সময় কলকাতা ডেস্ক:- জলপাইগুড়ি জেলার একটি অঞ্চল ধূপগুড়ি। যা সারা বছরই বিতর্কের শিরোনামে থাকে। তার কারণ এই অঞ্চলের অনিয়ন্ত্রিত অপরাধমূলক কার্যকলাপ। এই অঞ্চলের পরিচিত নদীগুলির নাম গিলান্ডি, জলঢাকা, নানাই ডুডুয়া। আর এই নদীগুলির সুদীর্ঘ পথ জুড়ে একাধিক জায়গায় চলে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের কাজ। সরকারকে কর ফাঁকি দিয়ে বালি মাফিয়ারা প্রশাসনের একাংশের সঙ্গে যোগসাজশে দিনের পর দিন নদী খাদ থেকে বালি উত্তোলন করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের হলে, কিছুদিন চলে চোর পুলিশ খেলা, তারপর আবার সেই। অর্থাৎ সেটিংটা তখন আরও বেশি টাকায় হয়। মাঝে মাঝে প্রশাসনিক তৎপরতা এমন পর্যায়ে পৌঁছয় সাধারণ মানুষের মনে ধারণা জন্মায়, যে এবার বুঝি বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে। কিন্তু সবই অন্তঃসারশূন্য। নিট ফল জিরো।
কিন্তু প্রফিটের ফল মাফিয়াদের আর একশ্রেণীর প্রশাসনের পকেটে। শুধু বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য নয়, পাশাপাশি চলছে জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যও। কিছুদিন আগেই জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছিল। সময় কলকাতার পর্দায় সেই খবর সম্প্রচারিত হতেই কিছুটা নড়েচড়ে বসেছিল প্রশাসন। আর এবার সরাসরি সরকারি নয়নজুলি ভরাট করছে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা। যদিও প্রচার মাধ্যম ও প্রশাসনের একাংশের ভয়ে প্রকাশ্য দিবালোক ছেড়ে রাতের অন্ধকারে চলছে এই নয়নজুলি ভরাটের কাজ। ধুপগুড়ি গায়ের কাটা জাতীয় সড়ক সংলগ্ন হরি মন্দির এলাকায় রাতের অন্ধকারে চলছিল সরকারি নয়নজুলি ভরাটের কাজ। ওই গভীর রাতেই সময় কলকাতার প্রতিনিধি পৌঁছে যায় ঘটনাস্থলে।
সংবাদমাধ্যম পৌঁছানোর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। তাদের সরাসরি অভিযোগ শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।
ভীত সন্ত্রস্ত এলাকার মানুষজন এই অন্যায় কাজ দেখেও মুখে কুলুপ এঁটেছেন। যদিও অধিকাংশ এলাকাতেই এ ঘটনাই ঘটে, কারণ কেউ আর যেচে অতি বিপ্লবী হতে চায় না। ফলে সাধারণ মানুষের নিরবতাকেই এই সমস্ত অপরাধীরা নিজেদের শক্তি বলে ভেবে নেয়। এর ফলেই বিভিন্ন অঞ্চলে গজিয়ে উঠছে এই সমস্ত ভুঁইফোড় দুর্নীতিবাজ অপরাধীরা।
সময় কলকাতার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কি বলেছেন ওই সরকারি নয়নজুলি ভরাট করছিলেন যিনি? তার বক্তব্য তিনি শুধুমাত্র যাতায়াতের রাস্তা তৈরি করার জন্য নয়নজুলি ভরাট করছিলেন। পরে অবশ্য ভুল স্বীকার করে নিলেন তিনি।
এটাও একটা পদ্ধতি প্রথমে রাস্তা তৈরি করার জন্য নয়নজুলি ভরাট ,আর পরে সেই নয়নজুলির উপরেই তৈরি হবে কনস্ট্রাকশন। এই পদ্ধতিতে জাতীয় সড়কের আশেপাশের বহু জায়গায় বিভিন্ন জমি দখলদারি হয়ে গিয়েছে। আর অধিকাংশ জায়গায় প্রশাসন সব দেখেও কিছুই দেখতে পায় না। যদিও এই ক্ষেত্রে ঘটেছে উলটপুরাণ। সংবাদমাধ্যম পৌঁছানোর খবর পেয়ে এবং প্রাথমিক ভাবে খবরটি সম্প্রচারিত হওয়ার পরেই প্রশাসন রাতেই গ্রেফতার করেছে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী বিপ্লব ঘোষকে।
অবৈধভাবে ভরাটের কাজ কোনওভাবেই সরকার বরদাস্ত করবে না একথা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিলেন জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং ধুপগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিং।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার জানিয়েছেন যে, জলা-জমি বা পুকুর অবৈধভাবে ভরাট করা যাবে না, এমন ঘটনা ঘটলে প্রশাসন তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ প্রশাসনের কিছু নিচু তলার কর্মী এবং নেতারা কতটা মানেন সে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। কারণ শাসকদলের নেতাদের প্রচ্ছন্ন মদত ছাড়া এই জলা জমি ভরাট বা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন কোনওভাবেই সম্ভব নয়।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?