সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ সেপ্টেম্বরঃ রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে , ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রেশন দুর্নীতির তদন্তে কিছুদিন আগেই কলকাতা, হাওড়া-সহ মোট সাতটি জায়গায় দফায় দফায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে ইডি। এসবের মাঝেই শুক্রবার রেশন বন্টন দুর্নীতি মামলায় ইডি দফতরে হাজিরা দিলেন খাদ্য ভবনের তিন আধিকারিক। হাতে ছিল বেশ কিছু নথিপত্র। সূত্রের খবর, মূলত উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এলাকায় কত রেশন দোকান রয়েছে, কত রেশন কার্ড রয়েছে, পাশাপাশি কত মিল রয়েছে, সেই সব তথ্য জানতেই তাঁদের তলব করা হয়। সেই নথি নিয়ে ইডি দফতরে হাজির হন খাদ্য ভবনের তিন আধিকারিক।
প্রসঙ্গত, রেশন দুর্নীতির তদন্তে গত ১৩ সেপ্টেম্বর কল্যাণী, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর, পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা এবং উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত ও দেগঙ্গায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার একাধিক দল। ওইদিন উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে খাদ্য দফতরের আধিকারিক রুদ্রনীল পালিতের আবাসনে হানা দেয় ইডি। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। জানা গিয়েছে, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী থাকাকালীন রুদ্রনীল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা খাদ্য পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন। একইসঙ্গে দেগঙ্গার একটি সমবায় ব্যাঙ্কেও হানা দেন ইডির আধিকারিকরা। এক মহিলা সহ পাঁচজন আধিকারিক দেগঙ্গার হামাদামা বাজার এলাকায় আজিজনগর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতিতে হানা দেন।

নদিয়ার কল্যাণীতেও খাদ্য পরিদর্শক কালমা হেমব্রমের বাড়িতে ওইদিন ইডির চার সদস্যের একটি দল হানা দেন।সেখান থেকে বেশ কিছু নথিও উদ্ধার করা হয়। তাঁর ঘনিষ্ঠদের সম্পত্তির তালিকাও রয়েছে কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের নজরে। একইসঙ্গে কল্যাণীতে রেশন দুর্নীতি মামলায় ধৃত বাকিবুর রহমানের চাল এবং আটা কলেও অভিযান চালায় ইডি। এছাড়া, রেশন দুর্নীতির তদন্তে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর সোনাখালিতে রাধাকৃষ্ণ রায়ের চালের গুদামে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় আধিকারিকেরা।
উল্লেখ্য, রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে আগেই ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমান। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের পরই উঠে এসেছিল বারিক বিশ্বাস, রাধাকৃষ্ণ রায়, রুদ্রনীল পালিত, আনিসুর রহমান, মুকুল রহমানদের নাম। এঁরা সকলেই চালকলের মালিক, এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
#ED #Rationcorruptioncase #Latestbengalinews


More Stories
আই-প্যাকের ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করল ইডি
মমতা -অভিষেককে ৩০ হাজার করে ভোটে হারাতে না পারলে নাকখত দেবেন হুমায়ুন কবীর
যুদ্ধ : মুখ্যমন্ত্রীর সবুজ ফাইলের রহস্য ও ইডি-র ‘ডেটা ট্রান্সফার’!