Home » কি হচ্ছে দেউচা পচামিতে?

কি হচ্ছে দেউচা পচামিতে?

সময় কলকাতা ডেস্ক:- জল জমি জঙ্গল এর অধিকার মূলবাসী অর্থাৎ আদিবাসীদের। দেশে আইন রয়েছে, তা সত্ত্বেও যুগ যুগ ধরে দেশের মূলবাসীরাই বঞ্চিত, অবহেলিত। জল জমি জঙ্গলের দাবিতে ফের একবার ফুঁসে উঠলেন গ্রামবাসীরা। দেউচায় কয়লা খনি প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিল স্থানীয় আদিবাসী মানুষজন।

খনিতে নেমে বিক্ষোভ দেখান আদিবাসী মহিলারা ৷ তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, সরকার প্রতিশ্রুতি মত কাজ করছে না, তাই খনি হোক তারা চায় না ৷ জেসিবি মেশিন দিয়ে খনন কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় ৷ প্রশাসনের লোকজনকে এলাকা ছাড়া করে আদিবাসী নিয়মে চড়কা কেটে দেওয়া হয় ৷ ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন থেকে বীরভূমের দেউচা-পাচামিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা খনির খনন কাজ শুরুর কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মত ‘বিরাট’ বিক্ষোভ সামাল দিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর মান বাঁচাতে শুরু হয়েছিল দেউচায় খনন কাজ ৷ প্রথম থেকেই এখানে খনি বিরোধী আন্দোলন করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ৷ তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ আদিবাসী।

বিক্ষোভকারী মহিলারা এদিন জানিয়ে দেন, “আমরা খনি চাই না ৷ আমরা জমি দেব না ৷ প্রতিশ্রুতি মত সরকার কিছুই করেনি ৷ আজ আমাদের কাছ থেকে জমি নিয়ে নেবে, পরবর্তীতে আমাদের ছেলেদের কি হবে ? তাদের ভবিষ্যৎ কি। এই রকম তো আমরা বাইরে গিয়ে পাব না ৷ তাই জমি ছাড়ব না।”

এই দেউচা-পাচামিতে ৩৪০০ একর জমিজুড়ে কয়লা মজুত রয়েছে ৷ এই এলাকায় কমপক্ষে ২০ টি গ্রাম আছে। যেখানে প্রায় ২১ হাজার মানুষের বসবাস ৷ এছাড়া রয়েছে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল, জলাভূমি ও চারণভূমি। এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই কয়লা খনিতে ১২৪০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুত রয়েছে ৷ কয়লার উপরের স্তরে ৬৭৫ মিলিয়ন টন ব্যাসল্ট শিলার স্তর রয়েছে। কিন্তু, এত মানুষ নিজের এলাকা ছাড়তে রাজি নন ৷ আদিবাসী মানুষজন তাঁদের ভিটেমাটি ছাড়তে নারাজ ৷ তাঁদের অভিযোগ, সরকার প্রতিশ্রুতি মত কাজ করছে না ৷ এই অভিযোগে এদিন সকাল থেকে দেউচার খনন কাজ বন্ধ করে দেন আদিবাসী মানুষজন। বিশেষ করে আদিবাসী মহিলারা একত্রিত হয়ে খনিতে নেমে কাজ বন্ধ করে দেন।

About Post Author