সময় কলকাতা ডেস্ক:- মহাকাশে থাকার কথা ছিল ৮ দিন। সেটাই বাড়তে বাড়তে দাঁড়ায় ২৮৬ দিন। অর্থাৎ ২৭৮ দিন বেশি। ৯ মাসের বেশি মহাকাশ স্টেশনে কাটিয়ে পৃথিবীতে ফিরেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস ও তাঁর সঙ্গী বুচ উইলমোর। তাঁদের সঙ্গে ফিরেছেন আরও দুই মহাকাশচারী। একটা সময়ে সুনীতা উইলিয়ামসদের পৃথিবীতে ফেরা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছিল। তবে অপেক্ষার অবসান ঘটেছে ২৮৬ দিন পর! অবশেষে পৃথিবীর আলো দেখেছেন এত মাস ধরে মহাকাশে আটকে থাকা সুনীতা উইলিয়ামস এবং বুচ উইলমোর। ভারতীয় সময় অনুযায়ী বুধবার ভোর ৩টে ২৭ মিনিট নাগাদ ফ্লোরিডায় সমুদ্রে অবতরণ করে এলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের মহাকাশ যান। সুনীতার সঙ্গে একই মহাকাশযানে ঘরে ফিরেছেন বুচ, নিক হগ এবং রুশ নভশ্চর আলেকজান্ডার গর্বুনভ। আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে উপস্থিত ক্রু ১০-এর মহাকাশচারীদের গবেষণার কাজ বুঝিয়ে, তাঁদের সঙ্গে ছবি তুলে স্পেস এক্স ক্রু ৯-এ চেপে বসেন সুনীতারা। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩৫ নাগাদ শুরু হয় সুনীতাদের ফেরার যাত্রা। বুধবার আটলান্টিক মহাসাগরে নিরাপদে অবতরণ করানো হয় তাঁদের। গোটা ঘটনার লাইভ সম্প্রচার করে নাসা। স্বাভাবিকভাবে স্পেস স্টেশন থেকে অবতরণ করতে কোনও মহাকাশযানের সাড়ে ৩ ঘণ্টা মতো সময় লাগে। কিন্তু সুনীতাদের ফেরাতে নাসা-স্পেস এক্স সময় নিয়েছিল ১৭ ঘণ্টা! বিশেষ কিছু কারণের জন্য এই অতিরিক্ত সময় লেগেছে। তবে শেষমেশ নিরাপদেই বাড়ি ফিরতে পেরেছেন সুনীতা, বুচরা। মহাকাশ থেকে ফিরে মাঝসমুদ্রে ক্যাপসুলের হ্যাচ খুলতেই ক্যামেরার দিকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান সুনীতা উইলিয়ামস। শুকনো মুখে এতটুকু মলিন হয়নি হাসিখানি। সেই হাসি দেখে সারা বিশ্ব স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিল। তবে তার পরেই তাঁকে যেভাবে বসা অবস্থায় স্ট্রেচারে তোলা হয়, তা দেখে অনেকেরই মন খারাপ হয়েছে বইকী। সব মিলিয়ে, তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি। জানা গিয়েছে, নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে নেওয়ার পরপরই তাঁকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। কারণ দীর্ঘ ২৮৬ দিন মহাকাশে থাকার ফলে তাঁর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। সামান্য সংক্রমণও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, তাই বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে সুনীতাদের ‘রিহ্যাব টিম’।
কেমন আছেন সুনীতারা ?
