Home » Women Asia Cup : কেন এশিয়া কাপের ফাইনালে হারতে হল হরমনপ্রীতদের?

Women Asia Cup : কেন এশিয়া কাপের ফাইনালে হারতে হল হরমনপ্রীতদের?

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২৯ জুলাইঃ মেয়েদের এশিয়া কাপের ইতিহাসে বরাবরের আধিপত্য ভারতের। মোট নয়বারের মধ্যে নয়বারই ফাইনালে উঠেছে উইমেন ইন ব্লুরা। তারমধ্যে ট্রফি জিতেছে মোট সাতবার। রবিবার ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে সংখ্যাটা পৌঁছে যেত আটে। কিন্তু দ্বীপরাষ্ট্রের মেয়েদের নাছোরবান্দা মনোভাবের কাছে অবশেষে হার মানতে হল হরমনপ্রীত-স্মৃতিদের। অতীতে মোট পাঁচবার মেয়েদের এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে শ্রীলঙ্কা। ভারত ছাড়া এই নজির আর কোনও দলের নেই। কিন্তু প্রত্যেকবারই শেষবেলায় স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। প্রত্যেকবারই ফাইনাল জয়ের পথে তাঁদের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় ভারত। গতবার অর্থাৎ ২০২২ সালেও ফাইনালে ভারতের মেয়েদের কাছে হারতে হয়েছিল। ফলে রবিবার ঘরের মাঠকে সব যন্ত্রণার জবাব দেওয়ার মঞ্চ হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন চামারি আতাপাততুরা।

দিনের শুরুটা যদিও ছিল ভারতের। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস সবসময় ফ্যাক্টর। সেই টস ভারতের পক্ষে যায়। শুরুতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন হরমনপ্রীত। শুরুটা খারাপ করেনি ভারতের ওপেনিং জুটি।কিন্তু রানের গতি কম ছিল। বিশেষ করে স্বচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করতে দেখা যায়নি শেফালি বর্মাকে। ১৯ বলে ১৬ রান করে আউট হন তিনি। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন উমা ছেত্রী। এই প্রতিযোগিতায় প্রায় প্রতি ম্যাচে ব্যাটিং অর্ডারে বদল এনেছে ভারত। যা ফাইনালে কাল হল।৭ বল খেলে ৯ রান করে আউট হন উমা। চারনম্বরে নেমে দলকে ভরসা জোগাতে পারলেন না হরমনপ্রীতও। ১১ বলে করলেন ১১ রান। দায়িত্বজ্ঞানহীনের মত আউট হন তিনি। অন্যদিকে দলের স্কোরবোর্ডকে প্রায় একা টানেন অন্য ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা। অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। চতুর্থ উইকেটে তাঁর সঙ্গে জুটি বাঁধেন জেমাইমা। শুরু থেকে চালিয়ে খেলতে থাকেন তিনি। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ১৬ বলে ২৯ রান করে রান আউট হন জেমি। মারেন তিনটি চার ও একটি ছয়। জেমাইমার মত অভিজ্ঞ ও ফর্মে থাকা ব্যাটরকে এত পরে কেন নামানো নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। সেই ওভারের পঞ্চম বলেই আবার ধাক্কা খায় ভারত। ৪৭ বলে ৬০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে ফেরেন স্মৃতি। শেষের দিকে ভারতীয় ইনিংসে ঝড় তোলেন বাংলার মেয়ে রিচা ঘোষ। ১৪ বল খেলে করেন ৩০ রান। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান করে ভারত।

আরও পড়ুনঃ প্যারিস অলিম্পিক ভিলেজে মৃত্যু সামোয়ান বক্সিং কোচের, মৃত্যুর কারণ সামনে এল

রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই গুনরত্নের উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। সেখানেই ম্যাচের রাশ ধরা উচিৎ ছিল ভারতের বোলারদের। ধারাবাহিকভাবে ভাল পারফর্ম করে আসলেও ফাইনালে নজর কাড়তে ব্যর্থ হল ভারতের বোলিং অর্ডার। গতবছর আহমেদাবাদে এক বাঁহাতির হাতেই শেষ হয়ে গিয়েছিল রোহিতদের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। এদিন হরমনপ্রীতদের অষ্টবার এশিয়া জয়ের স্বপ্নেও জল ঢেলে দিলেন আরও এক বাঁহাতি। তিনি চামারি আতাপাততু। অধিনায়ক সুলভ ইনিংস উপহার দিলেন। ৪৩ বলে ৬১ রান করে তিনি যখন আউট হলেন তখন প্রথমবার এশিয়া সেরার স্বপ্ন দেখা শুরু করে দিয়েছে লঙ্কার মেয়েরা। তবুও ম্যাচে ফিরতে পারত ভারত। কিন্তু প্রচুর ফিল্ডং ও ক্যাচ মিসের খেসারত দিতে হল হরমনপ্রীতদের। আয়োজক দেশের হয়ে বাকি কাজটি করলেন হর্ষিতা সমরবিক্রম ও কভিষা দিলহারি জুটি। স্কোরবোর্ডে ৭৩ রান যোগ করে দলের জয় নিশ্চত করলেন তাঁরা। হর্ষিতা ৬৯ ও কবিশা ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ১৮.৪ ওভারে ৮ উইকেট হাতে নিয়ে জয়ের রান তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা।

About Post Author