Home » মুকুন্দপুরে দম্পতির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার! ছেলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

মুকুন্দপুরে দম্পতির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার! ছেলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ফের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা শহরে। মুকুন্দপুরের বন্ধ ফ্ল্যাটের মধ্যে থেকে উদ্ধার হলো দম্পতির ঝুলন্ত দেহ। তদন্ত শুরু করেছে যাদবপুর থানার পুলিশ। দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে। মৃত দম্পতির মেয়ের অভিযোগ, বাবা মায়ের উপর অত্যাচার চালাতেন তাঁর দাদা-বউদি। দম্পতিকে খুনের অভিযোগ এনেছেন তিনি। যদিও পুলিশ সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত কেউ কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি। সুইসাইড নোটও মেলেনি। জয়েন্ট সিপি (ক্রাইম) রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, ‘ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই সবটা বোঝা যাবে। সবদিক খোলা রেখেই তদন্ত চলছে।’

স্থানীয় সূত্রে খবর, ছেলে সৌরভ পাল ও পুত্রবধূ কল্যাণী পালের সঙ্গে নিত্য অশান্তি চলত ওই দম্পতির। ঘটনার দিনও ফ্ল্যাট থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির আওয়াজ পাওয়া গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। তার পর সৌরভ ও কল্যাণী বেলায় অফিস চলে যাওয়ার পর থেকে আর ওই দম্পতির কোনও সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি। সন্ধে পর্যন্ত লাগাতার ফোন বেজে গেলেও দুলালবাবু বা তাঁর স্ত্রী কেউ জবাব না দেওয়ায় পুলিশে খবর দেন প্রতিবেশী মধুমিতা পাল। দম্পতির মেয়ের অভিযোগের নিশানায় দম্পতির পুত্র ও পুত্রবধূ। তাঁর অভিযোগ, বাবা-মায়ের উপর নির্যাতন চালাতেন তাঁরা। তবে এই বিষয়ে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। ঘটনাটি খুন না আত্মহত্যা, জানতে তদন্ত করছে পুলিশ।

ফ্ল্যাটের ডাইনিং হল থেকে উদ্ধার হয়েছে ৬৬ বছরের দুলাল পালের দেহ। সিলিং ফ্যান থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। তাঁর স্ত্রী ৫৩ বছরের রেখা পালের দেহ মেলে ফ্ল্যাটের ভিতরের বেডরুম থেকে। দেহে তখন প্রাণের কোনও চিহ্ন ছিল না বলে জানা গিয়েছে। মুকুন্দপুরের ওই ফ্ল্যাটে পুত্র ও পুত্রবধূর সঙ্গে থাকতেন প্রৌঢ় দম্পতি। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সন্ধে ৭টা ৪৫ মিনিটে যাদবপুর থানায় খবর আসে দরজা খুলছেন না ওই দম্পতি। এমনকী ফোনও তুলছেন না। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে কোলাপসিবল ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে পুলিশ। উদ্ধার হয় দম্পতির ঝুলন্ত দেহ।

About Post Author