সময় কোলকাতা ডেস্ক, ১৮ শেপ্টেম্বোড়ঃ নিম্নচাপের বৃষ্টি ও ডিভিসির ছাড়া জলে প্লাবিত বাংলার বহু এলাকা। এমতবস্থায় মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত জেলা গুলির বেশ কিছু এলাকা পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন। সেখানে এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি কেন্দ্রকেই দায়ী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বার্তা এটা‘ম্যান মেড’বন্যা। অর্থ্যাৎ ইচ্ছে করে বা কেন্দ্রের উদাসীনতার কারণে এই বন্যা হয়েছে। বুধবার হুগলির পুরশুড়া ব্লকে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দুপুরে পুরশুড়ার একটি সেতুতে দাঁড়িয়ে প্লাবিত এলাকা দেখে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, কেন্দ্রের অসহযোগিতাতেই বাংলায় প্লাবন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন ডিভিসিকেও।

আড়ও পড়ূনঃ ‘অবিলম্বে নির্যাতিতার নাম ও ছবি মুছতে হবে’, আরজিকর মামলায় উইকিপিডিয়াকে বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
এই ‘ম্যান মেড’ বন্যার কথা এর আগেও শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মুখে। দু’বছর আগে হাওড়ার বন্যাতে অথবা ২০০০ সালে রাজ্য জুড়ে বন্যার পরিস্থিতিকেও উনি বলেছিলেন ‘ম্যান মেড’। বুধবার একই শুর শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। তিনি বলেছেন, ‘‘আমি নিজে ডিভিসি ও ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। সেই সুত্রেই জেনেছি ডিভিসি সাড়ে তিন লক্ষ কিউসেক জল ছেড়েছিল, এত জল এর আগে কখনও ছাড়া হয়নি। বাংলা কেন্দ্রের বঞ্চনার শিকার” এখানেই না থেমে তিনি আরও বলেছেন, “যখন ৭০-৮০ শতাংশ জল ভরে যায়, তখন ডিভিসিকে আর জল ছাড়তে বারণ করে কেন্দ্র, কারণ নিজেদের রাজ্যগুলিকে বাঁচানো। আর এবারে একসঙ্গে সব জল ওঁরা চাপিয়ে দিয়েছে আমাদের বাংলার ওপর।” পরিকল্পিত ভাবে বাংলাকে ডোবানো হয়েছে”, এমনটাই অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।
আড়ও পড়ূনঃ ট্যাংরায় দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব!! নাকা চেকিংয়ের সময় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ
উল্লেখ্য, এর আগেও অগস্টে প্লাবন পরিস্থিতি নিয়ে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর এক্স হ্যান্ডলে লিখেছিলেন, ‘‘এখনই আমি ঝাড়খণ্ডের মুখ্য়মন্ত্রী হেমন্ত সোরেনজির সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বলেছি। আমি তাঁকে বলেছি, ঝাড়খণ্ডের জলে বাংলা প্লাবিত হচ্ছে আর এটা ‘ম্যান মেড।’’ অতিবর্ষণে দামোদরের জলে ঢুকে পড়ায় প্লাবিত হুগলির পুরশুড়ার বেশ কিছু জায়গায়। জলবন্দি হয়ে নাজেহাল জনজীবন। জল ঢুকে গিয়েছে বেশ কিছু বাড়িতেও। এরই সঙ্গে বন্যাকবলিত তারকেশ্বর ব্লকের বহু গ্রাম। বিপর্যস্ত হাজার হাজার মানুষের রুজি-রোজগার। স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার বার প্রশাসন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করলেও কোনও সহযোগিতা আসেনি সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু এদিন পুরশুড়াতে গিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে দেখা করে কথাবার্তা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, বুধবারই মমতা যাবেন পশ্চিম মেদিনীপুর। সেখানে রাত কাটিয়ে বৃহস্পতিবার ঘাটালের প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন যাবেন তৃণমূল সুপ্রিমো


More Stories
বাঙালিদের ভন্ড বলার অভিযোগে বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের
অভিষেকের অফিসে ভাঙচুর
তৃণমূল ও সিপিএম প্রসঙ্গে দলীয় কর্মীদের মুখ্যমন্ত্রীর শপথবাক্য ও মন্ত্রগুপ্তি