সময় কলকাতা ডেস্ক:- গত দু’দিন ধরে খবরের শিরোনামে থাকা সোদপুর অমরাবতী মাঠ অবশেষে অধিগ্রহণের পরিকল্পনা নিল রাজ্য সরকার। সেই মতো প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতিও শুরু করে দেওয়া হয়েছে৷ নবান্ন সূত্রে খবর, ৮৫ বিঘার বিশাল ওই মাঠ অধিগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইমতো জেলা প্রশাসনের কাছে বার্তাও পাঠানো হয়েছে নবান্ন থেকে। ব্যারাকপুরের মহকুমাশাসক চিঠি দিয়ে মালিক পক্ষকে ডেকে পাঠিয়েছেন।
এ দিন অমরাবতী মাঠ নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে পানিহাটির সিপিএম নেতৃত্ব। সিপিএম নেতা দুলাল চক্রবর্তী বলেন, ‘মাঠ বাঁচাতে আমরাই প্রথম আন্দোলনে নেমেছিলাম। ৭০-এর দশকে এই মাঠেই তৎকালীন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক প্রমদ দাস গুপ্ত ঐতিহাসিক জনসভা করেছিলেন। সেই জনসভা থেকেই কংগ্রেস সরকারের পতনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এই মাঠটি এলাকার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। সরকারের অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।’
সাধারণ মানুষের বক্তব্য
লাভজনক স্বার্থে অমরাবতী মাঠকে ব্যবহার করা যাবে না বলে কলকাতা হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন সেখানে আবাসন প্রকল্পের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল? স্থানীয় তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা বিষয়টি জেনেও কেন চুপ ছিল ? এরপরেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে ময়দানে নেমে পড়েন ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক। যদিও মাঠটি তাঁর নিজের সংসদীয় এলাকায় পড়েনা।
অমরাবতী মাঠ নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন পার্থ ভৌমিক
চাপে পড়ে বুধবার নৈহাটিতে বসে অমরাবতী মাঠ নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন পার্থ ভৌমিক । তিনি বলেন, ‘বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আসতেই প্রশাসনিক স্তরে কথা বলে তিনি ওই মাঠ বিক্রির প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এলাকার সাধারণ মানুষের সেন্টিমেন্টকে গুরুত্ব দিয়ে ওই জমি সরকারি ভাবে অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, ওই মাঠ কোনও ভাবেই বিক্রি হতে দেওয়া যাবে না।’
ইতিমধ্যেই জমি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়ে মাঠের মালিক সোসাইটি ফর দ্য প্রোটেকশন অফ চিলড্রেন ইন ইন্ডিয়া’কে নোটিস দিয়েছেন ব্যারাকপুরের মহকুমাশাসক। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাঁদের ওই মাঠের জমি সংক্রান্ত সমস্ত নথি নিয়ে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যা স্বীকার করেছেন এসপিসিআই কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের কথায়, আবাসন প্রকল্পের পাশাপাশি মাঠে জনকল্যাণমূলক একাধিক প্রকল্প করা হবে।
পুরো বিষয়টি পানিহাটির পুরপ্রধান এবং বিধায়ককে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, এসপিসিআইয়ের সম্পাদক শৌভিক চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করব। তবে জমিটি রাজ্য সরকার যদি অধিগ্রহণ করে তাতে আমাদের আপত্তি নেই। জোকায় অনাথ মেয়েদের জন্য আমাদের একটা হোম রয়েছে। তার পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং আঠারো বছর বয়সের পরে ওই মেয়েদের পুনর্বাসনের জন্য এবং সোদপুরে ছেলেদের হোম তৈরির জন্য আমাদের আর্থিক তহবিলের প্রয়োজন। সেই কারণেই জমিটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সরকারের সঙ্গে আলোচনায় সেই বিষয়টি জানাব।’


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী