সময় কলকাতা ডেস্ক, ৫ ডিসেম্বরঃ ফের মহারাষ্ট্রের মহা-মসনদে দেবেন্দ্র ফড়নবীশ । তৃতীয়বারের জন্য মহারাষ্ট্রের কুর্সিতে বসলেন তিনি। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানে প্রায় ৪২ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণ করলেন ফড়নবীশ। তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করালেন সে রাজ্যের রাজ্যপাল সিপি রাধাকৃষ্ণণ। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ অন্যন্য বিশিষ্টরা।

মহাবিকাশ আগাধিকে ধরাশায়ী করে মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বচানে জয়ী হয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ‘মহাজুটি’ জোট। তারপরে সেই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান কে হবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল জটিলতা। বিজেপির দুই মূল জোটসঙ্গী শিণ্ডে শিবসেনা ও অজিত ন্যাশানালিস্ট কংগ্রেস পার্টির মধ্যে ক্ষমতা বন্টন নিয়ে চলছিল টানাপোড়েন। দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত দুই জোটসঙ্গীর গ্রিন সিগন্যাল পেয়েই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নিলেন দেবেন্দ্র ফড়নবীশ । দুই শরিকের দুই প্রধান সেনাপতি অর্থাৎ শিণ্ডে গোষ্ঠীর প্রধান তথা মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডে ও অজিত এনসিপির প্রধান অজিত পাওয়ার একই দিনে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথগ্রহণ করেছেন।
মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বসেছিল চাঁদের হাঁট। দিল্লি থেকে উড়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, বিজেপি সভাপতি জেপি নড্ডা-সহ কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশে এনডিএ-র জোটসঙ্গী তেলুগু দেশম পার্টি প্রধান তথা বর্তমান সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়া দলের প্রধান রামদাস অঠওয়ালে। শুধু তাই নয় শিল্প-বাণিজ্য, চলচ্চিত্র তারকারাও উপস্থিত হয়েছিলেন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খান, অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত, শিল্পপতি কুমারমঙ্গলম বিড়লা-সহ অন্যান্যরা। মহারাষ্ট্রের নানা প্রান্ত থেকে প্রায় ৪২ হাজার মানুষও উপস্থিত ছিল এই শপথ অনুষ্ঠানে। তবে এ দিনের অনুষ্ঠান এড়িয়ে গিয়েছে বিরোধী জোট ‘মহাবিকাশ আঘাড়ি’র নেতৃত্ব।
জানা গিয়েছে চলতি মাসেই হতে চলেছে ‘মহাজুটি’ মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ। উপমুখ্যমন্ত্রী হলেও রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের দাবিতে অনড় শিণ্ডে শিবির বলে দাবি করা হয়েছে একটা সূত্রে। বিদায়ী সরকারের প্রধান শিণ্ডে হলেও উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ফড়নবীশ। তাই নতুন মন্ত্রীসভায় সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাইছে শিণ্ডে শিবির। যদিও তাঁদের দাবি মানতে রাজি নয় বিজেপি। আগামী দিনে ক্ষমতাবন্টন নতুন করে ‘মহাজুটির’ ঘরে নতুন অশান্তির সৃষ্টি করে কিনা সেদিকে নজর থাকবে দেশবাসীর।


More Stories
ঋতব্রতদের সম্পর্কে কুণাল ঘোষের বক্তব্য কেন তাৎপর্যপূর্ণ?
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
অভিষেকের উপর হামলার নেপথ্যে কারা?