স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১৮ ডিসেম্বরঃ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন । দীর্ঘ ১৪ বছর দেশের জার্সিতে তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটেই চুটিয়ে খেলেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে দলে সুযোগ পাচ্ছিলেন না। যখনই সুযোগ পেয়েছেন নিজেকে প্রমাণ করেছেন অশ্বিন । অস্ট্রেলিয়া সফরের মধ্যেই তাঁর অবসর নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। মনে করা হয়েছিল সিরিজ শেষে ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন ৩৮ বছরের অশ্বিন। কিন্তু গাব্বা টেস্টের পরেই নিজের অবসরের কথা ঘোষণা করলেন ভারতীয় স্পিনার। ফলে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির শেষ দুই টেস্টে তাঁকে পাবে না ভারত। তবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে আগামী মরশুমেও খেলতে দেখা যাবে দেশের অন্যতম কিংবদন্তী ক্রিকেটারকে।

গাব্বা টেস্টের শেষ দিনে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই ইঙ্গিত মিলেছিল। ক্যামেরায় দেখা যায় বিরাট কোহলির পাশে বসে রয়েছেন অশ্বিন। দুজনের মধ্যে বেশ কিছু কথাবার্তা হয়। তার পরেই কেঁদে ফেলেন অশ্বিন। তখনই তাঁকে জড়িয়ে ধরেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। এক সময়ের সতীর্থ বর্তমানে কোচ গৌতম গম্ভীরের সঙ্গেও কথা বলতে দেখা যায় অশ্বিনকে। তখনই জল্পনা শুরু হয়েছিল। তা আরও উস্কে দেন ধারাভাষ্যকাররা। ম্যাচ শেষ হতেই সব জল্পনায় সিলমোহর দেন অশ্বিন নিজেই। অধিনায়ক রোহিত শর্মার সঙ্গে হাজির হন সাংবাদিক সম্মেলনে। সেখানে তিনি বলেন, “ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক তিন সংস্করণের ক্রিকেটে এটা আমার শেষ বছর।” তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার ইঙ্গিত দিয়েছেন অশ্বিন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় এখনও আমার মধ্যে কিছুটা ক্রিকেট বাকি রয়েছে। তাই ক্লাবস্তরের ক্রিকেট চালিয়ে যাব। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এখানেই শেষ করলাম।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি রোহিত ও বাকি সতীর্থদের সঙ্গে অনেক মজা করেছি। যদিও তাঁদের অনেকে ইতিমধ্যে অবসর নিয়ে ফেলেছেন। আজ আমার দিন।” ক্রিকেট জীবনে সাফল্যের জন্য সতীর্থ, কোচ ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অশ্বিন।
আরও পড়ুনঃ New Zealand vs England: জয় দিয়ে শেষ হল কিউয়ি ক্রিকেটে সাউদি অধ্যায়
২০১০ সালের ৫ জুন শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক একদিনের ক্রিকেটে অভিষেক হয় অশ্বিনের। সেই বছরেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবোয়ে। একদিন ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রায় দেড় বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম খেলার সুযোগ পান রবিচন্দ্রন অশ্বিন । দীর্ঘ ক্রিকেট ক্যারিয়ারে মোট ১০৫টি টেস্ট খেলেছেন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৫৩৭টি উইকেট। ভারতের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ৩৭ বার এক ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট পেয়েছেন। শুধু বল হাতেই নয় ব্যাট হাতেও করেছেন ৩৪৭৪ রান। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৬টি শতরান ও ১৪টি অর্ধশতরান। ২০১১ সালে দেশের মাটিতে একদিনের ক্রিকেটে বিশ্বসেরা হয় ভারত। সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ডান-হাতি স্পিনার। এছাড়াও দেশের জার্সিতে জিতেছেন দুটি এশিয়া কাপ ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি।


More Stories
ছয় বিদেশীতে মোহনবাগান প্রস্তুত, জেরবার ইস্টবেঙ্গল, কবে আসছেন এফিয়ং?
সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তানের ৭ প্লেয়ার ছাঁটাই
ব্রাজিল ম্যাচের ভারতীয় দল ঘোষিত