Home » আরও ভয়াবহ রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি, খানাকুলে জলের তোড়ে ভেসে গেল দোতলা বাড়ি, প্লাবিত শতাধিক গ্রাম

আরও ভয়াবহ রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি, খানাকুলে জলের তোড়ে ভেসে গেল দোতলা বাড়ি, প্লাবিত শতাধিক গ্রাম

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ সেপ্টেম্বর: মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রাজ্যের একাধিক অঞ্চল। গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্ষার তাণ্ডবলীলায় রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। জলমগ্ন দুর্গাপুর, আসানসোল, বীরভূম , হাওড়া, হুগলি, আরামবাগ, পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা। ডিভিসির মূল দুটি জলাধার মাইথন ও পাঞ্চেত বাঁধের উপর জলের চাপ ক্রমশ বেড়েছে। জলের চাপ বাড়ার কারণে প্রায় রোজই জল ছাড়ছে ডিভিসি। ডিভিসির ছাড়া জলে ভাসছে হুগলি। এখন বৃষ্টি থামলেও প্লাবিত হুগলির বলাগড় ও খানাকুল। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্তও বেড়েছে জলস্তর। খানাকুলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বন্যায় ভাসছে বহু গ্রাম। ইতিমধ্যেই একতলা বাড়িগুলি ডুবে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বহু মাটির বাড়িও। এবার জলের তোড়ে ভেসে যাচ্ছে দোতলা বাড়ি! সম্প্রতি খানাকুলের একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, জলের তোড়ে ভেসে যাচ্ছে দোতলা পাকা বাড়ি। ২৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিয়ো দেখে রীতিমতো শিউরে উঠছেন নেটিজেনরা।

আরও পড়ুন  বারাসাতের ” কিডন্যাপার ” কাউন্সিলার সিআইডির হাতে গ্রেফতার, দল থেকে বহিস্কার

উল্লেখ্য,গত রবিবার থেকেই ডিভিসি দফায় দফায় জল ছাড়তে শুরু করে। দামোদরের বাঁধ উপচে শুধু উদয়নারায়ণপুর ভাসেনি, রূপনারায়ণ ও মুণ্ডেশ্বরীর জল বেড়ে যাওয়ায় প্লাবিত হাওড়া, হুগলি। এহেন পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন ছিল রাজ্যকে না জানিয়ে নতুন করে জল যেন না ছাড়া হয়। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি উড়িয়ে মাইথন এবং পাঞ্চেত— এই দুই জলাধার থেকে জল ছাড়া হচ্ছে। নবান্নের নিষেধ থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবারও দামোদর উপত্যকার বিভিন্ন বাঁধ ও জলাধার থেকে জল ছাড়া হয়েছিল। ডিভিসি সূত্রে খবর , বৃহস্পতিবার মাইথন এবং পাঞ্চেত থেকে মোট ৮০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছিল। যার কারণে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ক্রমশ বাড়ছে প্লাবনের আশঙ্কা। বুধবারও মাইথন ও পাঞ্চেত— দুই জলাধার থেকেই জল ছাড়া হয়েছে।

এদিন সকালে মাইথন থেকে ৪০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছিল। ডিভিসি জল ছাড়ায় ইতিমধ্যেই প্লাবিত ঝাড়খন্ড সংলগ্ন আসানসোল, দুর্গাপুর , বর্ধমান এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন অংশ। কারণ দুই ব্যারেজ থেকেই জল দামোদর নদ হয়ে পশ্চিম বর্ধমানের দামোদর ব্যারেজে পৌঁছাচ্ছে। ফলে দামোদর ব্যারেজের জলের চাপ ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে আসানসোল, দুর্গাপুর এবং রানীগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত। ভেঙে পড়েছে বহু মাটির বাড়ি। এদিকে, ঝাড়খন্ড সংলগ্ন বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার কারণে সমস্যায় পড়েছেন বহু মানুষ। আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হলেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। সেক্ষেত্রে ফের জল ছাড়া হতে পারে ডিভিসির দুটি ব্যারেজ মাইথন এবং পাঞ্চেত থেকে। ইতিমধ্যে প্লাবিত অঞ্চল নিয়েও আতঙ্কিত রাজ্য সরকার। শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা।

About Post Author