স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১৮ জুনঃ ইউরো কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পেল রোমানিয়া । মিউনিখের অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় তারা হারিয়ে দিল ইউক্রেনকে। খেলার ফল রোমানিয়ার পক্ষে ৩-০। তাদের হয়ে গোল করেন স্টানসিউ, মারিন ও ড্রাগুস।

২০০০ সালে ইউরোতে ইংল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল রোমানিয়া। তারপর থেকে এই প্রতিযোগিতায় খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও জয়ের স্বাদ পায়নি তারা। অবশেষে ব্যর্থতার কালো মেঘ কেটে জয়ের আলো দেখল রোমানিয়া । চলতি ইউরো কাপে ই গ্রুপের ম্যাচে তারা হারিয়ে দিল ইউক্রেনকে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন এ বার অনেক প্রতিকূলতাকে জয় করে ইউরোর যোগ্যতা অর্জন করেছে। বাছাই পর্বে ঘরের ম্যাচগুলিও তাদের খেলতে হয়েছে পড়শি দেশে গিয়ে। কিন্তু তা সত্বেও তাদের দমানো যায়নি। মূল প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইউক্রেনকেই এগিয়ে রেখেছিলেন ফুটবল বিশেষজ্ঞদের বড় একটা অংশ। তার কারণও রয়েছে। ইউক্রেনের বর্তমান দলে এমন অনেক তারকা রয়েছেন যারা ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত। ফলে প্রত্যাশার চাপটাও তাদের উপর ছিল বেশি।
ম্যাচের শুরু থেকে রোমানিয়ার উপর আক্রমণের চাপ বাড়াচ্ছিল ইউক্রেন। গোলের খাতা খোলার সুযোগও তারা পেয়েছিল। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। ২৯ মিনিটের মাথায় খেলার গতির বিপরীতে গিয়ে গোল পেয়ে যায় রোমানিয়া। সতীর্থকে পাস দিতে গিয়ে বিপক্ষের পায়ে বল তুলে দিয়েছিলেন ইউক্রেনের তারকা গোলরক্ষক লুনিন। যদিও বলটি ছিল বক্সের বাইরে। সেখান থেকে দূরপাল্লার শটে বিশ্বমানের গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রোমানিয়ার অধিনায়ক নিকোলাউ স্ট্যানকাউ। শরীরকে বলের লাইনে ছুঁড়ে দিয়েও নাগাল পাননি লুনিন। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে দুটি দল। স্ট্যানকাউয়ের বাঁক খাওয়া কর্নার পোস্টে লেগে না ফিরলে বিপদ বাড়তে পারত ইউক্রেনের।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইউক্রেন। মাঝমাঠকে নিজেদের দখলে রেখে আক্রমণ গড়ে তুলছিলেন মিখাইল মুদ্রিকরা। কিন্তু আবারও তাদের গোল হজম করতে হয়। রোমানিয়ার হয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাজভান মারিন। তিনিও বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে গোল করেন। খেলার ৫৬ মিনিটে ইউক্রেনের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন ডেনিস ড্রাগুস। ম্যানের দেওয়া পাস ট্যাপ ইন করে জালে জড়িয়ে দেন তিনি। বিপক্ষ অফসাইডের দাবি জানালেও তৃতীয় গোলকে বৈধ বলে মান্যতা দেয় ভার। আর ব্যবধান কমাতে পারেনি ইউক্রেন।
আরও পড়ুনঃ UEFA Euro 2024 : ম্যাচের মধ্যে রক্তাক্ত দুই তারকা, আত্মঘাতী গোলে জিতে মুখরক্ষা ফ্রান্সের
পরিসংখ্যানের সঙ্গে এই ম্যাচের স্কোরবোর্ডকে মেলানো কঠিন। গোটা ম্যাচে ইউক্রেন একচেটিয়া দাপট দেখায়। ৭২ শতাংশ বল ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের ফুটবলারদের দখলে। সেখান রোমানিয়ার ফুটবলারদের বলের দখল ছিল ২৮ শতাংশ। মোট ১৩ টি শট নিলেও গোলের খাতা খুলতে পারেনি ইউক্রেন। ৯ টি শটের মধ্যে ৩ টি গোল করে রোমানিয়া। ইংরেজ ক্রীড়া সমালোচক নেভিল কার্ডাস এক বার স্কোরবোর্ডকে গাধার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। কারণ এই ম্যাচে যদি রোমানিয়া ৩ গোলে জয়ী হয়েছিল বলা হয়, তাহলে ইউক্রেনের লড়াইটা চাপা পড়ে যায় না কি?


More Stories
ইনিংস ও ৩০০ রানে জয় ভারতের
স্বপ্নের অভিষেক, সুতারে ধরাশায়ী আফগানিস্তান
অভিষেকে মানব যেন মহামানব, আফগানিস্তান বিপাকে