সময় কলকাতা,নিজস্ব প্রতিনিধি: মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে ইউএপিএ ধারায় গ্রেপ্তার ২ বনরক্ষী,কানহা ফরেস্টের ২ বন রক্ষককে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। দুদিন আগে মধ্যপ্রদেশের পুলিশ অশোক লাল ও সন্তোষ লাল নামে দুজন ফরেস্ট গার্ডকে মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগ এনে ইউএপিএ ধারা দিয়ে গ্রেফতার করেছে। এরপরেই প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এই অভয়ারণ্যের বন কর্মীদের মধ্যে।
তাদের বক্তব্য আমরা পুলিশ এবং মাওবাদীদের মাঝখানে পড়ে যাচ্ছি। আমাদের একরের পর এক জঙ্গল খালি পায়ে কোন আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়া পাহারা দিতে হয়। একদিকে মাওবাদীদের সহযোগিতা করবার চাপ, অন্যদিকে মাওবাদীদের সাহায্য করলে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারি, এই সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে আমরা আদৌ কাজ করতে আর পারব কিনা সন্দেহ দেখা দিয়েছে । এই ঘটনায় বন দপ্তরের উচ্চপদস্থ অফিসাররা উদ্বিগ্ন। তারা প্রকাশ্যে কিছু না বললেও, নিজেদের মধ্যে বলেছেন এইভাবে সাধারণ বনকর্মীদের যদি ইউএপিএ ধারা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে এরপরে ফরেস্ট গার্ডের কাজ করবার জন্য লোক পাওয়া মুশকিল হবে।অনেক সময় এই বন রক্ষকরা নিজেদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য হয়তো মাওবাদীদের সঙ্গে অল্প সল্প যোগাযোগ রেখে চলেন। কিন্তু তার জন্য ইউএপিএ ধারা দিয়ে গ্রেপ্তার করে চালান করে দেওয়াটা বাড়াবাড়ি।
অন্যদিকে পুলিশের বক্তব্য, যে দুজনকে ধরা হয়েছে, তারা কেউ নিরীহ বন কর্মী নয়। পুলিশ প্রমাণ পেয়েছে যে, নিরাপত্তা বাহিনী যখনই কানহা বন অঞ্চলে অভিযান চালাতে ঢোকে, তখনই এরাও হুইসেল বাজিয়ে অথবা পাথর ছুঁড়ে মাওবাদীদের সতর্ক করে দিত। এছাড়া এদের কাছ থেকে মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার প্রমাণ স্বরূপ কিছু কাগজপত্র পাওয়া গিয়েছে। উল্লেখ্য ছত্রিশগড়ের বনাঞ্চলে মাওবাদীদের উপর সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু হওয়ার পর মাওবাদী সশস্ত্র ক্যাডাররা ভারতবর্ষের মধ্য অঞ্চলের অন্যান্য বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে বলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের ধারণা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের খবর এই মুহূর্তে কানহা বনাঞ্চলে প্রায় চল্লিশ শতাংশ অঞ্চলে মাওবাদীদের আনাগোনা রয়েছে। তার মধ্যে বালঘাট এলাকার সংলগ্ন বনাঞ্চলে মাওবাদীদের উপদ্রব বেশি।


More Stories
কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটারে ৪ পয়সা কমল, ডিজেল বাড়ল ৯৪ পয়সা
পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান খ*তম , কে এই হামজা?
ককরোচ জনতা পার্টির এক্স হ্যান্ডেল নিষিদ্ধ!