আসলে মহাকাশে কাজ করে না কোনও মাধ্যাকর্ষণ। ডানা ছাড়াও সুনীতারা উড়ছেন, এমন ছবি দেখে ফেলেছে বিশ্ববাসী। ধীরে ধীরে মাধ্যাকর্ষণহীন পরিবর্তনে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছিল সুনীতাদের শরীর। কিন্তু পৃথিবীতে ফিরতেই মাধ্যাকর্ষণ শক্তির জন্য নিজেদের শরীরকে ফের প্রস্তুত করতে হবে তাঁদের। এরজন্য আগামী অন্তত ৪৫ দিন বিশেষ নজরদারিতে রয়েছেন ‘মহাকাশজয়ীরা’।
শরীরে বদল, নজরদারিতে চিকিৎসক দল । দীর্ঘ মহাশূন্য ভ্রমণের কারণে সুনীতা ও বুচ, দু’জনের শরীরেই বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। মহাকাশচারীদের ক্ষেত্রে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া, মাংসপেশি সংকুচিত হওয়া, এমনকী দৃষ্টিশক্তিরও পরিবর্তন দেখা যায়। তবে চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে, তাঁদের দৃষ্টিশক্তির তেমন ক্ষতি হয়নি বলেই মনে হয়েছে। পৃথিবীতে পা দেওয়ার পরে তিন দিন কাটিয়ে ফেলেছেন সুনীতারা। আপাতত ভালই আছেন তাঁরা। তবে খুবই সতর্ক থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। ফেরার দিন শত আনন্দের মধ্যেও সুনীতার সরু হয়ে আসা কব্জিতে ইনজেকশন দেওয়া আইভি চ্যানেল অনেকেরই চোখে পড়েছে। তার ওপর হাসিমুখের আড়ালে ক্লান্তির ছাপ, গভীর বলিরেখা এবং সাদা চুলের আধিক্যও স্পষ্ট। বুধবার পৃথিবীতে পৌঁছনোর পর থেকেই ফিজিওথেরাপি শুরু হয়েছে সুনীতাদের। প্রথমেই উচ্চতা মাপা হয়, এরপর ফ্লাইট সার্জেনদের তত্ত্বাবধানে ইসিজি, ইউএসজি ও অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে শারীরিক বিশ্লেষণ চলে। তাঁদের মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড ও চক্ষু পরীক্ষার জন্য এমআরআই করা হয়। মহাশূন্যের প্রতিক্রিয়ায় পাতলা হয়ে আসা ত্বকের স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ করেন চিকিৎসকরা। পঞ্চম দিনে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা পরিমাপের জন্য স্পাইরো-আর্গোমেট্রি পরীক্ষা হবে। পাশাপাশি, রিহ্যাবের শুরু ও দশম দিনে মানসিক সুস্থতা যাচাই করতে হবে মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন। জানা গিয়েছে, প্রথম সপ্তাহে দিনে দু’ঘণ্টা করে ক্রস এলিপ্টিক্যাল ট্রেনারে ওয়ার্মআপ, সাইক্লিং ও স্ট্রেচিং করানো হবে। ধাপে ধাপে দড়ি ধরে দোলানো, হাঁটার সময় বল ছোড়ার মতো ব্যায়ামও শুরু হবে। প্রতিদিনের ব্যায়ামের পর এক ঘণ্টা করে ম্যাসাজ থেরাপিও চলবে। দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে হাইড্রোথেরাপি বা জলে ব্যায়ামের পাশাপাশি অন্যান্য ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ শুরু হবে।
শরীরে বদল, নজরদারিতে চিকিৎসক দল । দীর্ঘ মহাশূন্য ভ্রমণের কারণে সুনীতা ও বুচ, দু’জনের শরীরেই বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। মহাকাশচারীদের ক্ষেত্রে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া, মাংসপেশি সংকুচিত হওয়া, এমনকী দৃষ্টিশক্তিরও পরিবর্তন দেখা যায়। তবে চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে, তাঁদের দৃষ্টিশক্তির তেমন ক্ষতি হয়নি বলেই মনে হয়েছে। পৃথিবীতে পা দেওয়ার পরে তিন দিন কাটিয়ে ফেলেছেন সুনীতারা। আপাতত ভালই আছেন তাঁরা। তবে খুবই সতর্ক থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। ফেরার