Home » হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানো নিয়ে এখনই পদক্ষেপ নয়

হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানো নিয়ে এখনই পদক্ষেপ নয়

সময় কলকাতা ডেস্ক:-বিদ্বেষের বাংলাদেশে প্রায় দেড় মাস ধরে জেলবন্দি ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ। গত ২রা জানুয়ারি শুনানিতে জামিন মেলেনি। প্রতিবাদে দফায় দফায় চলছে প্রতিবাদ। এসবের মাঝেই এবার বাংলাদেশে ইসকনের সাধু চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, চিন্ময়কৃষ্ণ দাস সহ সমস্ত গ্রেফতার হওয়া হিন্দু যেন স্বচ্ছ বিচার পান। এ ব্যাপারে নিশ্চিত করতে হবে সেদেশের তদারকি সরকারকে।বাংলাদেশে প্রায় দেড় মাস ধরে জেলবন্দি সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভু। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম আদালতে ফের খারিজ হয়ে যায় তাঁর জামিনের আবেদন। বিচারের নামে কার্যত প্রহসন করছে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। চিন্ময় প্রভুর সুবিচারের দাবিতে ফের সুর চড়াল ভারতও। ঢাকাকে কড়া বার্তা দিয়ে দিল্লি বলল, সুবিচার করা হোক।

বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশে চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের মুক্তির বিষয়ে ভারতের আশা, যারাই গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁরা যেন স্বচ্ছ বিচার পান। ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ইস্কনের সন্ন্যাসীকে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের আদালতে তোলা হয় তাঁকে। আনা হয় রাষ্ট্রদোহ মামলা। তখন থেকে চিন্ময়কৃষ্ণ গ্রেফতারির পরে জেলে রয়েছেন। এমনকী তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে গত ২৯ নভেম্বর ইসকনের আরও দুই সাধু গ্রেফতার হয়ে জেলে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ সাইফুল ইসলাম চিন্ময়ের জামিন নামঞ্জুর করে দেন। শুনানিতে বন্দি সন্ন্যাসীর পক্ষে সওয়াল করেন সুপ্রিম কোর্টের ১১ আইনজীবীর একটি দল। তবে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে চিন্ময়কে আদালতে হাজির করা হয়নি। আদালতে আইনজীবীর উপস্থিতিতে ভার্চুয়াল হাজিরায় জামিন শুনানি হয়। এর আগে একাধিকবার তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে আশা করা হয়েছিল যে, তিনি ছাড়া পেতে পারেন। কিন্তু, চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা বিচারক মহম্মদ সইফুল ইসলামের আদালত দুই পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শোনার পর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন।

শুক্রবার এনিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে কথা বলেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে। ভারত তাঁর দ্রুত সুবিচারের দাবি জানাচ্ছে।  তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, চিন্ময়কৃষ্ণকে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেফতার করেছে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের পুলিশ। দোষী সাব্যস্ত হলে সাজা যাবজ্জীবন জেল। পাশাপাশি, চিন্ময়ের নাম ইতিমধ্যে একটি হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। তবে হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে মৌলবাদীদের হাতে নিপীড়িত হিন্দুদের হয়ে আওয়াজ তোলার জন্যই তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে, একথা স্পষ্ট। এবার ফের একবার জামিন খারিজ হয়ে যাওয়ায় সুবিচার চাইল ভারতও।যদিও শনিবার সকাল পর্যন্ত ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের এই মন্তব্যের পাল্টা কোন মন্তব্য করেনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। দেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বরাবরই মৌনব্রত পালন করে চলেছে অন্তর্ভুক্তি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস। উপরন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে না। সামাজিক প্রচার মাধ্যমে মোহাম্মদ ইউনূসের এই মৌনব্রত পালন নিয়ে সরব হয়েছে নেট নাগরিকরা।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে হাসিনাকে বাংলাদেশের ফেরানোর বিষয়ে ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছে। সেই বিষয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করেছেন পাশাপাশি জানিয়েছেন হাসিনাকে বাংলাদেশের ফেরানোর বিষয়ে এখনই কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না।অর্থাৎ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূ‌স সহ তার সহযোগী উপদেষ্টাদের প্লান এখনই কার্যকরী হচ্ছে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনকে বিলম্বিত করে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ফেরানোর বিষয় তৎপর। এখনই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরাতে পারলে তার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চালু হবে সে ক্ষেত্রে ক্ষমতার কুক্ষিগত করে সরকার চালানোর জন্য আরও অধিক সময় পাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল নির্বাচন দ্রুত করার বারবার আবেদন জানাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই আবেদনের কর্ণপাত না করে নির্বাচন ২০২৬ সালে হওয়ার কথা জানিয়েছে। এমত পরিস্থিতিতে যদি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানো যায় সেক্ষেত্রে নির্বাচনকে আরও পিছিয়ে নিয়ে যেতে পারবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সেই প্রচেষ্টাতেই কার্যত জল ঢেলে দিল ভারত সরকার।

About Post Author