সময় কলকাতা ডেস্ক:- সংশোধিত ওয়াকফ আইনের জেরে গত মাসে মুর্শিদাবাদে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। ঘটনায় একাধিক জনের মৃত্যুও হয়েছিল। জখম হয়েছিলেন অনেকে। বহু ঘরবাড়ি পোড়ানো এবং লুঠপাটের ঘটনা ঘটেছিল। এরপর পরিস্থিতি খানিকটা শান্ত হতেই সোমবার মুর্শিদাবাদ সফরে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে গিয়ে মঙ্গলবার সে জেলায় হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে তুলে দেন ঘরের প্রতীকী চাবি। মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওয়াকফ নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। ওয়াকফ নিয়ে বলার থাকলে দিল্লিতে যান। বাংলায় তিনি আছেন, সেই হুঁশিয়ারি দেন মমতা। তিনি জানান, তাঁর সরকার কোনও ধর্মেরই সম্পত্তি অধিগ্রহণের পক্ষে নয়।
সমস্ত বিরোধিতা, বিতর্ক উড়িয়ে সংসদে পাশ হয়ে গিয়েছে ওয়াকফ সংশোধনী আইন। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর সেই আইন কার্যকর হওয়ার রাস্তা প্রশস্ত করেছে। এনিয়ে বিরোধীদের বিস্তর অভিযোগ, প্রতিবাদ রয়েছে। সংশোধনী আইন নিয়ে প্রতিবাদে দেশজুড়ে অশান্তি হয়েছে। তার খানিক আঁচ পড়েছে এ রাজ্যেও। মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার দুই-একটি জায়গা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। যদিও পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। এই অবস্থায় মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়ে মঙ্গলবার সুতির প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, তিনি যতদিন আছেন, না হিন্দু, না মুসলমান, না বৌদ্ধ, না খ্রিস্টান – কারও গায়ে আঁচ লাগতে দেবেন না।
ওয়াকফ ইস্যুতে অশান্তির নেপথ্যে মুখ্যমন্ত্রী আগেও দায়ী করেছেন বহিরাগত শক্তিকে। মঙ্গলবারও তিনি অভিযোগ তুললেন, অন্যের উসকানি, প্ররোচনায় মুর্শিদাবাদে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এবিষয়ে জনতাকে সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা এও জানান, রাজ্য সরকার কোনও ধর্মেরই সম্পত্তি অধিগ্রহণের পক্ষে নয়।
সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদ থেকে মুর্শিদাবাদে অশান্তি-হিংসার সূত্রপাত হয়েছিল। সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে কী ভাবে অশান্তি হল? কেন পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে গেল? কারা এর নেপথ্যে? সোমবারই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি সমস্তটাই যাচাই করে দেখছেন।


More Stories
বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত ঋতব্রতকে
বালাসাহেব-উদ্ধব ও একনাথই কি যথাক্রমে মমতা – অভিষেক ও ঋতব্রত?
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর