Home » বর্ধমান বা শিলিগুড়ি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা কলকাতায় প্র্যাকটিস করতে পারবেন না!

বর্ধমান বা শিলিগুড়ি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা কলকাতায় প্র্যাকটিস করতে পারবেন না!

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল এডুকেশন বা হেল্থ সার্ভিসে কর্মরত কোনও চিকিৎসক তাঁর কর্মস্থল থেকে ২০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে গিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। অর্থাৎ কলকাতার কোনও মেডিকেল কলেজের টিচিং ফ্যাকালটি বা ডাক্তারবাবু শহর থেকে ২০ কিলোমিটারের বেশি দূরে গিয়ে চেম্বার করতে পারবেন না। কিংবা কোনও বেসরকারি নার্সিংহোমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না।

এই নিয়ম কি নতুন?

এমন নয় যে এই নিয়ম নতুন। বাম জমানা থেকেই এই নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এতদিন বহু ডাক্তার প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেছেন। সরকারি হাসপাতালে যতটা সময় দেওয়ার কথা অনেকেই তা দেন না বা ফাঁকিবাজি করেন বলেও অভিযোগ। প্রথামতো নবান্ন পুরনো বিজ্ঞপ্তি ফের প্রকাশ করেছে। বলা যেতে পারে, পুরনো নিয়ম পুনর্নবীকরণ করা হয়েছে।

 নিয়মে কি রয়েছে?

২০০৬ এবং ২০১১ সালের হেল্থ সার্ভিস রুলে রয়েছে, কোনও চিকিৎসক নন প্র্যাকটিস অ্যালাওয়েন্স না নিলে তিনি প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন। সেজন্য তাঁকে অনুমতি নিতে হবে। সেই আবেদন কীভাবে জানাতে হবে, তাও এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়েছে। তবে দেখার এ যাত্রায় সরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও ডাক্তাররা তা কতটা মেনে চলেন।

তবে অনেকে মনে করছেন, আরজি কর পর্বের প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য ভবনের সঙ্গে চিকিৎসকদের একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য সরকার একাধিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে। তারপর এই বিজ্ঞপ্তি । স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যাচ্ছে আরজি কর আন্দোলন ভালোভাবে নেননি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া, আরজি কর পর্বে এক শ্রেণির চিকিৎসকের আচরণে অসন্তুষ্ট সরকার। সরকারি তথ্য বলছে, একাংশ চিকিৎসক অনিয়ম করে বেড়াচ্ছেন, অথচ সরকারের উদ্দেশে ‘মিটিং মিছিল’ করেছেন। সুতরাং তাঁদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ব্যাপারে যে সরকারি বিধি নিষেধ রয়েছে, তা এবার কঠোর হাতে বাস্তবায়ণ করা জরুরি।

আরজি কর পর্বে দেখা গিয়েছিল, শিলিগুড়ি বা বর্ধমান মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক কলকাতায় এসে প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। শুধু তা নয়, তিনি বা তাঁরা কলকাতায় প্র্যাকটিসও করেছেন। আবার এও দেখা গিয়েছে যে এসএসকেএম বা আরজি কর মেডিকেল কলেজের অনেক চিকিৎসক দক্ষিণবঙ্গের কোনও জেলায় গিয়ে সপ্তাহে একদিন বা দু’দিন চেম্বার করে এসেছেন, অথচ এখানে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন কর্মবিরতি পালন করেছেন।

About Post Author