Home » পাক ভালোবাসা নাপাক হতে পারে মোহাম্মদ ইউনূসের ক্ষেত্রে

পাক ভালোবাসা নাপাক হতে পারে মোহাম্মদ ইউনূসের ক্ষেত্রে

সময় কলকাতা ডেস্ক:-এক যুগ পর বাংলাদেশে যাচ্ছেন পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রী। ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে ঢাকা-ইসলামাবাদের। পাক নাগরিকদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে ইউনূস সরকার। নজর রাখছে ভারত। প্রায় ১ যুগ পর ঘটতে চলেছে এমন ঘটনা। আগামী মাসে ঢাকা সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশহাক দার। ইসলামাবাদে তিনি নিজেই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ২০২৫-এ তাঁর অন্যতম কর্মসূচি হল ঢাকা সফর। আগামী ৫ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তিনি ঢাকা যাবেন। এখানে বলে রাখা ভালো, ইশহাক দার পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রীও। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতেতে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী তথা উপপ্রধানমন্ত্রী ইশহাক দারের বাংলাদেশ সফর অনেক দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১২ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী হিনা রব্বানী খার ঢাকা সফর করেছিলেন। সেই সফরে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের নিজস্ব ভবন তৈরি করা হবে। সেই কাজ এখনও শেষ হয়নি। এবার হাসিনাহীন বাংলাদেশে যাচ্ছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী।

৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারে পতনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক তার অন্যতম। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দুই দেশই ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে। শেখ হাসিনাহীন বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে ইসলামাবাদের সঙ্গে। চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে পাক জাহাজ। বাংলাদেশের জায়গায় জায়গায় দেখা গিয়েছে পাকিস্তানের পতাকাও। চর্চা চলছেই। সেই চর্চাতেই কার্যত ঘি ঠালল পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রীর ঢাকা সফরের এই ঘোষণা। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশকে ‘হারিয়ে যাওয়া ভাই’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। যা নিয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারত।

ঘটনাচক্রে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গেই গত পাঁচ মাসে দু’বার বৈঠক হয়েছে মহম্মদ ইউনূসের। ইউনূস সরকারের ৫ মাসে সম্পর্কের উন্নতিতে নজিরবিহীন কিছু পদক্ষেপ করেছে দুই দেশ। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই প্রথম করাচি থেকে সরাসরি পাকিস্তানের পণ্যবাহী জাহাজ চট্টগ্রামে যাচ্ছে। এতদিন শ্রীলঙ্কা অথবা সিঙ্গাপুর হয়ে পণ্য আনা-নেওয়া হত। নাগরিকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে দুই দেশই তাদের নাগরিকদের জন্য ভিসার ব্যবস্থা সহজ করে দিয়েছে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, ভারতকে চাপে রাখার কৌশল হিসাবেই দ্রুত ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। এই পরিস্থিতিতে সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারত। ইশহাক দারের ঢাকা সফর নিয়ে ইতিমধ্যে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের হাল ধরেছেন মহম্মদ ইউনুস। তার অধীনে থাকা বাংলাদেশে বারবার আক্রান্ত হচ্ছে হিন্দুরা। সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ জারি থাকার পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে সখ্যতাও বেড়েছে পাকিস্তানের।

এদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্যতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাল মিলিয়ে মাথাচারা দিয়েছে পাকপন্থী জামাত। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বাড়িয়ে তুলেছে আনসারুল্লা বাংলা টিম বা এবিটি। যাদের যোগাযোগ রয়েছে বিভিন্ন পাক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে। আর এবিটিই এখন ভারতকে রক্তাক্ত করার ছক কষছে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকার ১৭৪ জন জঙ্গিকে জেল মুক্তি করিয়েছে। ফলে বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তার করে ভারতে সন্ত্রাস ছড়াতে পারে পাকিস্তান। পাক নাগরিকদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে ইউনূস সরকার। নজর রাখছে ভারত। আর ভারতের এই নজর রাখাকে কৌশলে দেশে ভারত বিদ্বেষের কাজে লাগাচ্ছে মোহাম্মদ ইউনূস। দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা, মুদ্রাস্ফীতি, সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য, আইনশৃঙ্খলা কার্যত হাতের বাইরে, দেনার দায়ে জর্জরিত সরকার। এরই মাঝে বিপিএলকে কেন্দ্র করে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা দিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল পাকিস্তানের গায়ক রাহাত ফতে আলী খানকে। দেশজুড়ে উঠেছিল সমালোচনার ঝড়। তাতেও কর্ণপাত করেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বাংলাদেশের এক শ্রেনীর বুদ্ধিজীবীদের মত আদতে সরকার দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক দুর্দশার চিত্রকে লুকানোর জন্য এই পাকিস্তান প্রীতি। অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলানো বাংলাদেশের পক্ষে কতটা সুখকর হবে সে প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের জনগণের মধ্য থেকেই। আসলে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য পাকিস্তানপন্থী জামাতকে তুষ্ট রাখা। আর সেই কারণেই জামাত দ্বারা সংখ্যালঘু নির্যাতন কার্যত দেখেও দেখছে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বাংলাদেশের এই পাকিস্তান প্রীতি অতীতের ইতিহাস ফিরিয়ে আনবে কিনা? সেটা সময় বলবে।

About Post Author