সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৮ সেপ্টেম্বর: রাজ্য পরিবহন দফতরের ট্রাম পরিষেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিরোধে বৃহস্পতিবার থেকেই রাস্তায় নেমেছেন শহরের ট্রামপ্রেমীরা। ‘ট্রাম বাঁচাও’ কমিটির উদ্যোগে রাজপথে গড়ে উঠেছে আন্দোলন মিছিল। তবে এখন স্বস্তির খবর শোনা যাচ্ছে, এক্ষুনি বন্ধ হচ্ছে না ট্রাম। ১৮৭৩ সাল থেকে কলকাতায় পথচলা শুরু করা এই যানটির চাকা এখনই থামছে না। সূত্রের দাবি, ডাব্লিউটিসি থেকে সিটিসি-কে আলাদা করা হবে। এবার সিটিসি বা ক্যালকাটা ট্রাম ওয়েজ একক উদ্যোগেই ট্রাম চালাবে তিলোত্তমার বুকে। হারিয়ে যেতে দেবে না স্বাধীনতার আগে থেকে চলে আসা কলকাতার ঐতিহ্য কে।

বিগত দেড়শো বছর ধরে শহর কলকাতার বুকে ছুটছে ট্রাম। ভারত তখন ব্রিটিশ শাসনাধীন। ইংরেজরা ভারতে তাঁদের রাজধানী হিসাবে বেছে নিয়েছিল বাংলার কেন্দ্র বিন্দু কলকাতাকে। সেই সময় ইংরেজদের হাত ধরেই পথ চলা শুরু করেছিল ট্রাম। ২০১৫ সাল পর্যন্ত শহরের ২৫টি রুটে চলত ট্রাম পরিষেবা। তবে করোনা ভাইরাসের তান্ডবে লকডাউন পরিস্থিতির পর থেকেই কলকাতার সিংহভাগ রুটে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এই যান। মাত্র চারটি রুটেই সরকার এই পরিষেবা বহাল রেখেছিল। সম্প্রতি হাইকোর্টে ট্রাম চলাচল আবার আগের মত স্বাভাবিক করার আর্জি জানিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিল ট্রামপ্রেমীরা। সেই মামলায় রাজ্যের পরিবহন দফতরের রায় জানতে চেয়েছিল কোর্ট। এদিন পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন সরকার ট্রাম পরিষেবা বন্ধ করার পক্ষপাতী। তাঁর যুক্তি “কলকাতার ট্রাম শুধুমাত্র ময়দান ও এসপ্ল্যানেডের মধ্যে চলবে। এসপ্ল্যানেড ও ময়দানের মধ্যে আমরা ট্রাম চালাব শহরের ঐতিহ্য হিসেব। বাকি রুটগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে। কলকাতায় মানুষ ও যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও রাস্তা সেভাবে বাড়েনি। কলকাতা শহরের মোট আয়তনের মাত্র ৬ শতাংশে গাড়ি চলে। এর তুলনায় রাস্তার পরিমাণ দিল্লি ও মুম্বইয়ে অনেক বেশি। এই কারণেই ট্রাম বন্ধ করা হচ্ছে।”
সরকারের এই সিদ্বান্ত রদ করতে গত দু’দিন ধরেই শহরের ট্রাম প্রেমীদের কাতারে কাতারে আন্দোলনে নামতে দেখা গিয়েছে। সূত্র থেকে খবর, এবার ডব্লিউবিটিসি বা ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন থেকে আলাদা হয়ে সিটিসি বা ক্যালকাটা ট্রাম ওয়েজ কোম্পানি একক উদ্যোগেই ট্রাম পরিষেবা আগের মতোই বহাল রাখবে কলকাতার বুকে।


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা