সময় কলকাতা ডেস্ক:- ভূতুড়ে ভোটার বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার পর তিন মাস সময় চেয়ে নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। জানানো হয়েছিল, ডুপ্লিকেট এপিক নম্বর ইস্যু এর মধ্যেই তারা সমাধান করবে। তবে অল্পদিনের মধ্যেই তৎপরতা দেখাল নির্বাচন কমিশন। আগামী মঙ্গলবার আধার-ভোটার সংযুক্তিকরণে কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকে বসছে কমিশন। মতামত চাওয়া হল দলগুলিরও। ভূতুড়ে ভোটার বিতর্ক এড়াতে মরিয়া নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকায় ভূতের বাসা রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের শাসকদল জাতীয় নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়ে এই দাবিও জানিয়ে এসেছে যে, কেন পাসপোর্ট, আধার কার্ডের মতো ভোটার কার্ডের ‘ইউনিক’ নম্বর থাকবে না?
এই ইস্যুতে তৃণমূল রাস্তায় নামার পরই আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড সংযুক্তিকরণের তোড়জোড় শুরু করল নির্বাচন কমিশনে। আগামী মঙ্গলবারই কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন নির্বাচন কমিশনাররা। বৈঠকে আধার কার্ডের সঙ্গে ভোটার কার্ড সংযুক্তিকরণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে খবর। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ডাকা এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, আধার কমিশনের সিইও, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রের সচিব এবং কেন্দ্রীয় আইনসচিবের থাকার কথা। সব জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের কাছ থেকেও এই সংযুক্তিকরণ নিয়ে পরামর্শ চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।
কোন প্রক্রিয়ায় আধার-ভোটার সংযুক্তিকরণ করা যেতে পারে,হলে কতদিনের মধ্যে হতে পারে
সমস্ত জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের থেকেও কমিশন ওই বিষয়ে মতামত এবং পরামর্শ চেয়েছে। বলা হয়েছে, ওই মতামত যেন আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে পাঠানো হয় কমিশনের কাছে। অনলাইন পদ্ধতিতে ভোটার লিস্টে নাম তোলার সুযোগ নিয়ে, কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি ভোটার লিস্টে ভূতুড়ে ভোটার ঢুকিয়ে দিচ্ছে বলে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নেতাজি ইন্ডোরে তৃণমূলের সভায় অভিযোগ এনেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেসব বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হতে পারে
একই এপিক নম্বরে একাধিক ভোটার রয়েছে বলেও প্রমাণ দেখিয়েছিল তৃণমূল। মমতার অভিযোগের পরেই পাঁচ দিনের মধ্যে জোড়া বিবৃতি দিয়ে কমিশন স্বীকার করেছে যে, এক এপিক নম্বরে একাধিক রাজ্যে ভোটার কার্ড রয়েছে। তবে কমিশনের তরফে স্পষ্ট দাবি করা হয়, একই এপিক নম্বরে একাধিক নাম থাকা মানেই যে নকল বা ভুয়ো ভোটার নয়। যদিও কমিশনের এই যুক্তি মানতে নারাজ তৃণমূল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাঁদের যুক্তিতে অনড়। তাও ইস্যুটি নিয়ে তারা ভাবছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে তার সমস্যার সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। এদিকে, তৃণমূল এই নিয়ে অভিযোগ তোলার পরই তাদের সমর্থন করেছে কংগ্রেস, এনসিপির মতো দল।
স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টির আঁচ গিয়ে পড়েছে দিল্লিতে। তারপরই কার্যত নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন। ২০২১ সালে জনপ্রতিনিধি আইন সংশোধন করে আধারের সঙ্গে ভোটার কার্ড সংযুক্তিকরণের প্রক্রিয়া শুরু করে কেন্দ্র। মূলত ভোট প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে নির্বাচনী আইনে ওই পরিবর্তনের সুপারিশ করে নির্বাচন কমিশনই। শুরু হয় আধার-ভোটার সংযুক্তিকরণ। যদিও সুপ্রিম কোর্টে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার সংক্রান্ত মামলার কারণেই বাধ্যতামূলক করা হয়নি ভোটার-আধার সংযুক্তিকরণ। আপাতত বিষয়টি ঐচ্ছিক।
শুরু হচ্ছে তোড়জোড়
তবে এবার কমিশন এই সংযুক্তিকরণের বিষয়টিতে গতি আনতে চাইছে। সেকারণেই শুরু হচ্ছে তোড়জোড়। আগামী মঙ্গলবারই কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকে বসতে চলেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব সুখবীর সিং সান্ধু, পরিষদীয় সচিব রাজীব মনি এবং UIDAI-এর সিইও ভুবনেশ কুমারকে আগামী ১৮ মার্চ বৈঠকে ডেকেছেন। তাতেই আধার-ভোটার সংযুক্তিকরণে গতি আনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভূতুড়ে ভোটার কার্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর কমিশন রীতিমতো ব্যাকফুটে। যেভাবে একই এপিক নম্বরে একাধিক ভোটার থাকার একাধিক নজির প্রকাশ্যে আসাটাও চাপ বাড়িয়েছে কমিশনের উপর।
যে কারণে এর আগে তিন বার বিবৃতি দিতে হয়েছে কমিশনকে। এবার আধার-ভোটার নিয়ে বৈঠক ডাকল কমিশন। যদিও তৃণমূল স্পষ্ট বলছে, কমিশন এসব করে আসলে মুখ বাঁচানোর চেষ্টা করছে। তবে এই রাজনৈতিক তর্জার মাঝেই দিল্লিতে তোলপাড় শুরু হওয়ার পরেই কমিশন খানিকটা নড়চড়ে বসেছিল। এ বার আধারের সঙ্গে এপিক সংযুক্তিকরণের বিষয়ে বৈঠকও চূড়ান্ত করে ফেলল নয়াদিল্লির নির্বাচন সদন।


More Stories
কার্যত ভুল স্বীকার করে নিলেন অভিষেক, সুর নরম কল্যাণের, অভিষেক – কল্যাণ বিবাদ মিটল!
“কংগ্রেসের হাত-ছাড়া ভুল ছিল”, বিস্ফোরক অনুব্রত দুষছেন আইপ্যাককে
কীর্তি আজাদ “এনডিএ-র ষড়যন্ত্র” নিয়ে সরব