Home » কোটাবিরোধী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র বাংলাদেশ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯

কোটাবিরোধী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র বাংলাদেশ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ জুলাইঃ সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র বাংলাদেশ। আন্দোলনে সামিল হয়েছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে ছাত্রলীগের সদস্যরা। কোটাবিরোধী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষে  বৃহস্পতিবারই দেশজুড়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, মৃতদের অধিকাংশই পড়ুয়া। মৃতের তালিকায় এক সাংবাদিকও রয়েছেন। তিনি ঢাকা টাইমস-এ কর্মরত ছিলেন। নাম হাসান মেহেদী। ইতিমধ্যেই দেশের প্রশাসন জানিয়েছে, কোটাবিরোধী আন্দোলনে এখনও পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সংবাদসংস্থা এএফপির জানিয়েছে, ছাত্র আন্দোলনের জেরে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, এই বিক্ষোভ নিয়ে নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ সহ নানা সোশ্যাল মিডিয়াতে। সেখানে নানা রকম গুজব এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কারণেই কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ উঠছে। মূলত সেই কারণেই বুধবার রাত থেকে ঢাকা সহ গোটা বাংলাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে ৪জি মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা। চালু রয়েছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ও মোবাইল ইন্টারনেটের টু-জি পরিষেবা। এর ফলে চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের।

আরও পড়ুন  রেল দুর্ঘটনা ও রেলমন্ত্রীর পদত্যাগ

মোবাইল গ্রাহকরা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, বুধবার রাত থেকেই ঢাকার বিভিন্ন স্থানে হঠাৎই মোবাইল ইন্টারনেটের গতি কমে যায়। তাই ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট তাঁরা খুলতে পারছেন না। এদিকে, বৃহস্পতিবার কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। শুধু হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ ছিল। বিক্ষোভের জেরে বাংলাদেশের গণপরিবহণ ব্যবস্থা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। দিনভর জাতীয় সড়কগুলিতে আটকে ছিল হাজার হাজার যানবাহন। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ এবং পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে এই বিক্ষোভের আঁচ। কোটাবিরোধী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে প্রাণ হারিয়েছেন ৩২ জন। গত বুধবারই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল সব বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রসঙ্গত, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে চলছে কোটা সংস্কার আন্দোলন। গত রবিবার এই আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি মন্তব্য করেন। এরপর সোমবারই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন একাংশের শিক্ষার্থীরা। এদিন থেকেই মূলত আন্দোলন ভয়াবহ আকার নেয়। ক্যাম্পাসের মধ্যেই আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উপর ছাত্রলিগের সদস্যরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামি লিগেরই ছাত্র শাখা হল ছাত্রলিগ। এদিন সেই সংঘর্ষ আরও বড় আকার নেয়। সব মিলিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েকশো মানুষ। এদিকে, কোটাবিরোধী আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির ঘটনার পর আন্দোলনকারী ছাত্রীদের তোপের মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের নেত্রীরা৷ মঙ্গলবার রাতে তাদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ৷ বাংলাদেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রলীগের কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সংঘর্ষের ঘটনার পরে মঙ্গলবারও বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশজুড়ে থমথমে পরিবেশ ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা সহ বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে সেনা। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

#Latestbengalinews

#কোটাবিরোধীআন্দোলনবাংলাদেশে

#BangladeshQuotaAndolon

About Post Author