Home » জেলার ৫০ শতাংশ বেসরকারি বাসই বন্ধ, ধুঁকছে উত্তর ২৪ পরগ‍নার পরিবহন ব্যবস্থা

জেলার ৫০ শতাংশ বেসরকারি বাসই বন্ধ, ধুঁকছে উত্তর ২৪ পরগ‍নার পরিবহন ব্যবস্থা

সময় কলকাতা ডেস্ক:- কলকাতার ট্রামের পরিণতিই কি পেতে চলেছে উত্তর ২৪ পরগনার বেসরকারি বাস? রীতিমতো স্বাস্থ্যবান অবস্থা থেকে হঠাৎ ক্ষয়রোগে আক্রান্ত এবং সেখান থেকে ক্রমশ অবস্থার অবনতি হতে হতে একেবারে মৃত্যুমুখে। সম্প্রতি জেলার রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (আরটিএ) একটি মিটিংয়ে খোদ রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের আধিকারিকরাই যে তথ্য পেশ করেছেন, তাতেই স্পষ্ট হচ্ছে এমন উদ্বেগজনক তথ্য।

রাজের বাস পরিষেবা নিয়ে কলকাতা বাস ওপিডিয়ার পক্ষ থেকে অনিকেত বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘যত দিন যাচ্ছে, বেসরকারি বাসের টিকে থাকার লড়াই ততই কঠিন হচ্ছে। মনে রাখতে হবে সাধারণ মানুষ কিন্তু কথায় কথায় অ্যাপ ক্যাব বুক করতে পারেন না। তাঁদের ভরসা বাস–মিনিবাস। এমন ভাবে বাসের সংখ্যা এবং রুট কমতে থাকলে সাধারণ মানুষের বিপদের শেষ থাকবে না।’

উল্লেখ্য, উত্তর ২৪ পরগণা জেলার মোট ৬৪টি বাস রুটে ১,২৯৬টি বেসরকারি বাস চলার পারমিট ইস্যু করা হয়েছিল। সেই ৬৪টি রুটের মধ্যে ২৩টি রুট পুরোপুরি এই মুহূর্তে বন্ধ। যাত্রী পরিবহণের কাজ করছে মাত্র ৬৭১টি বাস। অর্থাৎ পারমিট ইস্যু করা বাসের মাত্র ৫১ শতাংশ বর্তমানে চালু আছে। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক বাসই বন্ধ।

তা হলে কি উত্তর শহরতলির বেসরকারি বাস পরিষেবা বন্ধ হওয়ার মুখে?

আশঙ্কা উড়িয়ে না দিয়ে বেসরকারি বাসমালিকদের সংগঠন অল বেঙ্গল বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় জানান, ‘রাজ্য সরকার যে নীতিতে চলছে, সেটা বেসরকারি বাসকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য অনুকূল নয়। একদিকে ভাড়া বাড়ে না, কিন্তু জ্বালানির দাম বেড়েই চলেছে। আবার অন্য দিকে অটো এবং টোটোর মতো যে পরিবহণ ব্যবস্থা বাস থেকে নামার পরে বাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার জন্য তৈরি হয়েছিল, এখন তারাই বাসের প্রতিযোগী হয়ে উঠেছে। তাই ঘরে-বাইরে এত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে এঁটে ওঠা কঠিন।’

জেলার সরকারি তথ্য বলছে, অটো রিকশা, ই-রিকশা এবং টোটোর মতো স্থানীয় স্তরের পরিবহণের সংখ্যা গত কয়েক বছরে বেড়ে গিয়েছে বহু গুণ। এর পাশাপাশি জেলার বহু বাসের বয়সই ১৫ পার করেছে। তাদের বদলি হিসেবে অন্য বাস কিনে ব্যবসা চালু রাখার সাহস দেখাতে পারছেন না বাস মালিকরা। বেশ কিছু রুটে বাস চালিয়েও লক্ষ্মীলাভ করে উঠতে পারছেন না মালিকরা। তাই গাঁটের কড়ি খরচ করার বদলে বাস বিক্রি করে দেওয়াই শ্রেয় বলে মনে করেছেন তাঁরা। একইসঙ্গে এত রকমের সমস্যা অনেকটা চক্রব্যুহে আটকা পড়ে যাওয়া অভিমন্যুর মতোই চেপে ধরেছে উত্তর ২৪ পরগনার বেসরকারি বাসের ব্যবসাকে।

About Post Author