Home » প্রাণে বাঁচতে, মহিলাদের সম্মান বাঁচাতে,বেরুবাড়ি সীমান্ত দিয়ে হাজার খানেক বাংলাদেশী ভারতে ঢোকার অপেক্ষায়

প্রাণে বাঁচতে, মহিলাদের সম্মান বাঁচাতে,বেরুবাড়ি সীমান্ত দিয়ে হাজার খানেক বাংলাদেশী ভারতে ঢোকার অপেক্ষায়

সানী রায়, সময় কলকাতা, ৭ অগাস্ট : মন্বন্তরের দিন বা দেশ বিভাগের দিন। না খেতে পাওয়া মানুষের দিন, অভুক্ত শরণার্থীদের দিন। ২০২৪-এ আবার ফিরে এল সেইদিন। সীমান্তের পাশে ভারতে ঢুকতে চায় বাংলাদেশের বহু মানুষ।  “তিনদিন ধরে পেটে দানা পড়ে নি , ভারতে ঢুকতে দিন’ কাতর স্বরে উত্তরবঙ্গের  বেরুবাড়ি সীমান্তে অপেক্ষায় হাজারখানেক বাংলাদেশি নাগরিক। ভারত বাংলাদেশের সীমানায়  দাঁড়িয়ে  অত্যাচার ও অনাহার ও অসম্মান থেকে তাদের বাঁচাতে সদয় হতে বলছেন ভারত সরকারকে। তাঁদের বাঁচার সামান্য খাদ্য তাঁদের জুটছে না।  তাঁদের পরিবারকে বাঁচাতে নারীদের সম্মান বাঁচাতে করজোড়ে আর্জি জানাচ্ছেন তাঁরা।

ছাত্রদের সংরক্ষণ আন্দোলনের নামে  বাংলাদেশ জুড়ে যেন আগুন জ্বলছে। মৃত্যুর উপত্যকা হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ  ছাড়ার পরেও উত্তাল ওপার বাংলা। পড়ছে লাশের পর লাশ। জ্বলছে গোটা দেশ। মৃত্যুভয়ে দেশত্যাগের হিড়িক পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার দুপুরে দক্ষিণ বেরুবাড়ির ধরধরা পাড়া উন্মুক্ত সীমান্ত এলাকায় জড়ো হন প্রায় হাজার বাংলাদেশি নাগরিক। তবে বিএসএফের তরফে সংখ্যাটা বলা হয়েছে প্রায় ৫০০-৭০০ জন। সকলেরই কাতর আবেদন ছিল, তাঁদের ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হোক। খবর পেয়েই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিএসএফের পদস্থ কর্তারা। পৌঁছায় সেনাবাহিনীও। তবে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অতিরিক্ত জওয়ান মোতায়েন করা হয় উন্মুক্ত সীমান্তে। মানিকগঞ্জ আউটপোস্টের ওসি জিবা প্রধান বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে উপস্থিত হন ঘটনাস্থলে। পাশাপাশি ৯৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের ডিসিজি ইন্দ্রজিৎ জোত, আইজি সূর্য কুমার শর্মা, পুলিশের ডিআইজি সন্তোষ লিম্বকর ও ডিএসপি শেরপা লেপচাও পৌঁছে যান সীমান্তে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানা যায়, বিগত দুদিন ধরে বাংলাদেশের উন্মত্ত জনতা পঞ্চগড় উপজেলার অন্তর্গত দিনাজপুর জেলার বনগ্রাম, বানিয়াপাড়া, কামারপাড়া, লাহিড়ী পাড়া, ধাপের ঘাট, বদাগঞ্জ সহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাও ঘটেছে। কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের শিক্ষক অরুন চন্দ্র রায়ের কথায়, ‘রাতের অন্ধকারে মহিলাদের টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে আর কোনও হদিস মিলছে না।’ এদিন সীমান্তে জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছে চা বাগানের গাছের ছায়ায় আশ্রয় নেন বাংলাদেশি নাগরিকরা। শিশু সহ মহিলারা সীমান্ত এলাকার বাংলাদেশি বাড়িতে আশ্রয় নেন।

মানিকগঞ্জ আউটপোস্টের ওসি জিবা প্রধান বলেন, ‘শরণার্থীদের দাবি, তাঁদের এলাকায় লুটপাট চলছে। মহিলাদের উপর অত্যাচার হচ্ছে। তাই প্রাণ রক্ষায় আশ্রয় চাইছেন তাঁরা।’ এদিন দিন গড়িয়ে রাত হলেও বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরানো সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বিএসএফ শিলিগুড়ির রাধাবাড়ি সেক্টর থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় ৫০০-৬০০ জন বাংলাদেশের নাগরিক সীমান্তে এসে পৌঁছেছে। তবে বিএসএফের তরফে তাঁদের ভারতে প্রবেশের কোনও অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। বিএসএফ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে।

About Post Author