স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৬ জুলাই: “স্পেন হল ছোট ও অনভিজ্ঞ দল। আদতে ওরা স্কুল দল।” ইউরো কাপের কোয়ার্টারে স্পেনের বিরুদ্ধে নামার আগে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন জার্মানির প্রাক্তন গোলরক্ষক জেন্স লেম্যান। তাঁর এই দাম্ভিক মন্তব্য যে কয়েক ঘণ্টা পর বুমেরাং হয়ে ফিরবে বুঝতে পারেননি আর্সেনালের প্রাক্তন গোলরক্ষক। শুক্রবার ইউরো কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের সেই যুবদলের কাছেই হারতে হল আয়োজক জার্মানিকে। এই হারের ফলে প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন অধরা রয়ে গেল জার্মানদের। অন্যদিকে সব অপমানের জবাব দিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল স্পেন।

ইউরো ২৪- এর কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ইউরোপের দুই অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দল জার্মানি ও স্পেন । তাদের এই দ্বৈরথকে ‘ফাইনালের আগে ফাইনাল’ বলেও চিহ্নিত করেছিল অনেকে। তখনই বোঝা গিয়েছিল দুই দলের লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে। স্পেনের তরুণ দলের বিরুদ্ধে প্রথম দলে একাধিক পরিবর্তন করেছিলেন জার্মান কোচ জুরেগন নাগেলসম্যান। লেরয় সানে, এমরে চ্যানদের মত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ফুটবলারদের প্রথম একাদশে রাখেন। অন্যদিকে গত ম্যাচের দল অপরিবর্তিত রাখেন স্প্যানিশ কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। কিন্তু খেলা শুরুর ৮ মিনিটের মাথায় গুরুতর চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন পেদ্রি। তাঁর পরিবর্তে ড্যানি অলমোকে নামানো হয়। এই পরিবর্তনটি পরে কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়। প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের খাতা খোলার অসংখ্য সুযোগ হাতছাড়া করে। ২১ মিনিটের মাথায় জোসুয়া কিমিখের বাড়ানো ক্রস থেকে কাই হাভার্টজের নেওয়া দুর্বল হেড তালুবন্দী করেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোন। প্রথমার্ধের শেষের দিকে পরিবর্ত হিসেবে নামা ড্যানি অলমোর শট আটকে জার্মানদের খেলায় টিকিয়ে রাখেন তাঁদের গোলরক্ষক ম্যানুয়াল নয়ার। বিরতির সময় খেলার ফল ছিল গোলশূন্য।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে উজ্জীবিত ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন । লেমিন ইয়ামালের পাস ধরে জার্মান গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি আলভারো মোরাতা। যদিও প্রথম গোলের জন্য তাঁদের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ৫১ মিনিটে স্পেনকে গোল করে এগিয়ে দেন পরিবর্ত হিসেবে নামা অলমো। এবারেও বক্সের মধ্যে তাঁকে বল সাজিয়ে দেন ১৬ বছরের ইয়ামাল। গোল হজম করে স্বাগতিকদের শরীরী ভাষায় পরিবর্তন আসে। জার্মান সুলভ আক্রমণে ঝড় তোলে জার্মানরা। তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলার ফ্লোরিয়ান রিৎজ ও নিকোলাস ফুলক্রুগকে নামিয়ে আক্রমণে ধার বাড়ান নাগেলসম্যান। জার্মানির ক্রমাগত আক্রমণের মুখে কিছুটা নড়বড়ে মনে হচ্ছিল স্পেনের রক্ষণভাগকে। এই সময় গোল শোধ করার, এমনকি এগিয়ে যাওয়ারও সুযোগ পেয়েছিল জার্মানি। ৭০ মিনিটে রবার্ট আন্দ্রিচের শট বাঁচিয়ে দেন স্পেনের গোলরক্ষক। ৭৭ মিনিটে পরিবর্ত হিসেবে নামা ফুলক্রুগের শট পোস্টে লাগে। ৮২ মিনিটে কাই হাভার্টজের নেওয়া চিপ শট গোলপোস্টের মাথার উপর থেকে মাঠের বাইরে চলে যায়। শেষ দিকে অভিজ্ঞকে টমাস মুলারকে নামিয়ে দেন জার্মান কোচ। ৮৯ মিনিটের মাথায় খেলায় সমতা ফেরায় জার্মানি। মিস্টেলস্টেডের ক্রস হেড করে নামিয়ে দেন হাভার্টজ। চলতি বলে ডান পায়ের শটে গোল করেন পরিবর্ত হিসাবে নামা রিৎজ। নির্ধারিত সময়ে ফয়সলা না হওয়ায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও দুই দল আক্রমণের ধারা বজায় রাখে। কিন্তু গোলের খুব কাছ থেকে ফিরতে হচ্ছিল তাদের। প্রথমার্ধের শেষে স্কোরবোর্ড অপরিবর্তিত থাকে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বক্সের মধ্যে বল হাতে লাগে স্পেনের কুকুরেয়ার। কিন্তু অনিচ্ছাকৃত হওয়ায় পেনাল্টি দেননি রেফারি। অতিরিক্ত সময়েও নিজেদের সব তাসকে ব্যবহার করে ফেলেন দুই কোচ। কিমিখের শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন সিমোন। খেলা শেষে বাঁশি বাজতে বাকি ছিল মাত্র এক মিনিট। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম টাইব্রেকারের অপেক্ষা করছিলেন দর্শকরা। তখনই ম্যাজিক দেখায় স্পেন। বাঁ প্রান্ত থেকে অলমোর বাড়ানো ক্রসে হেড করে ম্যানুয়াল নয়ারকে পরাস্ত করেন মিকেল মেরিনো। তিনিও পরিবর্ত হিসেবে নেমেছিলেন। শেষের দিকে আবার সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল জার্মানির কাছে। কিন্তু ফুলক্রুগের হেড অল্পের জন্য বাইরে নিশানায় থাকেনি। শেষ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড ও লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন স্পেনের দানি কার্বাহল। তাতে অবশ্য ম্যাচে ফিরতে পারেনি জার্মানি। স্পেনের যুবশক্তির কাছে হেরে চলতি ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হল আয়োজকদের।


More Stories
শেফালী -রাধায় বাংলাদেশ চূর্ণ
পাকিস্তানকে ধ্বংস করল ভারতের মেয়েরা
হর্ষ – গুরনুরের দুরন্ত অভিষেক, জিতল ভারত