Home » প্রসূতি মৃত্যু মামলায় রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনকে ‘ক্লিনচিট’ রাজ্যের!

প্রসূতি মৃত্যু মামলায় রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনকে ‘ক্লিনচিট’ রাজ্যের!

সময় কলকাতা ডেস্ক:- প্রসূতি মৃত্যুতে ‘অভিযুক্ত’ স্যালাইন রিঙ্গার ল্যাকটেটকে ক্লিনচিট দিল রাজ্য। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমকে রিপোর্ট দিয়ে ওই স্যালাইন প্রস্তুতকারী সংস্থার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করল রাজ্য। জনস্বার্থ মামলায় রাজ্য জানিয়ে দিল, রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইন খারাপ ছিল না। রাজ্যের ল্যাবে পাঠানো স্যালাইনের নমুনায় কোনও সমস্যা দেখা যায়নি। যদিও রাজ্য সরকারের ল্যাবে পরীক্ষা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রসব করাতে এসে কেশপুরের মামনি রুইদাস নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়। সন্তান জন্মের পর তাঁকে যে স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল, তার জেরেই মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে পরিবার। আরও তিন প্রসূতি – মাম্পি, নাসরিন ও মিনারা বিবির শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় গ্রিন করিডর করে মেদিনীপুর থেকে এসএসকেএমে আনা হয়।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করে রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নামে সিআইডিও। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সেই রাতে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে যে সমস্ত সিনিয়র চিকিৎসকের ডিউটিতে থাকার কথা ছিল, তাঁরা কেউ ছিলেন না। দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। এর প্রেক্ষিতে মোট ১৩ জন জুনিয়র ও সিনিয়র ডাক্তারকে সাসপেন্ড করে রাজ্য সরকার।

সংশ্লিষ্ট সংস্থা জানায়, “রাজ্যের স্যালাইন কেন্দ্রীয় ল্যাবে পাঠানোর পরেও ক্লিনচিট এসেছে। রাজ্যের হাতে পৌঁছে গেলে তারপর সংস্থার কোন দায় থাকে না। এরপর রাজ্যকে কিছু গাইডলাইন মেনে স্যালাইন গুলোকে রাখতে হয়।” এরপর প্রধান বিচারপতির রাজ্যের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, “আপনারা কি নিজেদের স্যালাইন ব্যবহার করতে পারেন না? এমন ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করতে গেলে কত খরচ হতে পারে? আদৌ কি কোনও ওষুধ কোম্পানি আছে এ রাজ্যে?” রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল, জানান এ বিষয়টি তিনি জানেন না, তিনি জেনে বলতে পারবেন।

সূত্রের খবর, রিপোর্টে রাজ্য জানিয়েছে, ঘটনার দিন ৮ এবং ৯ জানুয়ারি রাতে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কোনও সিনিয়র ফ্যাকাল্টি ছিল না। আরএমও ছিল না। পাঁচটা সি সেকশনে সব জায়গায় সমান নজরদারি করা সম্ভব হয়নি। এই নিয়ে সিআইডি তদন্ত করছে। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত জানান, রিপোর্টে বলা হয়েছে স্যালাইনে সমস্যা ছিল না। যদিও ‘স্যালাইনে ক্ষতিগ্রস্ত’ পরিবারকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে।

About Post Author