Home » চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তায় একগুচ্ছ নির্দেশিকা নবান্নের, হাসপাতালগুলিতে চালু ‘প্যানিক বাটন’ সিস্টেম , রাতে নজরদারিতে মহিলা পুলিশকর্মী

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তায় একগুচ্ছ নির্দেশিকা নবান্নের, হাসপাতালগুলিতে চালু ‘প্যানিক বাটন’ সিস্টেম , রাতে নজরদারিতে মহিলা পুলিশকর্মী

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৮ সেপ্টেম্বর: আরজিকর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ।  উত্তপ্ত রাজ্যের চিকিৎসক মহল। দফায় দফায় চলছে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ।  ক্রমশ বড় হচ্ছে প্রতিবাদের বহর। এরই মধ্যে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তায় যাতে কোনও ভাবেই কোনও খামতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতে তৎপর রাজ্য সরকার।  হাসপাতালগুলির চিকিৎসা পরিকাঠামো এবং চিকিৎসক, চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে একগুচ্ছ পদক্ষেপ করল নবান্ন। জানা গিয়েছে, এবার থেকে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তায় প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চালু করা হবে ‘প্যানিক বাটন’। অভ্যন্তরীণ অভিযোগগ্রহণ কমিটি সম্পূর্ণ রূপে সচল রাখা হবে। চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তায় প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দ্রুত হেল্পলাইন নম্বর চালু করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে সিকিউরিটি অডিটও করা হবে। এর দায়িত্বে থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস তথা প্রাক্তন ডিজি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ। এই মর্মে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন মুখ্যসচিব  মনোজ পন্থ। 

আরও পড়ুন  বারাসাতের ” কিডন্যাপার ” কাউন্সিলার সিআইডির হাতে গ্রেফতার, দল থেকে বহিস্কার

ওই চিঠিতে মুখ্যসচিব লিখেছেন, চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের তথা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায়  পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী মোতায়েন রাখতে হবে। রাতে প্রতিটি হাসপাতালে স্থানীয় থানার পুলিশের টহলদারিও রাখতে হবে। পাশাপাশি, প্রতিটি হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তারদের জন্য নির্দিষ্ট বিশ্রামঘর ও শৌচালয়ের ব্যবস্থা করা হবে। রোগী ও তাঁদের পরিজনদের অভিযোগ জানানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা করতেও বলা হয়েছে ওই চিঠিতে। এছাড়া কোনও রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভাবে একটি ‘রেফারেল সিস্টেম’ দ্রুত চালু করার কথা বলা হয়েছে। হাসপাতালে পানীয় জলের যথাযথ বন্দোবস্ত  রয়েছে কিনা সেদিকে নজর দিতে হবে।  সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগীদের জন্য কতগুলি শয্যা ফাঁকা রয়েছে, সেদিকে নজর দিতে হবে। সেইসঙ্গে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য প্রতিটি হাসপাতালে এই সংক্রান্ত একটি ডিসপ্লে বোর্ড রাখতে হবে। একই সঙ্গে ডাক্তার, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের শূন্যপদ দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।  

 

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে আরজিকর মামলার শুনানিতে জুনিয়র ডাক্তারদের তরফে হাসপাতালে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছিল। ডাক্তারদের বিশ্রামকক্ষ, শৌচালয়, সিসি ক্যামেরা, অভ্যন্তরীণ অভিযোগ  গ্রহণ কমিটি-সহ একাধিক দাবির কথা জানানো হয়েছিল শীর্ষ আদালতে। এরপরই রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল জানিয়েছিলেন, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে রাজ্যের সব হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থার বন্দোবস্ত করছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই সরকার পক্ষের সঙ্গে দু’দফায় বৈঠক সেরেছেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। বুধবার জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের বৈঠকের পরই হাসপাতালগুলির চিকিৎসা পরিকাঠামো এবং চিকিৎসক, চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে একগুচ্ছ পদক্ষেপ করল নবান্ন। 

#RGkarHospital  #RGKARDoctorDeath  #Latestbengalinews  #ChiefJusticeDYChandrachud  #SupremeCourt #StateHealthSecretary NarayanswaroopNigam  #StateChiefSecretaryManojPanth

About Post Author