আবুল কায়েম গাজী, সময় কলকাতা : একমাস কেটে গিয়েছে। আরজিকরের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার সুবিচার মেলে নি আজও। রাস্তায় ঢাক, উলুধ্বনি, শঙ্খনিনাদের মাধ্যমে প্রতিবাদ হচ্ছে। প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে শহর থেকে গ্রামে। সাধারণ মানুষ নারী নিরাপত্তা চেয়ে ও পাশবিক, বর্বর ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। পথে নেমেছেন চিকিৎসকরাও।জুনিয়র চিকিৎসকরা কর্মবিরতির মধ্যে দিয়ে প্রতিবাদ পালন করছেন । তাঁদের আন্দোলনে শরিক অন্য চিকিৎসকরাও। এরমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠছে,ডাক্তার ও চিকিৎসা পরিষেবা মিলছে না কলকাতার নামি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে। অভিযোগ, সময়োপযোগী চিকিৎসা না পেয়ে সাধারণ মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট কর্মবিরতি প্রত্যাহার করতে বলেছেন চিকিৎসকদের। কিন্তু সাধারণ মানুষরা এখনও চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে গেলেই শুনতে হচ্ছে,”ধর্মঘট তাই ডাক্তার নেই।” অভিযোগ, চিকিৎসার অভাবে ঝরে পড়ছে প্রাণ। এরকমই এক অভিযোগ এবার উঠল উত্তর চব্বিশ পরগনায়। মেডিক্যাল কলেজ ও এসএসকেএম হাসপাতালে মাথা কুটে ভর্তি না হতে পেরে বারাসাতের এক নার্সিং হোমে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন পথ দুর্ঘটনায় আহত দেগঙ্গার ৩৯ বছরের এক দিনমজুর সফিকুল ইসলাম।
গত ১ আগস্ট ভোরে বাইক দুর্ঘটনায় মাথায় ও পায়ে গুরুতর চোট নিয়ে বারাসাত হাসপাতালে ভর্তি হন দেগঙ্গার শোয়াই শ্বেতপুরের বাসিন্দা সফিকুল। রোগীর অবস্থার গুরুত্ব বুঝে মেডিক্যাল কলেজে তাঁকে স্থানান্তরিত করে বারাসাত হাসপাতাল। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গেলে রোগীর আত্মীয় পরিজনকে সরাসরি বলা হয়, “এখন ধর্মঘট চলছে, একটাও রোগী ভর্তি নেওয়া যাবে না। ” অতঃপর এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া মুমূর্ষু শফিকুলকে। সেখানে দু ঘণ্টা মাথা কুটলেও ভর্তি নেওয়ার ক্ষেত্রে একই অনীহা দেখায় তারা। পরিবার পরিজনের অভিযোগ, সেই রাতে একের পর এক তথাকথিত বড় হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন কলকাতায় ভর্তির অচলাবস্থা। কার্যত বিনা চিকিৎসায় কেটে যায় প্রায় একদিন।
“ধর্মঘট তাই ডাক্তার নেই ” শুনতে শুনতে হতাশ হয়ে পড়ে রোগীর আত্মীয় পরিজন।অবশেষে অ্যাম্বুলেন্স চালকের উদ্যোগে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা সফিকুলকে বারাসাতের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। চার তারিখ অপারেশন হয়েছিল, কিন্তু রোগীর অবস্থার উন্নতি না হয়ে আরও অবনতি হয়। অবশেষে ১০ তারিখ সব ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায় সফিকুল । সফিকুলের প্রতিবেশীদের বক্তব্য, বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য তদবির করতে করতে দেরী হয়ে গিয়েছিল।
দিনমজুর রোগীর আর্থিক অবস্থা নার্সিংহোমে চিকিৎসা করানোর সহায়ক ছিল না। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও থানার শরণাপন্ন হয়ে তারা মৃতদেহকে ছাড়িয়ে আনতে সক্ষম হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের চিকিৎসকদের কাছে আর্জি , গরিব মানুষের কাছে ভগবান চিকিৎসকরা চিকিৎসা পরিষেবা বজায় রেখে প্রতিবাদ আন্দোলন করুন, তাহলে কিছু প্রাণ বাঁচে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁরা দেরিতে রোগীকে পেলেও আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন তাঁকে বাঁচানোর। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এটা সরকারি হাসপাতাল নয়, সঠিক চিকিৎসা পেতে হলে খরচ তো করতেই হবে।আর এখানেই মিশে যাচ্ছে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের কৈফিয়ৎ ও মৃতের আত্মীয় পরিজনের অভিযোগ। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ বললেন সরকারি হাসপাতাল ছাড়া গরিব মানুষকে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয়। নার্সিংহোমের বাইরে তরুণ সফিকুলের নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে জাহাঙ্গীর গাজী আরজিকরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দোষীর কঠোর সাজা চাইলেন। বিষাদ মাখা স্বরে আরজি করের ঘটনার সুবিচার চাওয়া মৃতের নিকট আত্মীয় জাহাঙ্গীর বললেন, হাসপাতাল ছাড়া তো গরিব মানুষের চিকিৎসার জায়গা নেই। তাঁর করুণ আর্জি চিকিৎসকদের কাছে, আর্জি সেই সব অতি সাধারণ ঘরের মুমূর্ষু রোগীদের প্রাণ রক্ষার জন্য -যাদের নামি সরকারি হাসপাতালগুলি ছাড়া ভরসা নেই।
৯ আগস্ট পৈশাচিকভাবে ধর্ষণও খুন করা হয়েছিল আরজিকরের চিকিৎসককে। সুবিচার মেলেনি। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন অন্য খাতে বইছে। অভিযোগ উঠছে, প্রতিবাদ আন্দোলনে কর্ম বিরতির জেরে চিকিৎসা পরিষেবা মিলছে না জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের।।
# ধর্মঘট তাই ডাক্তার নেই


More Stories
নেপাল সীমান্তে ঠিক কোথায় ধরা পড়েন জাহাঙ্গীর?
প্রয়াত সাংসদ ঘনিষ্ঠ মাফিয়া তৃণমূল নেতা গ্রেফতার
শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার জয়প্রকাশ