সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ ডিসেম্বর: এক দেশ এক নির্বাচনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় পাশ হল ‘এক দেশ এক ভোট’। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার মোদির মন্ত্রিসভা তাঁর এই সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে। তবে মন্ত্রীসভার তৃণমূলের প্রতিনিধিরা এর তীব্র বিরোধিতা জানিয়েছে। মমতার দলের সঙ্গেই গলা মিলিয়েছে সিপিএম এবং কংগ্রেসের সদস্যরাও। যদিও বিরোধীদের বক্তব্য উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি।
আরও পড়ুন: লক্ষীর ভান্ডারই ভরসা আম আদমি পার্টির?
বিজেপির এক দেশ এক ভোটের বিরোধিতা করেছেন তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। একই সুর শোনা গিয়েছে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর গলায়ও। তাঁর কথায়, “এক দেশ, এক নির্বাচন নিয়ে আমাদের বক্তব্য ও অবস্থান অনেকদিন ধরেই স্পষ্ট। এটা সম্পূর্ণ ভুল একটা বিষয়। আমাদের দেশে পাঁচ বছর অন্তর ভোট হয় মানুষের আস্থা-অনাস্থাকে মাথায় রেখেই। এক ভোট চালু হলে তো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকেই দেশ সরে আসবে।” তৃণমূল সিপিএমের সঙ্গে এক দেশ এক নির্বাচনের বিরোধিতা করেছে লোকসভায় বিজেপির বিরোধী দল কংগ্রেসও। যদিও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া পাত্তাই দিতে রাজি নন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল আমাদের বিরোধী দল। ওদের কাজই সব কিছুর বিরোধিতা করা। কিন্তু সরকার ঠিক করেছে, সরকার ছাড়পত্র দিয়েছে তা কার্যকর হবে। দেশের মানুষ বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেবে, আর কোন কাজ নেই? প্রশাসন দুমাস অন্তর বিভিন্ন ভোট করাবে, আর কোনও কাজ নেই তাদের? দেশের মানুষের কথা ভেবে কেন্দ্র এই বিল এনেছে। মানুষের ভালোই হবে।”
মোদির ‘এক দেশ, এক ভোটে’র সিদ্ধান্তকে যুক্তিহীন বলে দাবি করছে বিরোধীরা। তাঁরা মূলত যে বিষয়গুলি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তা হল, প্রথমত, দেশের একেক রাজ্যে বিধানসভার মেয়াদ শেষ হয় একেক সময়। একসঙ্গে ভোট করাতে হলে কোনও কোনও রাজ্যের ভোট এগিয়ে আনতে হবে। কোনও কোনও রাজ্যের ভোট পিছিয়ে দিতে হবে। যা পদ্ধতিগতভাবে চরম সমস্যার। এবং তাতে ক্ষমতায় থাকা মুখ্যমন্ত্রীর মেয়াদ কমাতে বা বাড়াতে হবে।
দ্বিতীয়ত, লোকসভা এবং বিধানসভা ভোট চরিত্রগতভাবে আলাদা। দুটি ভোটের প্রচার, রাজনৈতিক লড়াই সবেরই চরিত্রগত বৈচিত্র নষ্ট হবে।
তৃতীয়ত, কোনও রাজ্যে বা কেন্দ্রে মেয়াদের মাঝপথে সরকার পড়ে গেলে ফের সেই রাজ্যে বা কেন্দ্রে নির্বাচন করানোর প্রয়োজন পড়বে। ফলে এক দেশ-এক নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্যপূরণ হবে না।
চতুর্থত, বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচন আলাদাভাবে হয়, তাই একটি কেন্দ্রে একটি ইভিএমেই কাজ চলত। এবার সেটা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে দ্বিগুণ হয়ে যাবে ভিভিপ্যাটের খরচও। একটি ইভিএমের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ বছর। ফলে ১৫ বছর পর পর ইভিএমের পিছনে ওই বিপুল খরচ করতে হবে।
এবং পঞ্চমত, একসঙ্গে ভোট করাতে হলে ভোটকর্মী এবং নিরাপত্তাকর্মীদের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে। এছাড়াও দুটি ভোট একসঙ্গে হলে নিরাপত্তা রক্ষা করতে যে বিপুল পরিমাণ নিরাপত্তা রক্ষী লাগবে তা সঠিকভাবে যোগান দেওয়া যাবে কি না? তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে ওয়াকিবহাল মহল।


More Stories
প্রয়াত প্রাক্তন সাংসদ সুধাংশু শীল
বন্ধ হচ্ছে না কোনও চালু প্রকল্প, আর কী জানালেন শুভেন্দু
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?