Home » South Africa vs India: সঞ্জু-তিলকের ব্যাটিং তাণ্ডব, ওয়ান্ডারার্সে সিরিজ জয় ভারতের

South Africa vs India: সঞ্জু-তিলকের ব্যাটিং তাণ্ডব, ওয়ান্ডারার্সে সিরিজ জয় ভারতের

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১৬ নভেম্বরঃ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দাপুটে জয় ভারতের। গত বুধবার সেঞ্চুরিয়নে জিতে দ্বিদেশীয় সিরজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিলেন সূর্য কুমার যাদব অ্যান্ড কোং। শুক্রবার ওয়েন্ডারার্সে সেই ব্যবধান ৩-১ করে ফেললেন তাঁরা। এ দিন প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১ উইকেটে ২৮৩ রান তুলেছিল মেন ইন ব্লু ব্রিগেড। রান তাড়া করতে নেমে ১৮.২ ওভারে ১৪৮ রানে শেষ হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। চতুর্থ ম্যাচে ভারত জিতল ১৩৫ রানে।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক সূর্য কুমার যাদব। অধিনায়কের সিদ্ধান্তের প্রতি সুবিচার করলেন ভারতীয় ব্যাটাররা। প্রথম ওভারে ভারতের দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসনকে কিছুটা চাপে রেখেছিলেন মার্কো জ্যানসেন। দ্বিতীয় ওভার থেকে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নেন দুই ওপেনার। প্রথম ম্যাচে শতরান পেলেও, শেষ দুটি ম্যাচে রানের খাতা না খুলেই ফিরতে হয়েছে সঞ্জুকে। তাই প্রথম দিকে কিছুটা সাবধানে খেলছিলেন। তবে নিজেকে থিতু করতে খুব বেশি সময় লাগেনি সঞ্জুর। অন্য প্রান্তে শুরু থেকেই চাপমুক্ত ব্যাটিং করছিলেন অভিষেক। পাওয়ার প্লে-তে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে একের পর এক বল মাঠের বাইরে পাঠালেন বাঁ হাতি ওপেনার। প্রথম উইকেটে দুজনের ৫.৫ ওভারে ৭৩ রানের জুটি বড় রানের ভিত গড়ে দেয়। ১৮ বলে ৩৬ রান করে আউট হন অভিষেক। ২ টি চার ও ৪ টি ছয় মারেন তিনি। অভিষেক ফিরলেও বিন্দুমাত্র চাপে পড়েনি ভারত। দ্বিতীয় উইকেটে সঞ্জুর সঙ্গে দলের হাল ধরেন তিলক বর্মা। যে ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়ে অভিষেক সাজঘরে ফেরেন, তাকে সুনামিতে পরিণত করলেন তাঁরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের নিয়ে কার্যত ছেলেখেলা করলেন। তারমধ্যে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল প্রোটিয়া ব্রিগেড।  কিন্তু বার চারেক ক্যাচ ফস্কিয়ে কার্যত ভারতের বড় ইনিংস ও সিরিজ জয়ের পথকে প্রশস্ত করলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডাররা। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় উইকেটে ২১০ রানের জুটি গড়লেন দুজনে। ৬ টি চার ও ৯ টি ছয়ের সাহায্যে ৫৬ বলে ১০৯ রানে অপরাজিত রইলেন সঞ্জু। অন্যপ্রান্তে তাঁকেও ছাপিয়ে গেলেন তিলক। দ্বিতীয় ম্যাচের পর এই ম্যাচেও শতরান করলেন। ৪৭ বলে ১২০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেললেন। তাঁর ব্যাট থেকে এল ৯ টি চার ও ১০ টি ছয়। ভারতের ইনিংস শেষ হয় ২৮৩ রানে।

আরও পড়ুনঃ Optical Illusion: মাত্র ৫ শতাংশ পাঠক ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে নিচের ছবি দুটি থেকে ৩ টি পার্থক্য খুঁজে বার করতে পেরেছেন, আপনিও কি তাদের একজন?

অতীতে বড় রান তাড়া করে জয়ের নজির দক্ষিণ আফ্রিকার রয়েছে। কিন্তু সেই দলের সঙ্গে এই দলের মানসিকতার ফারাক রয়েছে। তারপর অর্শদীপ সিং ও হার্দিক পাণ্ডিয়ার বোলিংয়ের সামনে কার্যত আত্মসমর্পণ করলেন প্রোটিয়া ব্যাটাররা। চার ওভারের মধ্যে ১০ রানে প্রথমসারির চারজন ব্যাটার ফিরে গেলেন সাজঘরে। আর্শদীপের বিষাক্ত সুইংয়ের শিকার হলেন তিনজন। বাকিটা নিলেন হার্দিক। পঞ্চম উইকেটে কিছুটা দলের হাল ধরেন ট্রিস্টিয়ান স্টাবস ও ডেভিড মিলার। গড়েন ৮৬ রানের জুটি । তারপর ডেভিড মিলারকে ফিরিয়ে আয়োজক শিবিরে ধাক্কা দেন বরুণ চক্রবর্তী। পরের বলেই স্টাবসকে আউট করেন বিষ্ণোই। তখন ভারতের ম্যাচ জয় ছিল স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত ১৪৮ রানে গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি ৩-১ ব্যবধানে সিরিজও জিতে নেয় ভারত। ম্যাচ ও সিরিজের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন তিলক বর্মা।

About Post Author