Home » “নামেই আছে ফাঁড়ি, কাজে আসে না”, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগে জ্বলছে জয়নগর

“নামেই আছে ফাঁড়ি, কাজে আসে না”, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগে জ্বলছে জয়নগর

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৬ অক্টোবরঃ  আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে প্রায় দু’মাস যাবত আন্দোলনের আগুনে জ্বলছে গোটা রাজ্য। এমতবস্থায় রাজ্যবাসীকে আগেই পুজোয় ফেরার ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সেই ডাকে সাড়া দিয়ে আর পুজোয় ফেরা হল না বাচ্চা মেয়েটির। যেখানে মেয়ের জন্য নতুন জামা-ফ্রক কিনে সন্তানের খিলখিলিয়ে ওঠা হাঁসি দেখতে ব্যস্ত অন্য বাবা-মায়েরা। সেখানে মেয়ে হারানোর কষ্টে ভেঙে পড়েছেন জয়নগরে নির্যাতিতা শিশুর পরিবার। পুজোয় ফেরার আগেই তাঁদের দুর্গা বিসর্জনের রথে সওয়ার।

শুক্রবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ টিউশন পড়ে বাড়ি ফিরছিল বছর নয়ের মেয়েটা। পথে বাবার সঙ্গে শেষবার দেখা করেছিল। তারপর বাড়ি ফেরার পথেই নিখোঁজ হয়ে যায় শিশু। রাত নটায় মহিসুরের স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে ‘মিসিং ডায়েরি’ করতে গেলে পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। সেখান থেকে রাত বারোটায় জয়নগর পুলিশ স্টেশনে এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে মৃতা শিশুর বাবা-মা। এরপর রাত আড়াইটা নাগাদ শিশুর মৃত্য দেহ স্থানীয় একটি জলাশয় থেকে উদ্ধার করা হয়। শনিবার ভোরেই জয়নগরের পুলিশ একটি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে গ্রেফতার করেছে অভিযুক্ত ঊনিশ বছরের এক যুবককে। তবে স্থানীয় ফাঁড়ির দিকে আজ, রবিবার পর্যন্ত আঙ্গুল তুলছেন এলাকাবাসীরা। জনতার রোষ এখন টাটকা। ঘটনাস্থলে গতকাল হাজীর হয়েছিয়েন বারুপুরের পাকিশ কর্তারা।

আরও পড়ুনঃ OPTICAL ILLUSION: বিচক্ষণ পর্যবেক্ষণ শক্তি প্রয়োগ করে ছবি দুটি থেকে ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে ৩ টি পার্থক্য খুঁজে বের করে দেখান

স্থানীয়দের কথায় এই প্রথম নয়, বরং এমন পুলিশি পরিষেবা দেখে তারা অভ্যস্থ। সংবাদ মাধ্যম তাঁদের একাংশ জানিয়েছেন, “ফাঁড়িটা আছে নামেই। গ্রামবাসীর কাজে লাগে না। চুরি-ডাকাতি হলেও পুলিশের সাহায্য পাওয়া যায় না।” আর এক গ্রামবাসীর অভিযোগ, “সম্প্রতি মোবাইল চুরির অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলাম। কাজ তো হয়ইনি, উল্টে পুলিশ টাকা চেয়েছিল।” তাঁর প্রশ্ন, “আমাদের মেয়েটার বেলায় একটু আগে তদন্ত করতে পারল না ওরা! তাহলে হয়তো মেয়েটা প্রাণে বেঁচে যেত।” ক্ষুব্ধ জনতা গতকালই অগ্নিনিক্ষেপ থেকে শুরু করে ভাঙচুর করেছিল ফাঁড়িতে। পাল্টা দিয়েছিল পুলিশও। লাঠি চার্জ থেকে কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে দেখা গিয়েছিল জনতার দিকে। শনিবার বারুইপুরের জেলার পুলিশ সুপার পলাশচন্দ্র ঢালি জনতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, “পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ঠিক নয়। ওই বালিকার পরিবারের সদস্যেরা যাওয়ামাত্রই ফাঁড়ির পুলিশ জেনারেল ডায়েরি করে তদন্ত শুরু করে। পরে থানায় অভিযোগ হয়। বালিকাকে খোঁজার পর্বে পুরো সময়টাই ফাঁড়ির এক পুলিশকর্মী ওই পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। ফাঁড়ির তরফে কোনও গাফিলতি হয়নি। এরপরেও যাঁরা ফাঁড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

মর্মান্তিক ঘটনার আজ তৃতীয় দিন। অপরদিকে আরজি করে ঘটনার দু’মাস পূর্ণ হতে আর বাকি মাত্র তিনদিন। এখনও অভয়ার বাবা-মা চাতকের মত তাকিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দিকে। এখনও সুবিচার পায়নি তাঁরা। জয়নগরের ঘটনা যেন আর একবার আরজি করের স্মৃতিকে টাটকা করে তুলেছে। দগদগে ঘায়ে যেন নুনের ছিটে। এদিন নিম্ন আদালতে শিশু হত্যার অভিযুক্তের হয়ে আইনি লড়াই লড়তে রাজি হননি কোনও আইনজীবী। খুনের অপরাধ স্বীকার করলেও ধর্ষণ করেনি বলে দাবি যুবকের। এখনও অশান্ত মহিষমারি, স্থানীয়দের মনে একটাই প্রশ্ন বিচার পাবে তো তাঁদের বাচ্চা মেয়েটি!

About Post Author