Home » ড্রাগন ফল চাষের জগতে বিপ্লব

ড্রাগন ফল চাষের জগতে বিপ্লব

সানী রায়,সময় কলকাতা, ২৯ জুন : উপকারিতার শেষ নেই ড্রাগন ফলের। হৃদযন্ত্র সবল রাখতে  রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গেলে তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে, টিউমার বা ক্যান্সারের সঙ্গে লড়তে ড্রাগন ফলের উপকারিতা রয়েছে। ড্রাগন ফলের উপকারিতার কথা মাথায় রেখেই মানুষ এই ফল খাচ্ছেন। বাজারে এই ফলের দাম যথেষ্ট বেশি হওয়ায় এই ফলের ব্যবসা যেমন লাভজনক তেমনি লাতিন আমেরিকা বা মধ্যপ্রাচ্য থেকে একদা  যে ফল ভারতে আসত তা এখন ভারতেই চাষ হচ্ছে। এই চাষ করে পয়সার মুখও দেখছেন অনেকে। এরকমই একজন মানুষ  মলয় কুমার রায়। ইচ্ছে শক্তি থাকলে অল্প পরিসরেই ড্রাগন ফল চাষ করে যে সাফল্য পাওয়া যায় তারই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। উত্তরবঙ্গে ড্রাগন ফলের চাষে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছেন তিনি।বাড়িতে চাষ করছেন ড্রাগনের। মেঠো জমিতে নয়, তাঁর ড্রাগন চাষ বেশ কিছুটা অভিনব। কার্যত ড্রাগন চাষে বিপ্লব এনেছেন মলয় বাবু।

কী করেছেন মলয় বাবু যা সাড়া ফেলেছে? জলপাইগুড়ি পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের টুপামারি এলাকায় নিজের বাড়ির ছাদেই ড্রাগন চাষ করছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই অর্থনৈক দিক থেকেও আলাদা মাত্রা যোগ করেছে এই ড্রাগন ফ্রুট চাষে। অন্যান্য চিরাচরিত ফসলের চাষের চেয়ে ড্রাগন ফল চাষ অনেকটাই অর্থকরী বলে দাবি মলয় বাবুর। এক বিঘা জমিতে এর চাষ করে প্রায় ৩-৪ লাখ টাকাও আয় করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান। ছাদের এগারশো স্কয়ার ফিট জুড়ে মোট ২৫০ টি এই গাছ রয়েছে তার। শুধু শহরেই নয়, রাজার হাটের তার গ্রামের বাড়িতেও এই ফলের চাষ করে সাফল্য এসেছে। আজ সকালে টুপামারীতে গিয়ে দেখা গেল মলয় বাবু নিজের ছাদ বাগানে পেঁকে যাওয়া সুদৃশ্য ড্রাগন ফল তুলছেন। পেশাদার না হয়েও শুধু শখের বশেই ইউটিউব ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে কিছুটা ধারণা নিয়েই এই যাত্রা তিনি শুরু করেছিলেন। এখনও ভিন্ন একটি পেশায় যুক্ত থাকলেও তার পাশে সমানভাবে চলছে এই ড্রাগন চাষ।

তবে তাঁর মত ফাঁদেই যে ড্রাগন ফলের চাষ করতে হবে তেমন দাওয়াই তাঁর নয়। মলয় বাবু বলছিলেন, “অন্যান্য কৃষি কাজের পাশাপাশি একটু জায়গা থাকলে যে কেউ এর চাষ করতে পারেন। কেন না সাধারণ বা চিরাচরিত চাষবাসের চেয়ে ড্রাগন চাষ অনেকটাই লাভজনক। প্রথম দিকে একটু পরিশ্রম করতে হলেও পরে আর তেমন খাটুনির প্রয়োজন হয় না। আমি অর্গানিক পদ্ধতিতেই চাষ করছি। বিদেশি এই ফল যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিগুণে ভরপুর। এখন আমাদের জেলায় কিছু জায়গায় এর চাষ হচ্ছে। বিভিন্ন রোগীদেরও ড্রাগন ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা ফলে এই গাছের চাষ লাভ জনক।”

একটু চেষ্টা করলে যে কেউ এর চাষ করে সাফল্য পেতে পারেন বলে তিনি জানান। তবে একথা বলাই বাহুল্য, মলয় বাবুর এমন প্রচেষ্টা ড্রাগন ফল চাষে ইচ্ছুক অন্যান্যদেরও অনুপ্রেরণা যোগাবে।  ড্রাগন চাষে বিপ্লব আনা মলয় বাবু নিজেও চান, ড্রাগন চাষে জোয়ার আসুক। স্বাস্থ্যকর এই  ফল হয়ে উঠুক মানুষের সমৃদ্ধির কারণ।।

 

About Post Author