সময় কলকাতা ডেস্ক:-দোকান দেওয়া হয়েছিল ভাড়া, দোকান মালিকের অভিযোগ দীর্ঘ দিন ভাড়া পাচ্ছিলেন না। কিন্তু সেই দোকান জোর করে দোকানদারকে উচ্ছেদ করে দখল করার অভিযোগ উঠল দোকান মালিকের বিরুদ্ধে। দোকান দখলকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা বারাসাতে।
বারাসাত চাঁপাডালি মোড়ের কাছেই দোকান। বারাসাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র এই চাঁপাডালি মোড়। ফলে দোকানের মূল্য অনেকটাই। সেই দোকান, দোকান মালিক শান্তি চৌধুরী ভাড়া দিয়েছিলেন রাজেশ কুমার ওঝা নামের এক ব্যক্তিকে। ভাড়া নেওয়ার পর রাজেশ বাবু মোবাইল এবং চশমার দোকান চালু করেন। ব্যবসা চলছিল ঠিকভাবেই। কিন্তু রবিবার সেই দোকান নিয়ে বাধলো সংঘাত। অভিযোগ দোকান মালিক শান্তি চৌধুরী তার স্ত্রী মেয়ে এবং বামুনগাছি থেকে কিছু লোকজন জড়ো করে এদিন দোকানে তালা মারতে যান। বাধা দেয় সেই সময় দোকানে থাকা কর্মচারী সুব্রত হালদার। বাধে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা। বচসা প্রায় হাতাহাতি পর্যায়ে পৌঁছায়। কিন্তু কেন এই দোকান নিয়ে অশান্তি?দোকান মালিকপক্ষের অভিযোগ যে দীর্ঘ নয় বছর ধরে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে না। সেই কারণেই তিনি দোকানে তালা মারতে গিয়েছিলেন। কিন্তু এখানে প্রশ্ন আইনের রাস্তায় না গিয়ে জোরপূর্বক
কেন তিনি দোকান বন্ধ করতে গিয়েছিলেন? আর এই প্রশ্নই তুলেছেন দোকানদার রাজেশ কুমার ওঝা
দোকানদার এবং তার কর্মচারী দুজনেরই অভিযোগ জোর করে দোকানে তালা মারতে গিয়েছিলেন দোকান মালিক শান্তি চৌধুরী ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন। পাশাপাশি কর্মচারী সুব্রত হালদারের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে। কর্মচারী সুব্রত হালদার বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে দুই পক্ষ বসে বিষয়টাকে মিটানোর। দোকান মালিক পক্ষ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, দোকান মালিকের বক্তব্য অনুযায়ী প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাকি বলা হয়েছে বিষয়টা বসে মিটিয়ে নেওয়ার।
এই বচসার মাঝে অভিযোগ ওঠে যে, দোকানদারের পক্ষ নিয়ে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবব্রত পাল মদত দিচ্ছেন। কিন্তু দেবব্রত পালের বক্তব্য বিষয়টির মধ্যে আর্থিক লেনদেন রয়েছে। দোকান মালিক শান্তি চৌধুরী দেবব্রত পালের থেকে টাকা নিয়ে ওই দোকান কিনেছিল। দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তিও রয়েছে যে ধারের টাকা মিটিয়ে দিলে দোকান হস্তান্তর করে দেওয়া হবে দোকানদার শান্তি চৌধুরীকে। দেবব্রত পালের অভিযোগ শান্তি চৌধুরীকে বারবার বলা সত্ত্বেও টাকা ফেরত দিচ্ছে না এবং এর মধ্যে তৃণমূলের এক নেতার মদত রয়েছে।
এই দোকান ঘিরে যে জটিল আবর্তে সৃষ্টি হয়েছে এবং উভয় পক্ষের বক্তব্যে, এটা পরিষ্কার যে দোকান মালিক শান্তি চৌধুরী আইনের রাস্তায় না হেঁটে জোরপূর্বক দোকান দখল করতে গিয়েছিল।। এবং একজন ব্যবসায়ী যিনি এই দোকানে ব্যবসা করছেন কার্যত তার ব্যবসা বন্ধ করে দোকানের তালা মারতে গিয়েছিলেন। বর্তমান দোকানদার রাজেশ কুমার ওঝা তিনিও ভাড়া দিচ্ছেন না। কাউন্সিলর দেবব্রত পালের দাবি তিনি ৯০% দোকানের মালিক। ফলে দাবি পাল্টা দাবিতে দোকানের মালিকানা নিয়ে তৈরি হয়েছে এক জটিলতা। এই জটিলতা আইনের পথে কাটবে নাকি উভয় পক্ষের সমঝোতায় কাটবে। সেটা সময় বলবে।


More Stories
তৃণমূলের শ্বাসকষ্টের আরেক শিকার অভিষেক ঘনিষ্ঠ শুভ্রকান্তির পদত্যাগ
অর্জুন সিংকে ‘চমকানো’ বনিকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরালো পুলিশ
দলত্যাগী গিরগিটিদের নিয়ে কবিতা লিখলেন মমতা