Home » নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে মজুত বাজিতে বিস্ফোরণ

নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে মজুত বাজিতে বিস্ফোরণ

বিশ্বজিৎ হীরা, সময় কলকাতা , ২৮ জুলাই : পুলিশের নাকের ডগায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে মজুত বাজিতে বিস্ফোরণ।ভয়ংকর বিস্ফোরণে আতঙ্কিত এলাকাবাসী। বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত পাশের গাড়ি তৈরির কারখানা।

ফ্ল্যাশব্যাক : সাতাশে আগস্ট ২০২৩ সাল সকাল ১০:০০ টা নাগাদ নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকায় ঘটেছিল বাজি কারখানায় ভয়ংকর বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল ৯ জনের। সেই সময় নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত সমস্ত পুলিশ কর্মীদের রাতারাতি বদলি করে দেওয়া হয়েছিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সেই স্মৃতি আজও মানুষের মনে ঘুরে বেড়ায়।

পুনরাবৃত্তি : ২৮ জুলাই, ২০২৬, মঙ্গলবার সকালে সেই স্মৃতি উসকে দিয়ে নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সামনেই ঘটে মজুত রাখা বাজিতে বিস্ফোরণ। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।। ফাটতে থাকতে থাকা বাজি এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। আতঙ্কে নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির কর্মীরা ছাদে উঠে লাফ মেরে চলে যায় অন্য ছাদে। আগুন ধরে যায় বাড়ির পাশেই একটি গাড়ি তৈরির কারখানায়। আসলে কি ঘটেছিল ? পুলিশ কর্মীদের কি কোন গাফিলতি ছিল? এলাকাবাসী এবং বাজি বিশেষজ্ঞদের মতে বারুদে ক্রমশ জল জমে বারুদ ফুটতে থাকে, আর সেখান থেকে লেগেছে আগুন। যদিও ঘটনা এলাকাবাসীদের ক্ষোভ পুলিশের অপরিণামদর্শী চিন্তার জন্যই এই দুর্ঘটনা। সাধারণত বিস্ফোরক জাতীয় কোন পদার্থ বাজেয়াপ্ত হলে সেই পদার্থ মজুত করা হয় জনবহুল এলাকার বাইরে। কিন্তু নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি র আধিকারিক এবং পুলিশ কর্মীরা এই বাজি মজুদ করেছিল একেবারেই পুলিশ ফাঁড়ির গেটের সামনে। ২০২৩ সালের মোচপোলের বাজি বিস্ফোরণের ঘটনা কার্যত কোন শিক্ষা দেয় নি নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ কর্মীদের সেটা এই ঘটনাটিকে প্রমাণিত। পাশের গাড়ি কারখানার কর্তৃপক্ষের দাবি এই আগুনের কারণে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার সামগ্রী। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ পুলিশ যদি একটু সতর্ক হতো তাহলে এই দুর্ঘটনা ঘটতো না। এর থেকে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত যদি বাজির আগুন থেকে বাড়ি ঘরে আগুন লাগতো। ফলে এটা পরিষ্কার নীলগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির কর্মীদের অপরিণামদর্শী চিন্তাভাবনার কারণেই এই দুর্ঘটনা।

About Post Author