Home » Anshuman Gaekwad : অবশেষে হার মানলেন ‘দ্যা গ্রেট ওয়াল’, প্রয়াত ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও কোচ

Anshuman Gaekwad : অবশেষে হার মানলেন ‘দ্যা গ্রেট ওয়াল’, প্রয়াত ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও কোচ

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১ অগস্ট: ক্রিকেট জীবনে ব্যাট হাতে অনায়াসে রুখে দিতেন বিশ্বের তাবড় তাবড় পেস বোলারদের। সেই তিনিই জীবনযুদ্ধে হার মানলেন মরণ রোগ ক্যান্সারের কাছে। দীর্ঘদিন রোগভোগের পর প্রয়াত হলেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও কোচ অংশুমান গায়কোয়াড়। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

একবছরের বেশি সময় ধরে তাঁর শরীরে বাসা বেঁধেছিল মারণ রোগ ব্লাড ক্যান্সার। লণ্ডনে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। মাসখানেক আগে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয় দেশে। সেই থেকে বরোদায় নিজের বাড়িতে চিকিৎসা চলছিল। বুধবার রাতেই চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে চলে গেলেন অংশুমান গয়কোয়াড়। অসুস্থ গায়কোয়াড়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্যরা। লণ্ডনের কিংস হাসপাতালে ভর্তি ক্রিকেটারকে দেখতে গিয়েছিলেন সন্দীপ পাতিল ও দিলীপ ভেঙ্গসরকার। তখন তাঁদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন গায়কোয়াড়। অসুস্থ ক্রিকেটারের পাশে দাঁড়ান কপিল দেব, সন্দীপ পাতিলরা। পাশাপাশি তাঁরা বোর্ডকে অনুরোধ করেন আর্থিক সহায়তার জন্য। পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন বোর্ড সচিব জয় শাহ। জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটারের চিকিৎসার জন্য বোর্ডের পক্ষ থেকে এক কোটি টাকাও দেওয়া হয়। তবুও শেষ রক্ষা হল না।

আরও পড়ুন: Paris Olympics 2024 : অলিম্পিক্স টেনিসের কোয়ার্টারে আলকারাজ-নাদাল জুটি

১৯৭৪ সালে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অভিষেক হয় গায়কোয়াড়ের। প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তারপর থেকে টানা দুই দশকের বেশি সময় দেশের হয়ে খেলেছেন। ৪০টি টেস্টে করেছেন১৯৮৫ রান গড় ৩০.০৭। শতরান রয়েছে দু’টি, অর্ধশতরান ১০টি। সর্বোচ্চ রান ২০১। পাশাপাশি খেলেছেন ১৫টি একদিনের ম্যাচও। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ২৬৯ রান। গড় ২০.৬৯। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২০৬টি ম্যাচে ১২১৩৬ রান করেছেন। মোট ৩৪ টি শতরান রয়েছে। আধুনিক ক্রিকেটে দ্যা ওয়াল বা প্রাচীর বলতে আমরা সবাই চিনি রাহুল দ্রাবিড়কে। তবে ভারতীয় ক্রিকেটে এই নামে আর যাকে ডাকা হত তিনি অংশুমান গায়কোয়াড়। আসলে রক্ষণাত্মক ক্রিকেটকে একটা অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়ার বাঘা বাঘা পেসারদের বিরুদ্ধে হেলমেট ছাড়াই অবলীলায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারতেন তিনি। ১৯৮৩ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর করা দ্বিশতরান অনেকদিন মনে রাখবে ক্রিকেটপ্রেমীরা। পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর হয়েছিলেন জাতীয় দলের নির্বাচক। তারপর সামলিয়েছেন ভারতীয় দলের কোচের দায়িত্বও। তিনি কোচ থাকার সময় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অনিল কুম্বলে এক ইনিংসে দশ উইকেট নেওয়ার নজির গড়েন। ২০১৮ সালে বোর্ড তাঁকে সি কে নাইডু জীবনকৃতি সম্মানে ভূষিত করেন। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া ভারতীয় ক্রিকেট মহলে।

About Post Author