সময় কলকাতা ডেস্ক, ৮ ডিসেম্বর : জার্মানির হ্যামলিন নয়, স্পেনের বাসিন্দা তিনি। তবুও আশ্চর্য এক বাঁশিওয়ালা হয়ে বিপন্নতাকে দূর করছেন তিনি। হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা ভয়াবহ ইঁদুরের উপদ্রব থেকে শহরকে রক্ষা করেছিল। অস্কার ব্রুজো টানা হারের হাত থেকে ইস্টবেঙ্গলকে রক্ষা করেছেন, বৃহত্তর লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন । এক আশ্চর্য মন্ত্রবলে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা তিনি হয়ে উঠেছেন মনে হলেও তাঁর আমলে ইস্টবেঙ্গলের উত্থান আশ্চর্য কিছু নয় বরং স্বাভাবিক তা তাঁর আইএসএলে টানা দ্বিতীয় জয়ের পরে সাংবাদিক সম্মেলন থেকে সুস্পষ্ট। ইস্টবেঙ্গল বিষ্ণু ও জিকশন সিংয়ের করা দুটি গোলে চেন্নাইয়ানকে হারানোর পরে তিনি খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব দিলেও মাথায় রাখতে হবে যে,এই লাল হলুদ বাহিনীই কুয়াদ্রাতের আমলে একটানা আছাড় খেয়েছে। একটা সময় টানা ছয় ম্যাচের হারের সামনে পড়তে হয়েছে। ব্রুজোর ইস্টবেঙ্গল খারাপ সময়ের প্রতিকূলে যাওয়ার নজির গড়ছে, ইঙ্গিত দিচ্ছে । আইএসএল ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গল দলের টানা দ্বিতীয় জয় দ্বিতীয় বার। টানা তিন ম্যাচে ক্লিনশিট। নজন মিলে ৭০ মিনিট ধরে এগারো জনের দলকে আটকে রাখা। আইএসএলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্লাব টুর্নামেন্টে প্রতিবেশী দেশের সেরা ক্লাবকে গোলের মালা পরানো। হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা ব্রুজো বদলে দিয়েছেন অনেক কিছুই। কোন অদৃশ্য মন্ত্রবল কাজ করছে এরকম পরিবর্তনে ?

শনিবার চেন্নাইয়ানকে তাদের ঘরের মাটিতে বধ করার পরে নিজেদের ট্যাকটিকস কিছুটা হলেও খোলসা করেছেন। তিনি বলেছেন, আরও বেশি জয় আসতে পারত এবং
লাল হলুদের স্প্যানিয়ার্ড কোচ চেন্নাইয়িন এফসির লড়াইয়ের মনোভাব এবং শারীরিক গুণাবলী মেনে নিয়েছেন। ব্রুজো তাঁর খেলোয়াড়দের ওপরে খুশি কারণ ট্যাকটিকাল কৌশলগুলি লাল হলুদ খেলোয়াড়রা নিখুঁতভাবে কার্যকর করেছিল, যার ফলে জয় হয়েছে “ক্লিনিকাল”।
“ফিফটি ফিফটি বল দখলের লড়াইয়ে দ্বিতীয় বল এবং লম্বা ক্ষেত্রে তারা (আমাদের ফুটবলাররা )প্যাটার্ন বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। সুতরাং, খেলার প্রথম পর্যায়ের নির্দেশ ছিল তাদের ধরে রাখা, কম্প্যাক্ট হওয়া এবং আমাদের নিজেদের অর্ধে তাদের আরও আক্রমণ করা কারণ আমরা জানতাম যে আমরা ৯০ মিনিটের জন্য চাপ ধরে রাখতে পারব না।” ব্রুজো আরও বলেছেন,চিমা চুকু ও কোনোর শিল্ড যতই আক্রমণ করুক এলাকার দখল ইস্টবেঙ্গলের কাছেই ছিল।”প্রথমার্ধের শেষ পর্যায়ে, প্রথমার্ধের মাঝের বিরতির ১০-১৫ মিনিট পরে, আমি মনে করি আমাদের দল আরও এগোতে শুরু করেছিল এবং আরও সুযোগ তৈরি করেছিল।আর দ্বিতীয়ার্ধে, আমি মনে করি যে আমার খেলোয়াড়দের কৌশলগত শৃঙ্খলা দুর্দান্ত ছিল।”প্রথম গোল যে ম্যাচে জয় আসার ক্ষেত্রে অনুঘটকের কাজ করেছে তাও জানিয়েছেন তিনি।
সবমিলিয়ে দলের রপ্ত করা কৌশল নিয়ে খুশি ব্রুজো। কিন্তু হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালার উন্নতি তো আর রাতারাতি আসে নি! দল যে প্রতি ম্যাচে উন্নতি করছে তাঁর পেছনে রয়েছে প্রখর অনুশীলন তা পরিষ্কার। ফিটনেস ঘাটতি ইস্টবেঙ্গল দলের যে প্রধান দুর্বলতা ছিল তা নর্থ ইস্ট ও চেন্নাইয়ান ম্যাচ দেখলেই মালুম হবে। ডায়ামানটাকোস ও ক্লেটন নড়তেই পারছিলেন না কিছুদিন আগে। আগের ম্যাচে ডায়ামানটাকোস গোল পেয়েছেন। চেন্নাইয়ান ম্যাচে ক্লেটনকে দেখে মনে হয়েছে যেকোনও সময় গোল পেতে পারেন। দৌড়াচ্ছে, ইস্টবেঙ্গল দৌড়াচ্ছে।।
হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা #হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা
আরও পড়ুন বয়স হার মানছে সুনীলের কাছে


More Stories
গিল -রাহুলের শতরান, বড় ইনিংস গড়ছে ভারত
টি-টোয়েন্টি-তে ভারতের নতুন অধিনায়ক শ্রেয়স, দলে বৈভব
সিরিজ জিতল পাকিস্তান