সময় কলকাতা ডেস্ক :- ইস্তফা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, আস্তে আস্তে অবস্থান পরিবর্তন হচ্ছে কানাডা সরকারের। পাকিস্তানি জঙ্গিদের প্রকারান্তে মদত দেওয়া হচ্ছিল সরকারের পক্ষ থেকে। সেই অবস্থান থেকে আস্তে আস্তে সরে আসছে কানাডা সরকার।
ভারত-বিদ্বেষ এবং ‘খলিস্তান প্রেমের’ জন্য দলের অন্দরে ক্রমে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। শেষমেশ চাপের মুখে গদি ছাড়তে হল তাঁকে। আপাতত, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কার্যনির্বাহী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালাবেন তিনি।
কানাডার শিখ সম্প্রদায়ের ভোটব্যাঙ্ক হাতে রাখতে খলিস্তানিদের মুক্তহস্তে সাহায্য ও রসদ জুগিয়েছেন ট্রুডো। তাঁর আমলেই কানাডার মাটিতে ফুলেফেঁপে ওঠে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিস’ ও ‘বব্বর খালসা’র মতো খলিস্তানি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি।
দেশটির একাধিক শহরে মন্দির ও ভারতীয় কনসুলেটগুলোকে নিশানা করে খলিস্তানিরা।
গত বছর গত জুন মাসে কানাডায় খুন হয় ‘খলিস্তান টাইগার ফোর্সে’র প্রধান হরদীপ সিং নিজ্জর। বলে রাখা ভাল, ‘শিখস ফর জাস্টিস’-এর কানাডার শাখা হচ্ছে ‘খলিস্তান টাইগার ফোর্স’। ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে জড়িত ছিল নিজ্জর। কয়েকবছর আগেই ‘রেফারেন্ডাম-২০২০ প্রচারাভিযান’-এর দায়িত্বও পায় নিজ্জর। তাঁকে প্রায়শই ভ্যানকোভারের ভারতীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভে সামিল হতে দেখা গিয়েছিল। ওই ঘটনার পরই ট্রুডো দাবি করেন, নিজ্জরের হত্যার নেপথ্যে ভারতের হাত রয়েছে। তবে অভিযোগের সমর্থনে আজ পর্যন্ত কোনও প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য
এই পরিস্থিতিতে ‘আমেরিকার ৫১ তম অঙ্গরাজ্য হোক কানাডা’, প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর ইস্তফার মধ্যেই প্রতিবেশী দেশকে এমনই প্রস্তাব দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হবু মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বার্তা প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ব রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হয়েছে। কানাডা আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত হলে কী কী সুবিধা তারা পাবে সেটাও জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।
সোশাল মিডিয়ায় ডোলান্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘কানাডার জনগণ চান তাঁদের দেশ যেন আমেরিকার ৫১তম অঙ্গরাজ্য হয়ে ওঠে। কানাডাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যে বিরাট বাণিজ্য ঘাটতি এবং ভর্তুকি দেওয়া দরকার তা আমেরিকা আর সহ্য করতে পারে না। জাস্টিন ট্রুডো এটি জানেন এবং সেই জন্যই তিনি পদত্যাগ করেছেন।’ একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কানাডা যদি আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত হয় তাহলে তাদের কোনও বাণিজ্য শুল্ক দিতে হবে না। করের পরিমাণ অনেক কমে যাবে। এছাড়া চিন ও রাশিয়ার জাহাজ কানাডাকে সর্বদা ঘিরে রাখে। আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত হলে পূর্ণ নিরাপত্তা পাবে কানাডা। একত্রে আমরা এক মহান দেশ হয়ে উঠব।’
আগে করা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য
তবে প্রেসিডেন্ট পদে বসার আগেই ট্রাম্পের এহেন বার্তা এই প্রথমবার নয়। চিনা অধিপত্য বাড়ার অভিযোগ তুলে কিছুদিন আগেই পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ডও নিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য কতটা প্রভাব ফেলেছে
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বক্তব্য অনেকটাই প্রভাব ফেলেছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক সর্বজনবিদিত। সেক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্যে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছে শুরু করেছে ভারত। কারণ যে কানাডা ধীরে ধীরে ভারত বিরোধী হয়ে উঠছিল জাস্টিন ট্রুডোর পদত্যাগের পর সেই হাওয়া অনেকটাই কম বইছে কানাডা জুড়ে।
অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত অনিতা আনন্দের। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যথেষ্টই ভালো সম্পর্ক কানাডার পরিবহন মন্ত্রী অনিতা আনন্দের।। অনিতা আনন্দ যদি কানাডার প্রধানমন্ত্রী হয় সেক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি। সেক্ষেত্রে কানাডায় খালিস্থানি জঙ্গি সংগঠনগুলোর যে উত্থান ঘটছিল সেই উত্থান অনেকটাই কমে যাবে। ভারত তার সুবিধা পাবে।


More Stories
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার
হরমুজ প্রণালী, রান্নার গ্যাস ও তেল এবং ভারত -ইরানের সম্পর্ক
যুদ্ধের জাঁতাকলে ভারত