সময় কলকাতা ডেস্ক, ৪ অক্টোবরঃ আরজি করে আর্থিক দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার তৃণমূল নেতা আশিস পাণ্ডে। থ্রেট কালচার থেকে দুর্নীতি, আরজি করের প্রধান হোতা আশিসই, শুক্রবার এ ব্যাপারে আদালতে বিস্ফোরক দাবি করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। ধৃতকে আদালতে তোলা হলে ৩ দিনের সিবিআই হেফাজতের আবেদন জানানো হয়। বিচারক তা মঞ্জুর করেন।

বৃহস্পতিবার রাতে আর্থিক দুর্নীতি মামলায় আরজি কর হাসপাতালের টিএমসিপি নেতা আশিস পাণ্ডেকে গ্রেফতার করে সিবিআই। শুক্রবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হলে আদালত তাঁকে তিন দিনের সিবিআই হেফাজতে পাঠায়। আশিস আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেই পরিচিত। আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুর্নীতি ও থ্রেট কালচারের অন্যতম মাথা ছিলেন টিএমসিপি নেতা আশিস পাণ্ডে। শুক্রবার এ ব্যাপারে আদালতে বিস্ফোরক দাবি করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। আদালতে সিবিআইয়ের দাবি, আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ সরাসরি ঘুষের টাকা নিতেন না। তাঁর সহকারী হিসেবে এই ‘বেনিয়মে’র কাজ সামলাত আশিস।
এমনকী, আশিসের এতটাই প্রভাব ছিল যে, তাঁর কথা না শুনলে সিনিয়র চিকিৎসকদেরও বদলি করা হত তাঁরই অঙ্গুলিহেলনে। কাকে রাখা হবে, কাকে বদলি করা হবে, সেই দায়িত্ব নাকি সন্দীপের হয়ে দেখতেন প্রভাবশালী এই তৃণমূল নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগও রয়েছে। মোটা টাকার বিনিময়ে বেআইনিভাবে হাসপাতালে হাউজ স্টাফ নিয়োগ করতেন আশিস। এই সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন বলে জানায় সিবিআই।
কীভাবে তদন্তকারীদের স্ক্যানারে এলেন আশিস পাণ্ডে?
আরজি করের সেমিনার হলে ডাক্তারি ছাত্রীর দেহ উদ্ধারের পর সেখানে প্রচুর মানুষের ভিড়ের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সময় কলকাতা। ওই ভিড়ে সন্দীপ ঘনিষ্ঠ আশিসকেও দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, আরজি করে যে দিন তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেদিন সল্টলেকের একটি গেস্ট হাউসে উঠেছিলেন আশিস। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, হঠাৎ কেন হোটেলে থাকলেন অভিযুক্ত ছাত্র নেতা? হোটেলে সেদিন কখন ঢুকেছিলেন আশিস, কতবারই বা বেরিয়েছিলেন? তদন্তকারীদের একটা অংশ মনে করেন, ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন আশিস। সেই কারণে তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। সল্টলেকের ওই গেস্ট হাউসের কর্মীকেও নথি-সহ ডেকে পাঠানো হয়েছিল সিবিআই দফতরে। এর পাশাপাশি দুর্নীতির তদন্তে নেমেও আশিসের নাম জানতে পারেন তদন্তকারীরা।
সূত্রের খবর, বয়ানে বিস্তর অসঙ্গতিই শুধু নয়, আশিস মূল তদন্তের গতিপথও বদলে দিতে চেয়েছিলেন। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার সন্ধেয় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে সিবিআই। বৃহস্পতিবার আশিসকে গ্রেফতারের সময় তাঁর মোবাইল-সহ সাতটি জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেখান থেকেই এ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নিথে পাওয়া গিয়েছে বলে শুক্রবার আদালতে জানিয়েছে সিবিআই। আরজি করে আর্থিক দুর্নীতি মামলায় এর আগে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। সন্দীপকেও প্রথমে এই মামলাতেই গ্রেফতার করা হয়। পরে আরজি করে মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের মামলাতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার হাতে গ্রেফতার হন সন্দীপ।
আরজি করের নির্যাতিতা ছাত্রীর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা কারও একার পক্ষে করা সম্ভব কিনা প্রথম থেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা থেকে শুরু করে চিকিৎসকদের একাংশও। প্রশ্ন উঠছিল, ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রাই কি একাই ছিলেন নাকি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও অনেকে! সেই রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি এখনও। এ ব্যাপারেও আশিসের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।


More Stories
ঋতব্রতদের সম্পর্কে কুণাল ঘোষের বক্তব্য কেন তাৎপর্যপূর্ণ?
অভিষেকের উপর হামলার নেপথ্যে কারা?
অভিষেকের পরে কল্যাণ