সময় কলকাতা ডেস্ক:- মালদহে যাচ্ছেন সুব্রত বক্সি। মৃত তৃণমূল নেতা দুলাল সরকারের স্মৃতিতে হবে স্মরণসভা। গোষ্ঠী কোন্দল ঠেকাতেই কি মালদহে যাচ্ছেন সুব্রত বক্সি? উঠছে একাধিক প্রশ্ন।দুলাল সরকার খুনের ঘটনায় মঙ্গলবারই দলের টাউন সভাপতি তথা হিন্দি সেলের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারিকে ইংরেজবাজার থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়। জেরা করা হয় নরেন্দ্রনাথের দুই ভাই ধীরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি এবং অখিলেশ তিওয়ারিকেও। বেশি রাতে গ্রেফতার করা হয় নরেন্দ্রনাথকে। তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় গ্রেফতার তৃণমূলেরই আরেক নেতা। তারপর থেকেই তোলপাড় মালদহ জেলা। কিন্তু কেন ? নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি গ্রেফতার হতেই বুধবার বিস্ফোরক মন্তব্য করেন নারাজ ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। তাঁর কথায়, পুরসভা ভোটের পর গন্ডগোলের পর থেকেই দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। দুলাল সরকারকে হুমকি দিতেও শোনা গিয়েছে নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারিকে।
খুন নিয়ে প্রশ্ন
দুজনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির জেরেই খুন ? প্রশ্ন উঠতেই জানা গেল, ২০২২ সালে দলেরই এক কর্মসূচি সেরে ফেরার পথে আক্রান্ত হয়েছিলেন ইংরেজবাজার শহর তৃণমূলের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারির লোকজন। বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল তাঁদের। সেই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছিল মালদহের জেলা তৃণমূল সহ সভাপতি দুলাল সরকারের বিরুদ্ধে। হামলাকারীরা তাঁরই লোক বলে দাবি করেছিলেন মালদহ শহরের দাপুটে নেতা নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি। তারপর গঙ্গা দিয়ে বড়ে গিয়েছে অনেক জল। কিন্তু, অভিযোগ, নরেন্দ্রনাথ জিইয়ে রেখেছিলেন প্রতিহিংসার আগুনটা। দুলাল সরকার খুনের ঘটনায় নরেন্দ্রনাথের গ্রেফতারির পর সেটাই মনে করছেন জেলার তৃণমূল নেতা কর্মীরা। একই ইঙ্গিত দেন ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। পাশাপাশি, দলেরই এক শ্রেণির মানুষ নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারিকে সাহায্য করছিলেন, তারও ইঙ্গিত দেন কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী।
গোষ্ঠী কোন্দলের তত্ত্ব
স্বাভাবিকভাবেই, মালদহের নেতা দুলাল সরকার খুনের ঘটনায় মালদহেরই তৃণমূল নেতা গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এসেছে গোষ্ঠী কোন্দলের তত্ত্ব। এই পরিস্থিতিতে আগামী ১২ জানুয়ারি প্রয়াত তৃণমূল নেতার স্মৃতিতে স্মরণসভার আয়োজন করেছে শাসকদল। জানা গিয়েছে, ইংরেজ বাজারের ওই স্মরণসভায় হাজির থাকবেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদাররা। তবে কি গোষ্ঠী কোন্দলে লাগাম টানতেই ১২ তারিখ মালদহে যাচ্ছেন তৃণমূলের রাজ্য দুই নেতা। স্মরণসভার শেষে দলের নেতৃত্বদের নিয়ে বৈঠকও করবেন তাঁরা। এমনটাই জেলা তৃণমূল সূত্রে খবর।
কেন মালদহে সুব্রত বক্সী
এখানে বিষয় হল, তৃণমূলের সাংগঠনিক রদবদলও এ মাসে হওয়ার কথা। তার আগে মালদহে রাজ্য নেতৃত্বর এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত পর্যবেক্ষকদের। বুধবারই খুনের নেপথ্যে গোষ্ঠী কোন্দলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছিলেন ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। তবে কৃষেন্দু নারায়ণ একথা বললেও দুলাল সরকার খুনে নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি গ্রেফতার হতেই প্রকাশ্যে এসে পড়েছে গোষ্ঠী কোন্দলের তত্ত্ব। ইতিমধ্যে ধৃত তৃণমূল নেতার পরিবারের তরফেও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২২ সালে দলের একটি কর্মসূচি ঘিরে দুলাল বনাম নরেন্দ্রর লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছিল। ফলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই কার্যত অস্বস্তিতে দল। তাই প্রশ্ন উঠছে, গোষ্ঠী কোন্দল ঠেকাতেই কি মালদহে যাচ্ছেন সুব্রত বক্সি?


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
জার্সিতে যৌন অপরাধে প্রাক্তন শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?