সময় কলকাতা,নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রথম দফায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১০৪ জন ভারতীয় নাগরিককে বেআইনিভাবে ওই দেশে প্রবেশ করবার দায়ে ফেরত পাঠালো। এই ভারতীয়দের নিয়ে ভারত মার্কিন সামরিক বিমান বুধবার অমৃতসর বিমানবন্দরে নামে। এই ভারতীয়দের হাতে হাতকড়া এবং পায়ে শিকল লাগিয়ে বিমানে তোলা হয়েছিল। অমৃতসর বিমানবন্দরে আসবার পর তাদের শিকল খোলা হয়। এই ১০৪ জনের মধ্যে অধিকাংশ পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং গুজরাতের বাসিন্দা।
ভারতীয়রা আমেরিকায় কি করছিল?
ফিরে আসবার পর মার্কিন দেশে এই বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, অনেকেই তারা বিভিন্ন দালাল তথা এজেন্টদের পাল্লায় পড়ে প্রতারিত হয়েছেন। একাধিক এজেন্সি ভারতের এই সমস্ত মানুষ জনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধপথে ঢুকিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাথাপিছু ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা করে নিয়েছিল। পরে দেখা গেছে তারা পুরোপুরি প্রতারিত হয়েছেন। অনেকে ব্রাজিল কিম্বা মেক্সিকোতে পৌঁছে বুঝতে পারেন যে তাদের বাকি পথটা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকতে হবে।
কিভাবে প্রতারিত হয়
যশপাল সিং নামে ভারতে ফেরত পাঠানো এক পাঞ্জাবের বাসিন্দা বলেন, তাকে প্রথমে এজেন্টারা ৬ মাস ব্রাজিলে রাখে। তারপর সীমান্ত অতিক্রম করে তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত প্রহরীরা তাকে ধরে ফেলে। আর একজন বেআইনি অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত হরবিন্দার সিংও একই অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। হরবিন্দারকে অবশ্য পেরু, নিকারগুয়া হয়ে মেক্সিকো নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকানো হয়।

ভয়ংকর অভিজ্ঞতা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ফিরে আসা এই মানুষজন জানিয়েছেন, তারা এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গেছেন। একের পর এক ছোট ছোট পাহাড় টপকাতে হয়েছে। ৪০ ৪৫ কিলোমিটার করে হাঁটতে হয়েছে। বিপদ সংকুল সমুদ্র এবং নদী পথ ছোট ছোট নৌকায় পার হতে হয়েছে। চোখের সামনে তারা বোট থেকে পড়ে গিয়ে এই ধরনের পাচার হওয়া মানুষজনের মৃত্যু দেখেছেন। পাহাড়ি পথে চলবার সময় কেউ যদি পা পিছলে পড়ে যেত তার জন্য কেউ ফিরেও তাকাতো না। মৃত্যু ছিল প্রতিপদে। এই বিভীষিকার যাত্রা পেরিয়ে তারা যদিও বা তাদের কাঙ্খিত স্বর্গভূমিতে পৌঁছতে পেরেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওখানকার পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান। অনেকেই ধার দেনা করে নিজেদের সর্বস্ব বাজি রেখে মার্কিন দেশে যাওয়ার জন্য ৩০ বা ৪০ লক্ষ টাকা জোগাড় করেছিলেন ,কিন্তু তাদের বিমানে তুলে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বপ্নের দেশে গিয়ে উপার্জন করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছে।


More Stories
নাবালক ছাত্রের সঙ্গে যৌ*ন মিলন , গ্রেফতার হাইস্কুল শিক্ষিকা
পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান খ*তম , কে এই হামজা?
সীমান্তে চ্যাংড়াবান্ধায় জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের পরই শুরু মাপজোক