দিন শত আনন্দের মধ্যেও সুনীতার সরু হয়ে আসা কব্জিতে ইনজেকশন দেওয়া আইভি চ্যানেল অনেকেরই চোখে পড়েছে। তার ওপর হাসিমুখের আড়ালে ক্লান্তির ছাপ, গভীর বলিরেখা এবং সাদা চুলের আধিক্যও স্পষ্ট। বুধবার পৃথিবীতে পৌঁছনোর পর থেকেই ফিজিওথেরাপি শুরু হয়েছে সুনীতাদের। প্রথমেই উচ্চতা মাপা হয়, এরপর ফ্লাইট সার্জেনদের তত্ত্বাবধানে ইসিজি, ইউএসজি ও অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে শারীরিক বিশ্লেষণ চলে। তাঁদের মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড ও চক্ষু পরীক্ষার জন্য এমআরআই করা হয়। মহাশূন্যের প্রতিক্রিয়ায় পাতলা হয়ে আসা ত্বকের স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ করেন চিকিৎসকরা। পঞ্চম দিনে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা পরিমাপের জন্য স্পাইরো-আর্গোমেট্রি পরীক্ষা হবে। পাশাপাশি, রিহ্যাবের শুরু ও দশম দিনে মানসিক সুস্থতা যাচাই করতে হবে মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন। জানা গিয়েছে, প্রথম সপ্তাহে দিনে দু’ঘণ্টা করে ক্রস এলিপ্টিক্যাল ট্রেনারে ওয়ার্মআপ, সাইক্লিং ও স্ট্রেচিং করানো হবে। ধাপে ধাপে দড়ি ধরে দোলানো, হাঁটার সময় বল ছোড়ার মতো ব্যায়ামও শুরু হবে। প্রতিদিনের ব্যায়ামের পর এক ঘণ্টা করে ম্যাসাজ থেরাপিও চলবে। দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে হাইড্রোথেরাপি বা জলে ব্যায়ামের পাশাপাশি অন্যান্য ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ শুরু হবে।
সুনীতাদের জন্য বিশেষ খাদ্যতালিকা
পুনর্বাসন কর্মসূচিতে খাবারের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। মাখন ও মাংস জাতীয় উচ্চপ্রোটিন খাবারই মূলত দেওয়া হচ্ছে, যাতে দ্রুত শরীরে শক্তি ফিরে আসে। ৪৫ দিনের এই পুনর্বাসন পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে, সুনীতা ও তাঁর সহযাত্রী বুচ উইলমোর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছেন কি না। নাসার চিকিৎসকরা প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।মাত্র ৮দিনের কাজ নিয়ে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন সুনীতারা। কিন্তু না না জটিলতায় অজানা এক মহাশূন্যে আটকে পড়েন তাঁরা। যে স্টারলাইন ক্যাপসুলে চড়ে তাঁরা মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন সেই বোয়িং স্টারলাইনারে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। তাই সেই বাহন পৃথিবীতে ফেরত পাঠিয়ে নিজেরা থেকে গিয়েছিলেন মহাকাশেই। দিনটা ছিল ৫ জুন, ২০২৪। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গিয়েছে ৯ মাস। ফেরা হয়নি। তবে কথা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কথা দিয়েছিলেন সুনীতাদের ঘরে ফেরাবেন তিনি। কথা রেখেওছেন প্রেসিডেন্ট, সঙ্গে দুষতে ছাড়েননি প্রাক্তন বাইডেনকে। সারা দেশ তো বটেই বিশ্বজুড়েও সুনীতাদের নিয়ে উন্মাদনার শেষ নেই। একাধিক জায়গায় শুরু হয়েছে সেলিব্রেশন। রক্তমাংসের মানুষ, বিজ্ঞান আর জেদ একযোগে কিছু করলে কোনও কিছুই যে ‘না মুমকিন’ নয়। তা ফের প্রমাণিত।


More Stories
বিশ্বকাপের নতুন মারাদোনা কে?
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ গোল্ডেন বুটের দৌড়, মেসির প্রতিদ্বন্দ্বী কে?
ভূত আছে, ভূত নেই! দিন-দুপুরে স্কুলে ভূতের ভয়