নিজস্ব প্রতিনিধি: দেউচা পচামিতে যেতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে এপিডিআরের প্রতিনিধি দল। এরকমই অভিযোগ তুলেছেন বোলপুরের এপিডিআরের সংগঠক শৈলেন মিশ্র। উল্লেখ্য গত কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে দেউচা পাচামিতে। মঙ্গলবার সাগরবান্দী এলাকার গ্রামবাসীরা বিশেষত মহিলারা জোট বেঁধে ওই এলাকায় খনি প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। ঘোষণা করেছে খনি প্রকল্পের এলাকা জুড়ে “চরকা” অর্থাৎ অবরোধ হবে। বিক্ষোভকারী মহিলাদের বক্তব্য এই প্রকল্প তাঁদের জীবন জীবিকা বাসস্থান সবই কেড়ে নিতে চলেছে। এই প্রকল্প তাঁরা চান না। মোহাম্মদ বাজার থানার পুলিশ অবশ্য মঙ্গলবার বিকেল থেকেই গ্রামে গ্রামে ঘুরছে যাতে আদিবাসীরা অবরোধ তুলে নেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এর মধ্যেই বুধবার সকালে সাঁইথিয়া হয়ে দেউচা পচামির দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন এপিডিয়ারের ওই প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন রাংতা মুন্সী।
প্রাসঙ্গিক তথ্য হচ্ছে
এই বীরভূমের দেউচা প্রকল্পে ৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে এশিয়ার বৃহত্তম খোলা মুখ খনি গড়ে তুলতে চাইছে তৃণমূল সরকার। এই প্রকল্পের ফলে উচ্ছেদ হবেন ২২ হাজার মানুষ। উচ্ছেদ হবে বারোটি গ্রাম। পরিবেশবিদদের বক্তব্য তার থেকেও বড় কথা সামগ্রিকভাবে একটা প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসবে ওই এলাকায়। প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে ওই এলাকার একটা অংশের মানুষকে ম্যানেজ করতে পারলেও, যাদের জমি এলাকায় রয়েছে তাদের একটা বড় অংশ এখনও জমি ছাড়তে নারাজ। আন্দোলনকারী পরিবেশ কর্মী এবং বিক্ষোভকারী গ্রামবাসীদের বক্তব্য এত বড় প্রকল্প করবার আগে পরিবেশগত ছাড়পত্রতে জন-শুনানি আবশ্যক। আবশ্যক গ্রামবাসীদের সম্মতি।
কিন্তু আইন-এড়াতে রাজ্য সরকার গোটা প্রকল্প এক সঙ্গে না করে খুব ছোট ছোট প্রকল্প দেখিয়ে ব্যাপারটা সামলাতে চাইছে। কারণ সে ক্ষেত্রে জন-শুনানি বা গ্রাম সভার সম্মতির ব্যাপারটা থাকবে না। এইটা নিয়েই হাইকোর্টে মামলার রুজু হয়েছে। মামলার শুনানি রয়েছে সামনেই। তার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া কথা অনুযায়ী গ্রামবাসীদের প্রতিরোধ এড়াতে গভীর রাতে ভূমি পুজো করে দেউচা পাচামি খনি প্রকল্পের কাজ শুরু করিয়ে দেয়া হয়েছে। যদিও ৩৪ একর জুড়ে যে প্রকল্প হওয়ার কথা তার জন্য প্রাথমিকভাবে যে প্রকল্পটা শুরু হয়েছে তা ১২ একর এলাকায়।
অভিজ্ঞ মহলের বক্তব্য
দেউচা পাচামিতে প্রচুর কয়লা আছে বলে ঢাক ঢোল পেটালেও এই কয়লার গুণমান নিয়ে সন্দেহ আছে। মূল কয়লা স্তরে পৌঁছানোর আগে কয়েকশো মিটার ব্যাসল্ট কেটে তুলতে হবে। তারপরও যে কয়লা পাওয়া যাবে তার গুণমান সম্ভবত উৎকৃষ্ট কিছু নয়। সেই জন্যই ২০০৬ সালে প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার টেকনিক্যাল আ্যপ্রাইজালের পর এই খনি করতে আর উৎসাহ দেখায়নি। এবারও প্রথমে অনেক বড় বড় বেসরকারি কোম্পানি খনি করবে বলে নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত কেউ আসেনি। নোডাল এজেন্সি হিসেবে ওয়েস্ট বেঙ্গল পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনকে কাজ করতে হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার যদি জোর করে জমি অধিগ্রহণ করতে যায় নিশ্চিতভাবেই সেটা একটা বিতর্ক তৈরি করবে।


More Stories
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের
প্রাক্তন বিধায়ক রফিকুরের ভাই আনিস গ্রেফতার
তৃণমূলের শ্বাসকষ্টের আরেক শিকার অভিষেক ঘনিষ্ঠ শুভ্রকান্তির পদত্যাগ