সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩০ জুলাইঃ বর্ষার তাণ্ডবলীলায় বিপর্যস্ত কেরলের ওয়ানড়। বিপর্যয় যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না কেরলের। মেঘভাঙা বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত কেরলের মেপ্পাদি, মুন্ডক্কাই টাউন এবং ওয়েনাড়। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির জেরে তিস্তায় তৈরি হয়েছে হরপা বান। এরই মধ্যে আচমকা ভূমিধস কেরলের ওয়ানড়ে। লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩। মাটির নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত বিপুল সংখ্যক মানুষের জনজীবন। ধসের জেরে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়েছে বহু গ্রাম। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও বহু মানুষের আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। সেনা হেলিকপ্টারের সাহায্যে জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। তবে একনাগাড়ে বৃষ্টিতে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ। উদ্বিগ্ন ওয়েনাড়ের প্রাক্তন সাংসদ রাহুল গান্ধী। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে ফোন করে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আরও পড়ুন Women Asia Cup : কেন এশিয়া কাপের ফাইনালে হারতে হল হরমনপ্রীতদের?
প্রধানমন্ত্রীর তরফে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা সাহায্যের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই কেরলের তথ্য ও জনসংযোগ দফতরের পক্ষ থেকে একাধিক হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। হেল্পলাইন নম্বরগুলি হল- 0483-2734387, 0471-2327628 এবং 2518637। কেরলের মেপ্পাদি, মুন্ডক্কাই টাউন এবং ওয়েনাড জেলার চুরালমালা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। টানা বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেখানে। ভেঙে গিয়েছে রাস্তা, সেতু। নদীতে ভাসছে একের পর এক মৃতদেহ। পাহাড়ি এলাকা থেকে এখনও পর্যন্ত ২৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়। আহত অবস্থায় হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে প্রায় ১০০ জনকে। শতাধিক লোক চাপা পড়ে থাকতে পারে এই ভূমিধসে এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোররাতে ধস নামে মেপ্পাদি, মুন্ডক্কাই টাউন এবং ওয়েনাড় জেলার চুরালমালায়। ওয়ানড়ের কালপেট্টা থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মেপ্পাদির পাহাড়ি অঞ্চলের একাধিক পাহাড়ে ধস নামে। রাত ১টা নাগাদ মুন্ডাক্কাই টাউনের কাছে প্রথম ধসের খবর পাওয়া যায়। এর ঘণ্টা তিনেক পর ওই এলাকায় এক স্কুলের কাছে দ্বিতীয় ধস নামে। আশেপাশের বাড়ি ও দোকানের মধ্যে জল কাদা ঢুকে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভেসে যায় একাধিক গাড়ি। এই ঘটনায় এলাকায় অন্তত ৪০০টি পরিবার আটকে পড়ে। ভেঙে পড়ে একটি ব্রিজ। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হয় প্রশাসন। বর্তমানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে। শাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যেখানে যেখানে ধস নেমেছে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। দমকল ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সঙ্গে সঙ্গে পাঠানো হয় ওই এলাকায়। উদ্ধারকাজে নামানো হয় রতীয় বায়ুসেনার হেলিকপ্টার Mi-17 এবং একটি ALH। রাজ্যের সব সরকারি এজেন্সিকে উদ্ধারকাজে হাত লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। যদিও ব্যাপক বৃষ্টির জেরে পদে পদে ব্যহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মুন্ডাক্কাই থেকে দুর্গতদের যাতে এয়ারলিফট করা যায় সে চেষ্টা চলছে।
#Latestbengalinews
#KeralaWayanad


More Stories
কেরলের নামবদল : প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক
ধর্মই ক্ষমতার উৎস : গীতাপাঠ ও বাবরি মসজিদ
গাড়ি বিস্ফোরণ : মুঘল সুলতানার আক্ষেপ, সাধের দিল্লি নগরীর কী হবে?