনা-কে তাঁর সেরা ফর্মে দেখা যায় নি। সেভাবে ধারালো হয়ে উঠতে দেখা যায়নি ও তাঁকে । তবুও বেলজিয়ামের পতনের প্রধান কারণ ছিলেন বেলজিয়ামের হয়ে ১১৬ টি ম্যাচে ৮৫ গোল করা রোমেলু লুকাক। ভার প্রযুক্তির জন্য অবিশ্বাস্যভাবে একাধিক গোলের সুযোগ বড়লোকের বাউন্ডুলে ছেলের মত উড়িয়ে দিয়ে দলকে চাপে ফেলে দিলেন লুকাকু।।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার