Home » ‘ বাংলার বন্যা পরিস্থিতির জন্য ডিভিসি দায়ী নয়’, মমতাকে কড়া চিঠি রাজ্যপাল বোসের

‘ বাংলার বন্যা পরিস্থিতির জন্য ডিভিসি দায়ী নয়’, মমতাকে কড়া চিঠি রাজ্যপাল বোসের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২১ সেপ্টেম্বর: ডিভিসি-র দুই জলাধার থেকে জল ছাড়া নিয়ে শুরু হয়েছে কেন্দ্র-রাজ্য চাপানউতোর। তারই মধ্যে শনিবার বাংলার  বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। চিঠিতে রাজ্যপালের লেখেন, ‘ বাংলার বন্যা পরিস্থিতির জন্য ডিভিসি দায়ী নয়। ডিভিসির যে বাঁধ তৈরি হয়েছিল, তা তৈরি হয়েছিল ছোটখাটো বন্যা পরিস্থিতি আটকানোর জন্য। কংসাবতী, শিলাবতী ও দ্বারকেশ্বর নদী এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং কংসাবতী নদীর উপর মুকুটমণিপুরে বাঁধ থেকে জল ছাড়ার ফলেই এইসব জায়গা প্লাবিত হয়েছে। এভাবে ডিভিসিকে দোষারোপ না করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত রাজ্যের।‘

এর আগে গত শুক্রবার বাংলায় বন্যা পরিস্থিতির জন্য ডিভিসিকে দুষে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই মুখ্যমন্ত্রীকে পালটা চিঠি লিখে কেন্দ্রের জলশক্তি মন্ত্রক সাফ জানান, একতরফাভাবে নয়, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিদের জানিয়েই জল ছেড়েছে ডিভিসি। দোষারোপ নয়, পারস্পরিক সহযোগিতা কাম্য। চিঠিটি লিখেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সি আর পাটিল। বৃহস্পতিবার রাতেই কেন্দ্রের জলশক্তি মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছিল একথা। এদিন প্রধানমন্ত্রীকে লেখা মুখ্যমন্ত্রীর চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা ‘ম্যান মেড বন্যা’। তাঁর দাবি, ডিভিসি আরেকটু সতর্ক হলে এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত। পরিসংখ্যান দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ডিভিসি অপরিকল্পিতভাবে একক সিদ্ধান্তে মাইথন এবং পাঞ্চেত থেকে ৫ লক্ষ কিউসেক জল ছেড়েছে।

আরও পড়ুন       দ্বিতীয় ম্যাচে হেরেও সিরিজ হাতছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার, নতুন নজির গড়লেন গুরবাজ 

যার ফলে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলা, বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জলের তলায়। দ্রুত নদীগুলির ড্রেজিং করানোর আবেদনও জানিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তারই পালটা চিঠি এল শুক্রবার রাতে। কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাটিল চিঠি লিখে বোঝাতে চাইলেন, যা যা অভিযোগ মমতা তুলছেন, তা সঠিক নয়। ঝাড়খণ্ড-বাংলার মধ্যে যেসব জলাধার রয়েছে, সেখান থেকে জল কখন কীভাবে ছাড়া হবে, তা ‘দামোদর ভ্যালি রিজার্ভার রেগুলেশন কমিটি’ নামক একটি কমিটির দ্বারা পরিচালিত হয়। সেই কমিটিতে পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা সরকারের ইঞ্জিনিয়াররা রয়েছেন। এই কমিটির সম্মতি নিয়েই জল ছাড়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রকের দাবি, ১৪ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর যে পরিমাণ জল ছাড়ার পরিকল্পনা হয়েছিল, রাজ্যের অনুরোধে তার থেকে ৫০ শতাংশ কম জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু ১৬ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে মাইথন এবং পাঞ্চেত জলাধারের সংস্কারের কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গেরও উল্লেখ রয়েছে জলশক্তি মন্ত্রকের চিঠিতে।

#GovernorCVAnandBose

About Post Author