সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৪ আগস্টঃ আখতার আলির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে আরজিকর কাণ্ডের তদন্তে তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে সিবিআই। আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে রবিবার সাত সকালে সন্দীপ ঘোষের বেলেঘাটার বাড়িতে হানা দিয়েছে সিবিআই। তবে, শুধু বেলেঘাটায় সন্দীপ ঘোষের বাড়ি নয়, এদিন সকালে সিবিআই হানা দেয় কেষ্টপুরে ফরেন্সিক মেডিসিনের চিকিৎসক দেবাশিস সোমের বাড়ি, আরজিকরের প্রাক্তন সুপার সঞ্জয় বশিষ্টের বাড়িতেও হানা দিয়েছে সিবিআই। একইসঙ্গে হাওড়ায় হাটগাছায় বিপ্লব সিংহ নামক এক ব্যক্তির বাড়িতেও গিয়েছেন তদন্তকারীরা। তিনি হাসপাতালের চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করে থাকেন। জানা গিয়েছে, কেষ্টপুরের এজি ২৪৩ নম্বর বাড়িতে রয়েছেন সন্দীপ ঘনিষ্ঠ দেবাশিস সোম। এদিন সেখানেই সিআইএসএফ জওয়ানদের নিয়ে হানা দেন সিবিআইয়ের ৫ সদস্যের তদন্তকারী দল। সূত্রের খবর, সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে তাঁর পরিচয় কতদিন? এমন নানা ধরনেরই উত্তরের খোঁজ করছেন তদন্তকারীরা। এই দেবাশিস সোম আবার স্বাস্থ্য নিয়োগ বোর্ডে রয়েছেন। যার চেয়ারম্যান সুদীপ্ত রায়। যিনি আবার আরজিকর মেডিকেল কলেজের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান।

আরও পড়ুন আরজিকর হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে সন্দীপ ঘোষের বাড়িতে সিবিআই হানা, জারি তল্লাশি
কিন্তু, দেবাশিস সোমের মতো ফরেন্সিক মেডিসিনের চিকিৎসক স্বাস্থ্য নিয়োগ বোর্ডে কী করছেন? ইতিমধ্যেই প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে যাঁরা অভিযোগ করেছেন তাঁদের অনেকের মনেই ঘুরছে এই প্রশ্ন। অভিযোগ উঠেছে, হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডেও অনেক দুর্নীতি রয়েছে। সেই সমস্ত দুর্নীতির ফরেন্সিক এভিডেন্স সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ লোপাটে পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করতেন দেবাশিস। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। সূত্রের খবর, এই দেবাশিস সোম আরজিকরে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার দিন আরজি করে উপস্থিত ছিলেন সকাল থেকেই। আরজিকরে নির্যাতিতার ময়নাতদন্তের সময়েও তার উপস্থিতি ছিল বলেই জানা গিয়েছে। সেদিন তাঁর সঙ্গে একাধিকবার প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ফোনেও কথা হয় বলে খবর। এ সমস্ত অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি আছে কিনা, আদৌও কতটা সত্যি, সন্দীপের সঙ্গে ফোনে কী কথা হয়েছিল, কেন তাঁর সঙ্গেই শুধু কথা, সেসব প্রশ্নের উত্তর পেতেই মরিয়া সিবিআই। অন্যদিকে, এদিন সকালে সন্দীপ, দেবাশিসের বাড়ি-সহ মোট ১৫ জায়গায় হানা দেয় সিবিআই। এদিন আরজিকর হাসপাতালের সুপারের ঘরেও যায় সিবিআইয়ের টিম। গোটা হাসপাতালই কার্যত ঘিরে ফেলে সিআরপিএফ জওয়ানরা। ভাইস প্রিন্সিপাল নিজে সিবিআই আধিকারিকদের সুপারের ঘরে নিয়ে যান।

প্রসঙ্গত, আরজিকর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরই হাসপাতালের একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। হাইকোর্টের নির্দেশের পরেই আরজিকরে দুর্নীতির তদন্তে এফআইআর করে সিবিআই। জোরকদমে শুরু হয়ে যায় তল্লাশি। সেই সূত্রেই আদালতের নির্দেশে রবিবার সকাল থেকে শহরজুড়ে অভিযানে নেমেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। অভিযোগ, স্বাস্থ্যভবন ও কলেজ কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়াই ফুড স্টল, কাফে, ক্যান্টিন, সুলভ কমপ্লেক্স তৈরির জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়। তিনজন বিশেষ ব্যবসায়ীই এই প্রত্যেকটি ‘বেআইনি’ টেন্ডার পান। তাঁদের একেকজনকে কয়েক কোটি টাকার বরাত দেওয়া হয়। ফিনান্স ও অ্যাকাউন্ট অফিসারদের কিছু না জানিয়েই এই বরাতগুলি দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ ও অন্যান্য কাজ করানো হয় পূর্ত দফতরকে না জানিয়েই। ডাক্তারি শিক্ষার তহবিল নয়ছয়ের অভিযোগও উঠেছে।অভিযোগ, পুরসভার বদলে হাসপাতালের কর্তারা পার্কিং থেকে টাকা আদায় করে তা সরিয়ে দেন। চুক্তির ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি হয়েছে।
এক স্বাস্থ্যকর্তার বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে চাহিদামতো রদবদলেরও অভিযোগ উঠেছে। বিক্রেতাদের কাছ থেকেও কুড়ি শতাংশ টাকা তোলা হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। করোনার সময়ে কোভিডের জন্য আসা রাজ্য সরকারের তহবিল থেকে আরামদায়ক চেয়ার, সোফা, ডাইনিং টেবিল, ফ্রিজ ও আরও অনেক কিছু কেনা হয়। সরকারি টাকায় কেনা বহু জিনিসও এমন নার্সিংহোমে যেত, যার আসল মালিক স্বাস্থ্যকর্তা। এমনকী, ভেন্ডারদের সাহায্যে এক স্বাস্থ্যকর্তার বাগানবাড়ি সাজানো হত ও তা না করলে তাঁরা হুমকির মুখে পড়তেন এমনও অভিযোগ উঠে এসেছে। এখানেই শেষ নয়, একদিন অন্তর হাসপাতালের ব্যবহার হয়ে যাওয়া সিরিঞ্জ, স্যালাইনের বোতল, রবার গ্লাভস, হ্যান্ড গ্লাভস মিলিয়ে কয়েকশো বর্জ্য বের হতো। তাতেও নাকি দুর্নীতি করতেন সন্দীপ। একটা ব়্যাকেট বানিয়ে ফেলেছিলেন, তাতে যুক্ত ছিলেন দু’জন বাংলাদেশিও। এসব দুর্নীতির নথিই দ্রুত সংগ্রহ করতে চাইছে সিবিআই। কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত তারও পর্দাফাঁস করতে চাইছেন তদন্তকারীরা।


More Stories
জার্সিতে যৌন অপরাধে প্রাক্তন শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
পাশের ঘরে বাবা-মা তবুও ১২ ঘন্টা ধরে চলেছে যৌন নির্যাতন! ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারীর ১০ দিনের পুলিশি হেফাজত
সুপ্রিম রায় : বিবাহিতা মহিলাদের বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ টিকবে না